প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ভারতে মুসলিম যুবককে জোরপূর্বক বাছুরের পায়ে মাথা নোয়াতে বাধ্য করল হিন্দুত্ববাদীরা
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঙ্কি জেলায় এক মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে মারধর এবং জোরপূর্বক একটি বাছুরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ধর্মাচরণের আদলে মাথা নোয়াতে বাধ্য করেছে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী গো-রক্ষকরা। বাছুরটির প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার মিথ্যা অভিযোগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি উগ্র দল ওই যুবককে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন করে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।ভারতের উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক নিপীড়নের আরেকটি বর্বর চিত্র সামনে এসেছে। বারাবাঙ্কি জেলায় এক মুসলিম যুবককে নির্মম নির্যাতনের পর জোরপূর্বক পশুর সামনে সেজদা বা ধর্মাচরণের মতো করে মাথা নোয়াতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে।উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'সনাতন গো-রক্ষা দল'-এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিও থেকে জানা যায়, ৪ঠা জুলাই শনিবার বারাবাঙ্কিতে এই ঘটনা ঘটে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, ওই মুসলিম যুবক তাদের পবিত্র পশুর বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেছিলেন। এই অজুহাতে উগ্রপন্থী দলটি আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং প্রকাশ্যে ওই যুবককে ঘিরে ধরে। ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি উগ্র দল অসহায় যুবকটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখে ক্রমাগত মারধর করছে, আর যুবকটি বারবার তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা ও ক্ষমা চাইছেন।নির্যাতনকারীরা ওই যুবককে তার বাবাকে ডাকার জন্য চাপ দেয় এবং অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে উগ্রবাদীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি খামারের শেডের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক একটি বাছুরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসানো হয়, বাছুরের পা স্পর্শ করতে বাধ্য করা হয় এবং কট্টরপন্থীদের শেখানো কায়দায় পশুর পায়ে মাথা নত করে প্রনাম করতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক "জয় শ্রী রাম" স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়।এই চরম অবমাননাকর ও অপমানজনক ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীটি নিজেরাই ছড়িয়ে দেয়। অথচ, উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের অফিশিয়াল আইডি থেকে ব্যবহারকারীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু স্থানীয় গণমাধ্যম যখন বারাবাঙ্কির পুলিশ সুপারের জনসংযোগ কর্মকর্তার (PRO) সাথে যোগাযোগ করে, তখন তিনি দাবি করেন যে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন:"জোরপূর্বক ধর্মাচরণ করানো বা পশুর সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য করার এই দৃশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গভীর কষ্টদায়ক। এগুলো কোনো বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ও দেশের সংবিধানকে লঙ্ঘনকারী মারাত্মক অপরাধ। যখন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো মনে করে যে তারা পার পেয়ে যাবে এবং এভাবে প্রকাশ্য নাগরিকদের লাঞ্ছিত করবে, তখন তা বিজেপি সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই ফুটিয়ে তোলে।"তিনি উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে আইনের শাসনের অভাব এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই দিন দিন সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর এমন জঘন্য ও মর্যাদাহানিকর হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ