প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ: মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া
বিশ্বখ্যাত ইসলামি স্কলার, করাচির দারুল উলুমের প্রধান এবং বেফাকুল মাদারিস আল-আরবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন শরিয়াহ আইন অনুযায়ী অবৈধ (নাজায়েজ) ঘোষণা করে ফতোয়া দিয়েছেন। গতকাল ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ফতোয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিনি জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সির কোনো বাস্তব আর্থিক ভিত্তি বা আইনি স্বীকৃতি নেই।ইসলামি অর্থব্যবস্থা ও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম শীর্ষ অভিভাবক, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনকে শরিয়াহ পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তানের শীর্ষ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিস আল-আরবিয়া এবং ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম করাচির এই সভাপতি তার নতুন ফতোয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর বিভ্রান্তি দূর করেছেন।ফতোয়ায় মুফতি তাকি উসমানি উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত গভীর শরিয়াহ গবেষণা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ইসলামি শরিয়াহর পরিভাষায় কোনোভাবেই 'মাল' বা প্রকৃত সম্পদ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এটি মূলত ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত কিছু সংখ্যার এন্ট্রি বা গাণিতিক হিসাব মাত্র, যার পেছনে কোনো বাস্তব মূলধনী ভিত্তি নেই।তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বাজারে প্রচলিত তথাকথিত 'স্টেবলকয়েন' (যেমন— ইউএসডিটি বা USDT) কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন হোক না কেন, এগুলোর মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনাবেচা করা, কোনো আর্থিক চুক্তি করা বা কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ। ইসলামি অর্থনীতিতে মুদ্রার যে মৌলিক শর্ত ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফতোয়াটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে এর সত্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া জিজ্ঞাসার অবসান ঘটিয়েছেন মুফতি তাকি উসমানির সাহেবজাদা হাসান উসমানি। তিনি গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ইন্টারনেটে প্রচারিত ফতোয়াটি সম্পূর্ণ সত্য এবং এটি সরাসরি তার পিতা মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির পক্ষ থেকেই জারি করা হয়েছে। মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং শরিয়াহর বিধান রক্ষার্থেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দারুল উলুম করাচি সূত্রে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ