প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
শাপলা চত্বর, মোদীবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ মিছিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ঐতিহাসিক জামিয়া ইউনুসিয়ার যৌথ উদ্যোগে শাপলা চত্বরের গণহত্যা, নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত হত্যা এবং জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলার সর্বস্তরের আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে নগরী উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা সাবেক সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদিরসহ সব গণহত্যাকারীর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।শাপলা চত্বরের বর্বরোচিত গণহত্যা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরবিরোধী আন্দোলনে নিহতের ঘটনা এবং বিগত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালীন 'জুলাই গণহত্যা'র বিচার দাবয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গর্জে উঠেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সাথে স্থানীয় তাণ্ডব ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ এনে সাবেক সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদিরের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা এবং জামিয়া ইউনুসিয়ার যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আলেম-উলামা, জামিয়া ইউনুসিয়া সহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হাজার হাজার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মিছিল নিয়ে শহরের জামিয়া ইউনুসিয়া প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলকারীদের কণ্ঠে ছিল ন্যায়বিচার ও শহীদের রক্তের বদলা নেওয়ার সোচ্চার স্লোগান।মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম ও জামিয়া ইউনুসিয়ার শীর্ষ মুরুব্বি ও উলামায়ে কেরাম। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন:আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান (হাফি.) আল্লামা মোবারক উল্লাহ (হাফি.) মুফতি আলী আজম (হাফি.) মুফতি বোরহান উদ্দিন কাসেমী (হাফি.) মুফতি মারুফ কাসেমী (হাফি.) মুফতি তানভীর (হাফি.) মুফতি উবাইদুল্লাহ মাদানী (হাফি.) সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, "শাপলা চত্বরে নিস্পাপ আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর যে নির্মম গণহত্যা চালানো হয়েছিল, উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা নরেন্দ্র মোদীর আগমন প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমাদের যে ভাইদের শহীদ করা হয়েছে, এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর যে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে—তার একটিরও বিচার এ দেশের মাটিতে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।"তারা আরও বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলেম-উলামা ও দ্বীনদার মানুষের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন ও তাণ্ডব চালিয়েছেন, তার সঠিক তদন্ত হতে হবে। অনতিবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর দাবি জানান তারা।বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রোদ-বৃষ্টি বা ষড়যন্ত্র কোনো কিছুই তৌহিদী জনতাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। অতীতে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ চেপে বসবে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে দেশের উলামায়ে কেরাম ও জনগণ একতাবদ্ধ থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ