প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
ইস্তাম্বুলে ১০ দিনব্যাপী হাদিস মজলিস: ‘সুনানে আবু দাউদ’ পাঠ শেষে বিশ্ববরেণ্য ওলামাদের ইজাজত প্রদান
তুরস্কের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে দীর্ঘ ১০ দিনব্যাপী চলমান ‘আন্তর্জাতিক সুনানে আবু দাউদ সামা মজলিস’ ঐতিহাসিক ইজাজত (সনদ) প্রদানের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইসমাইলআগা জামে মসজিদ ইলমি ও খিদমত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তৃতীয় আন্তর্জাতিক হাদিস মজলিসে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের শীর্ষস্থানীয় মুসনিদ (উচ্চ সনধারী) হাদিস বিশারদ, শিক্ষাবিদ এবং হাজারো ইলমপিপাসু আলেম ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস বিজ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই বিশাল ইলমি আসরের আয়োজন করা হয়।ইসলামি সংস্কৃতির ঐতিহাসিক কেন্দ্রভূমি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে টানা ১০ দিন ধরে স্পন্দিত হচ্ছিল হাদিস শাস্ত্রের হৃদস্পন্দন। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ড থেকে আগত প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে জমকালো সমাপনী ও ইজাজত (সনদ) বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো আন্তর্জাতিক সুনানে আবু দাউদ সামা মজলিস। ইলমি হালাকা ও সনদ প্রদান পদ্ধতির এই অনন্য সমাহার বিশ্বমঞ্চে মুসলিম উম্মাহর একতার এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে।ইসমাইলআগা জামে মসজিদ ইলমি ও খিদমত ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এটি ছিল তৃতীয় আন্তর্জাতিক হাদিস মজলিস। ইসমাইলআগা জামাআতের বর্তমান শীর্ষ মুরুব্বি ও আধ্যাত্মিক রাহবার হযরত আল্লামা আহমেদ ফিকরি এফেন্দির প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও সভাপতিত্বে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ফাতিহ এলাকার ‘সুলতান ইয়াভুজ সেলিম মসজিদ’-এ এই মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে চলা অত্যন্ত নিবিড় ও দীর্ঘমেয়াদি পাঠ সেশনগুলোর পর আজ এক বিশেষ সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি টানা হয়।ইসলামি বিশ্বের শীর্ষ ওলামাদের মহামিলনএই ঐতিহাসিক হাদিস মজলিসে অংশ নিতে সিরিয়া, হেজাজ, মিসরসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উচ্চ সনদপ্রাপ্ত (মুসনিদ) ওলামায়ে কেরাম ইস্তাম্বুলে সমবেত হন। সমাপনী ও ইজাজত অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন— সিরিয়ার আওকাফ মন্ত্রী শেখ আবু আল-খায়ের শুকরি, সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ উসামা আল-রিফায়ি, দামেস্কের মুফতি শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আল-বিজমি, আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশু, সিরিয়ার উচ্চতর ধর্মীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, মাআহাদুল ফাতহ আল-ইসলামির মহাপরিচালক ড. আয়মান শাবানি এবং জামিউল ইমান ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক শায়খ মুহাম্মদ নাইম আল-ইরকসুসি।এছাড়াও তুরস্কের স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি থিওলজি অনুষদের একাডেমিশিয়ান এবং বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় কর্মকর্তা ও ইমাম-খতিব এই ঐতিহাসিক মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন ১০ দিন ধরে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, মেহমান এবং শিশুদের জন্য বিশেষ আতিথেয়তার ব্যবস্থা করা হয়।নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইজাজত বিতরণহাদিস শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ইমাম আবু দাউদ আল-সিজিস্তানি (র.) সংকলিত বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘সুনানে আবু দাউদ’ এই মজলিসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ পাঠ (তিলাওয়াত) করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআনুল কারিমের চমৎকার তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর আমন্ত্রিত বিশ্ববরেণ্য ওলামা ও শায়খগণ উম্মাহর ঐক্য, হাদিস চর্চার গুরুত্ব এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুন্নাহর অনুসরণের ওপর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে আগত আন্তর্জাতিক মুসনিদ ওলামাদের সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। এরপর, দীর্ঘ ১০ দিনের এই কঠিন ইলমি সফর সফলভাবে সম্পন্নকারী দেশী-বিদেশী অসংখ্য নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর হাতে সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) সনদের ‘ইজাজত’ তুলে দেওয়া হয়। মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাহাদিস শাস্ত্রের প্রচার-প্রসার, প্রাচীন রিওয়ায়াত (বর্ণনা) ধারাকে বাঁচিয়ে রাখা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম ও গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ মজবুত করার লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। উপস্থিত ইসলামি চিন্তাবিদগণ মন্তব্য করেন, এই আয়োজন প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বিশুদ্ধভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।ইসমাইলআগা ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম জানান, হাদিসের খিদমতে নিবেদিত এই ধরনের আন্তর্জাতিক ইলমি কার্যক্রম আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলতেই থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, শিক্ষক, পাঠক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ