প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
যোগী রাজ্যে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: মুসলিম যুবকের ঘরে ঢুকে হেনস্তা, মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক মুসলিম যুবকের ঘরে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে এক হিন্দুত্ববাদী নেতা চরম হেনস্তা ও ইসলামবিদ্বেষী গালিগালাজ করেছে। ভুক্তভোগী যুবক শহীদ আনসারী ও তার স্ত্রী কুসুম গত দুই মাস ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক ও পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করেছেন। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) কংগ্রেস এমপি সৈয়দ নাসির হোসেন এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান, যেখানে দেখা যায় হিন্দুত্ববাদী ওই চরমপন্থী নেতা আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে যুবকটিকে ধর্মীয়ভাবে চরম লাঞ্ছিত করছে।ভারতের উত্তরপ্রদেশে বিজেপি শাসিত যোগী আদিত্যনাথের সরকারের আমলে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী দল ও তাদের নেতাদের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার আরেকটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা সামনে এসেছে। রাজ্যের গাজিয়াবাদ এলাকার বিজয়নগরে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক আন্তঃধর্মীয় দম্পতিকে তাদের নিজস্ব বাসস্থানে গিয়ে চরমভাবে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার ভারতের কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) সৈয়দ নাসির হোসেন তার এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী নেতা (যার পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ) জোরপূর্বক শহীদ আনসারী ও তার স্ত্রী কুসুমের ঘরে ঢুকে পড়ে। ভেতরে ঢুকেই ওই নেতা শহীদকে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ইসলামবিদ্বেষী গালিগালাজ করতে শুরু করে। এরপর সে কুসুমকে তার মুখ ঢাকতে বাধ্য করে এবং অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় জেরা করতে থাকে।ভিডিওতে ওই হিন্দুত্ববাদী নেতাকে বলতে শোনা যায়, "জানিস ও একটা 'মুল্লা', তাও ওকে বিয়ে করেছিস? তোর লজ্জা করে না? তোর বাবা-মা কি এসব জানে?" সে ক্রমাগত কুসুমকে মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। কুসুম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তারা দুই মাস আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং শান্তিতে বসবাস করছেন। কিন্তু ওই চরমপন্থী নেতা শহীদের আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে নিজের অনুসারী ও ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করে এবং শহীদকে "মুল্লা" ও "কাটমুল্লা"র মতো চরম অবমাননাকর ও ইসলামবিদ্বেষী শব্দে ভূষিত করে। সে দাবি করতে থাকে যে, তারা কোনো চুক্তি বা নিয়ম ছাড়া অবৈধভাবে থাকছে, যদিও দম্পতিটি বারবার এর প্রতিবাদ জানান।ভয়ার্ত কণ্ঠে শহীদ আনসারী বলেন, "আমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং চাকরি করি। আমরা পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করে দুই মাস আগে এখানে এসেছি। কুসুমের পরিবারও এই বিয়ে মেনে নিয়েছে।" কিন্তু শহীদের কথাকে পাত্তাই না দিয়ে ওই হিন্দুত্ববাদী নেতা চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুই একজন মুল্লা হয়ে হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করবি?"এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস এমপি সৈয়দ নাসির হোসেন বলেন, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের আমলে হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীরা এতটাই আস্কারা পেয়েছে যে তারা এখন নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে এবং ঘরে ঢুকে পুলিশি তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক কাকে বিয়ে করবেন বা কার সাথে থাকবেন, সেটি তার মৌলিক অধিকার। এই স্বঘোষিত রক্ষকদের কে অধিকার দিয়েছে মানুষের ঘরে ঢুকে তাদের বৈবাহিক জীবন ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার?"এদিকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গাজিয়াবাদের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজ করণ নায়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কোনো নাগরিকের অন্য কারও ঘরে ঢুকে এভাবে বৈবাহিক জীবন বা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আইনি অধিকার নেই। তিনি দ্রুতই ভিডিও ফুটেজটি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম অধিকার রক্ষক কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধী হিন্দুত্ববাদী নেতার অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ