প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
সরকারি ও বেসরকারি চাকরি থেকে মুসলমানদের বয়কটের ডাক বিজেপি সংখ্যালঘু নেত্রীর
ভারতে এবার সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমস্ত চাকরি থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের জন্য সম্পূর্ণ বহিষ্কার ও বয়কট করার উগ্র আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রী নাজিয়া এলাহী খান (নাজিয়া সনাতনী)। পাকিস্তানি অনুপ্রবেশ এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে একাধিক মনগড়া ‘জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যা এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বিতর্কিত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া এই নেত্রীর বক্তব্য ইতিমধ্যেই ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবার খোদ ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংখ্যালঘু শাখার এক নেত্রীকে ব্যবহার করার নতুন অপকৌশল সামনে এসেছে। বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাজিয়া এলাহী খান (যিনি নিজেকে নাজিয়া সনাতনী বলে পরিচয় দেন) মুসলিম সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ডাক দিয়েছেন।সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজিয়া দাবি করেন, ভারত কেবল পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের সাথেই লড়ছে না, বরং দেশের ভেতরে থাকা "পাকিস্তানপন্থীদের" বিরুদ্ধেও লড়ছে। নিজের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের মুসলমানরা নাকি হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার জন্য 'থুক জিহাদ', 'মুত জিহাদ', 'লাভ কনভার্সন জিহাদ', 'ল্যান্ড জিহাদ' এবং 'ফ্রেন্ডশিপ জিহাদ'-এর মতো একাধিক গোপন প্রচারণা চালাচ্ছে।পবিত্র কুরআন অবমাননা ও সৌদি যুবরাজকে চ্যালেঞ্জবক্তব্য চলাকালীন নাজিয়া এলাহী খান ইসলাম ধর্ম এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত নিয়ে চরম উসকানিমূলক ও বিকৃত দাবি করেন। তিনি সূরা বাকারা এবং সূরা তাওবার কয়েকটি আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "যারা আল্লাহ ও রাসুলকে মানবে না, তাদের হত্যা করার কথা বলা হয়েছে।" একই সাথে তিনি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "সাহস থাকলে অস্বীকার করুন যে কুরআনে দাওয়াত-এ-ইসলামের নামে এই নির্দেশনা দেওয়া নেই।"অর্থনৈতিক বয়কটের ডাকদেশের তথাকথিত আইএসআই এজেন্ট গ্রেপ্তারের ঘটনাকে পুঁজি করে নাজিয়া দেশের ১২০ কোটি হিন্দুকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের জন্য মুসলমানদের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরি থেকে দূরে রাখতে হবে। তার যুক্তি, যে সমস্ত মুসলমান ধর্মীয় কারণে "ভারত মাতা কি জয়" বা "বন্দে মাতরম" বলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, "যেহেতু তারা ইসলামকে সবার আগে রাখে, তাই তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করাটা যৌক্তিক।"মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগউল্লেখ্য, নাজিয়া এলাহী খানের এটিই প্রথম উসকানিমূলক বক্তব্য নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লির রোহিনীতে এক জনসভায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে মানবাধিকার সংস্থা 'সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস' (CJP) তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুম্বাই বিমানবন্দরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মুসলিম কর্মীদের বিরুদ্ধে 'মিনি জিহাদ'-এর কাল্পনিক অভিযোগ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে লেন্সকার্ট শোরুমে গিয়ে কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি উগ্রতার পরিচয় দিয়েছিলেন।মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নেটিজেনরা বলছেন, একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হয়ে এভাবে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করার ডাক দেওয়া এবং ধর্মীয় গ্রন্থের অপব্যাখ্যা করা সরাসরি 'হেট স্পিচ' বা বর্ণবাদী অপরাধ, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পাঁয়তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ