প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
তুরস্কে হিজাব পরিহিত নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তি, গৃহবন্দিত্বের রায়ে ক্ষোভ
তুরস্কের পর্যটন নগরী আন্তালিয়ার কাশ জেলায় হিজাব পরার কারণে বাজারে দুই তরুণীকে প্রকাশ্য মৌখিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এস.এ. নামক এক উগ্রপন্থী ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটায়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও স্থানীয় আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে কেবল ‘গৃহবন্দি’ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জামিন সদৃশ মুক্তি দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মুসলিমরা।তুরস্কে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক ও হিজাবকে লক্ষ্য করে ইসলামভীতি ও উগ্রবাদী মানসিকতার এক উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আন্তালিয়ার কাশ জেলায় ছুটি কাটাতে আসা জয়নাপ উমুরবেক (Zeynep Umurbek) নামের এক তরুণী ও তার বান্ধবী একটি সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করার সময় এই জঘন্য বৈষম্যের শিকার হন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অভিযুক্ত এস.এ. নামের ওই ব্যক্তি হিজাবি তরুণীদের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত উপহাসমূলক ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে। সে বলতে থাকে, "তোমাদের কি গরম লাগে না?", "তোমরা কি এভাবেই সমুদ্রে নামো?", "তোমরা কোন চরমপন্থী তরিকার লোক?"। প্রকাশ্যে এমন আপত্তিকর মন্তব্যের পর বাজারে থাকা অন্যান্য সচেতন নাগরিকরা এগিয়ে আসেন এবং উগ্রবাদী ওই ব্যক্তিকে বাধা দেন।আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের বিতর্কিত রায়ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক জনরোষের মুখে কাশ জেলা পুলিশ বিভাগ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এস.এ.-কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাকে "জনগণের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ উস্কে দেওয়া এবং অবমাননা" ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে ‘সুলহ সেজা হাকিমলিগি’ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘গৃহবন্দি’ এবং দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ছেড়ে দেয়। আদালতের এই নমনীয় সিদ্ধান্ত মুসলিম সমাজ এবং মানবাধিকার রক্ষা কমিটিগুলোকে চরম হতাশ করেছে।ভুক্তভোগী তরুণীর জবানবন্দিআদালতের রায়ের পর ভুক্তভোগী তরুণী জয়নাপ উমুরবেক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ঐ ব্যক্তি অত্যন্ত নোংরা ও অবমাননাকর ভাষায় আমাদের আক্রমণ করেছিল। আমরা এই ঘটনাটি ইন্টারনেটে শেয়ার করেছি কারণ ইদানীং এই ধরনের ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা ২০২৬ সালে বাস করছি, অথচ আজকেও আমাদের হিজাব আর পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে কথা শুনতে হচ্ছে— এটা ভাবতেই অবাক লাগে।"ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির চিত্রতুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। এর কিছুদিন আগেই মেরসিন (Mersin) এলাকায় হিজাবি বা শালীন সাঁতারের পোশাক পরার কারণে এক মুসলিম নারীকে সুইমিং পুলে নামতে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া ইস্তাম্বুলেও এক উগ্রপন্থী নারীকে প্রকাশ্যে বলতে শোনা গেছে, "হিজাবিদের ধ্বংস করে দেওয়া উচিত।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারী ও তাদের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের ওপর এই ধরনের পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক হামলা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ