প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
উত্তরপ্রদেশে আবারও পিটিয়ে হত্যা: বাইকের ধাক্কা লাগায় মুসলিম তরুণ জায়েদকে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে সামান্য বাইকের স্ক্র্যাচ লাগাকে কেন্দ্র করে জায়েদ (২৫) নামে এক মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৯ জুন (সোমবার) বিকেলে মুস্তাফাবাদ থেকে বেহতা রোডের একটি সুইমিং পুলে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। প্রপার্টি ডিলারের কারের সাথে জায়েদের দ্বিচক্রযানের সামান্য ঘষা লাগায় তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মেরে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয় এবং পরে অফিসে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।ভারতের উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর উগ্রপন্থী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহিংসতা থামছেই না। এবার গাজিয়াবাদে সামান্য গাড়ি ওভারটেক বা ঘষা লাগার অজুহাতে জায়েদ নামের এক মুসলিম তরুণকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ রাহুল মাভি ওরফে পালোয়ান (২৫) নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও তার সহযোগী অনুজ কাসানা এখনও পলাতক রয়েছে।নিহত জায়েদের ভাইয়ের দায়ের করা এজাহার থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জায়েদ ও তার বন্ধুরা মুস্তাফাবাদ থেকে বেহতা রোডের একটি সুইমিং পুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বালোনো (Baleno) কারের সাথে তাদের বাইকের সামান্য ঘষা লাগে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কার থেকে এক ব্যক্তি নেমে জায়েদকে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে।নির্যাতনের একপর্যায়ে জায়েদকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে উগ্রপন্থীরা তাদের গাড়িতে তুলে নেয় এবং ৪০০ মিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রপার্টি ডিলিং অফিসে নিয়ে যায়। জায়েদের সাথে থাকা অন্য দুই বন্ধুকে হুমকি দিয়ে বলা হয় যেন তারা গাড়ির পিছু পিছু অফিসে আসে।জায়েদের বন্ধুরা সেখানে পৌঁছালে দেখতে পান, জায়েদ মাটিতে নিথর ও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে এবং অভিযুক্তরা তখনও তাকে বুট জুতো দিয়ে অনবরত লাথি মারছে। প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুরা জানান, জায়েদের মুখে পানি ছিটানো হলেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। উল্টো ঘাতকরা হুমকি দিয়ে বলে, "এখান থেকে লাশ নিয়ে কেটে পড়, নাহলে তোদেরও একই দশা হবে।"পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় জায়েদকে দিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।গ্রামীণ গাজিয়াবাদের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (DCP) সুরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি গণমাধ্যমকে জানান, নিহত তরুণের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে লোনি বর্ডার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১০৩(১) (খুন) এবং ৩(৫) (যৌথ উদ্দেশ্য) অনুযায়ী একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো বাইরের আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও গলায় একটি গভীর দাগ বা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের ধরতে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুসলিম ও মানবাধিকার কর্মীরা ভারতে ক্রমাগত মুসলিমদের টার্গেট করে এই ধরনের 'মব লিঞ্চিং' বা পিটিয়ে হত্যার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ