প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
রাশিয়ার সাথে সামরিক চুক্তি কেবল প্রতিরক্ষার জন্য, কাউকে লক্ষ্য করে নয়: আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাথে একটি নতুন সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাবুল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মওলাভি মোহাম্মদ ইয়াকুব মস্কো সফর শেষে শনিবার কাবুল বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো তৃতীয় দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়।গত ২৭ মে মস্কোয় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামের সাইডলাইনে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মওলাভি মোহাম্মদ ইয়াকুব এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৫ সালে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আফগান প্রশাসনকে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক-প্রযুক্তিগত চুক্তি।প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তি নিয়ে উত্থাপিত যাবতীয় উদ্বেগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আফগানিস্তানের সামরিক ভাণ্ডারে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ রুশ বংশোদ্ভূত সামরিক সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধবিমান রয়েছে, যেগুলোর জরুরি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন। এই চুক্তি মূলত সেই কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে এমন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যেতে প্রস্তুত।চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলা হলেও, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে চলমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর একটি মন্তব্য বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডুরান্ড লাইন বরাবর দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘর্ষ এবং উভয় দেশের একে অপরের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইয়াকুব বলেন:"কয়েক মাস আগেও পাকিস্তান বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালাতে পেরেছিল। আমরা কাজ করছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দুঃসাহস দেখানোর আত্মবিশ্বাস না পায়।"ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই সামরিক চুক্তি যে ডুরান্ড লাইনের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা স্পষ্ট।যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের সামরিক-প্রযুক্তিগত চুক্তির আওতায় সাধারণত অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সাপোর্ট, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় অন্তর্ভুক্ত থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, আফগান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) আধুনিকায়ন এবং সোভিয়েত আমলের সামরিক যানগুলোকে সচল করার ক্ষেত্রে রাশিয়া বড় ভূমিকা পালন করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ