প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
হরিয়ানায় মসজিদে ঢুকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান, গ্রেপ্তার যুবকের ক্ষমা প্রার্থনা
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ জেলার সানোলি গ্রামের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে উস্কানিমূলক ধর্মীয় স্লোগান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টার অভিযোগে দীপক নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মসজিদের ভেতর ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত যুবক তার ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে।ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথ জেলার সানোলি গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর এক অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানকার ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দীপক নামের এক যুবককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জানা যায়, অভিযুক্ত দীপক প্রথমে জামে মসজিদের বাইরে একটি ভিডিও রেকর্ড করে। সেখানে সে অত্যন্ত বৈরী ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে দাবি করে, “আজ আমরা এখানে এই মসজিদটি দখল করতে এসেছি।” এরপর সে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করে। তার এই কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টতই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উত্তেজনা উস্কে দেওয়া।দীপকের এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত দীপককে তাদের হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইন্টারনেটে দীপকের আরেকটি ভিডিও সামনে আসে। যেখানে তাকে দৃশ্যত খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে দীপক অনুশোচনা প্রকাশ করে বলে, “আমি এই এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার এই কাজের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।” একই সাথে সে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর কখনো এমন উস্কানিমূলক ভিডিও পোস্ট না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।এই ঘটনার পর সংবেদনশীল এই এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ