প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন বোমা হামলায় নিহত ২৪, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গভীর শোক প্রকাশ
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী শাটল ট্রেনে ভয়াবহ বোমা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৪ মে) এক শোকবার্তায় তিনি এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এই কঠিন সময়ে তিনি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করেছেন।পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বা পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে রক্তক্ষয়ী বিপর্যয় ঘটে। রোববার স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে কোয়েটা সেনানিবাস (ক্যান্টনমেন্ট) স্টেশন থেকে 'জাফর এক্সপ্রেস'-এর একটি শাটল ট্রেন রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ও কাপুরুষোচিত বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু ছাড়াও বেশ কয়েকজন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় সিভিল হাসপাতাল ও সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শোক ও নিন্দাএই বর্বরোচিত হামলার খবর পাওয়ার পর পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক সরকারি শোকবার্তা পাঠান। তিনি তাঁর সরকার এবং বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি হামলায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বিবৃতিতে যেকোনো রূপ বা উপায়ে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরীহ মানুষের ওপর এমন হামলা বৈশ্বিক মানবতার পরিপন্থী। এই সংকটকালীন ও দুঃখজনক মুহূর্তে বাংলাদেশ সবসময় পাকিস্তানের পাশে থাকবে বলে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন।এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (CTD) পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি ও ঘটনার অন্তরালে থাকা অপরাধীদের ধরতে অনুসন্ধানী তদন্ত শুরু করেছে।পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশটি ভৌগোলিকভাবে কৌশলগত এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় কোয়েটাসহ প্রদেশের একাধিক স্থানে ট্রেন ও রেললাইন লক্ষ্য করে নাশকতাপূর্ণ হামলা চালানো হয়েছে।বেসামরিক মানুষের ওপর এমন সহিংসতা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সংকটকেই স্পষ্ট করে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ