প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন সাময়িক স্থগিত
দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এবং বৈরী আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে রংপুরের গোপালপুরে অনুষ্ঠিতব্য আগামী ১৪ জুলাইয়ের ‘খতমে নবুওয়ত সম্মেলন’ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ বাংলাদেশ। আজ রবিবার (১২ জুলাই) পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তবে সম্মেলন স্থগিত হলেও রংপুরের বদরগঞ্জে কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক স্থানীয় মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং মসজিদে প্রশাসনিক বাধার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে রংপুরের গোপালপুরে অনুষ্ঠিতব্য ‘খতমে নবুওয়ত সম্মেলন’ সাময়িক স্থগিত করেছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ বাংলাদেশ। আজ রোববার (১২ জুলাই) পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মুমিনুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাধারণ মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, জোরপূর্বক বিভ্রান্তিকর কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণে চাপ প্রয়োগ এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় একটি মসজিদে মুসলমানদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনি দাওয়াতি কর্মসূচিতে পুলিশ প্রশাসন অন্যায়ভাবে বাধা প্রদান করেছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।স্থানীয় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং কাদিয়ানীদের আগ্রাসনের প্রতিবাদে আগামী ১৪ জুলাই রংপুরের গোপালপুরে এই বিশাল ‘খতমে নবুওয়ত সম্মেলন’ আয়োজনের ডাক দিয়েছিল সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া এবং দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক ও কৌশলগত কারণে সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিষদের আহ্বায়ক আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর) এবং সদস্য সচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানীর জরুরি পরামর্শক্রমে ও পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অনুকূলে আসলে পরবর্তীতে সম্মেলনের নতুন তারিখ ও সূচি ঘোষণা করা হবে।এদিকে, সম্মেলন স্থগিত হলেও সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করেছেন। তারা উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা পরিষ্কার ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো মুসলিম পরিবারকে যেন নতুন করে হয়রানি না করা হয় এবং আল্লাহর ঘর মসজিদে দাওয়াতি ও দ্বীনি কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করেন। ওলামায়ে কেরাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মুসলমানদের ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার হরণের যেকোনো চেষ্টা তাওহীদি জনতা বরদাশত করবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ