প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ক্যানভাসে গুম হওয়া বাবার যন্ত্রণা: চিত্রে আসাদ শাসনের বর্বরতা ফুটিয়ে তুলছেন সিরীয় তরুণ
সিরিয়ার দীর্ঘ স্বৈরাচারী আসাদ সরকারের আমলে গুম হওয়া ও বন্দিশালায় নির্যাতিত হাজার হাজার মানুষের দুর্দশা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছেন তরুণ সিরীয় চিত্রশিল্পী আব্দুল হামিদ আল-হাজুরি। 'ফাইনেস্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড আর্টস' অনুষদ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা ২২ বছর বয়সী এই তরুণ শিল্পী তাঁর "বন্দীর গ্রহ" নামক বিশেষ শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী এই অপরাধের বিরুদ্ধে নিজস্ব কায়দায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।১৩ বছর আগে আসাদ বাহিনীর হাতে জোরপূর্বক গুম হন হাজুরির বাবা। আজ পর্যন্ত বাবার কোনো সন্ধান বা আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার কারণ জানতে পারেনি পরিবারটি। স্বজন হারানোর এই দীর্ঘ ও করুণ অপেক্ষার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে হাজুরি বেছে নিয়েছেন চিত্রশিল্পকে।আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আনাতোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাজুরি বলেন, "বাই চান্স বা ঘটনাক্রমে আমি একজন শিল্পী হয়েছি। তবে এই শিল্পই আমাকে ভেতরের চাপা যন্ত্রণা এবং অন্যায়ভাবে নির্যাতিত, গুম ও বন্দী মানুষের করুণ অবস্থা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। আমার বাবার গুম হওয়ার ঘটনাটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।"দেওয়াল ও ধ্বংসের মাধ্যমে বন্দীদের জীবনের গল্পহাজুরি জানান, কারাগারে বন্দীর জীবনের সবচেয়ে বড় সাক্ষী থাকে সেখানকার নির্জীব দেওয়ালগুলো। তাই তিনি তাঁর শিল্পকর্মে প্রথাগত রঙের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করছেন সিমেন্ট, জিপসাম, প্লাস্টার ও আঠা। দেওয়াল তৈরি ও তা ভেঙে ফেলার মাধ্যমে বন্দীদের মানসিক ও শারীরিক ভেঙে পড়ার মুহূর্তগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, "কারাগারে থাকা মানুষের অবস্থা নথিভুক্ত করার জন্য দেওয়ালকে সবচেয়ে উপযুক্ত উপাদান মনে হয়েছে। আমি প্রথমে ক্যানভাসে সিমেন্ট ও প্লাস্টারের স্তর তৈরি করি এবং পরে তা আবার ভেঙে ফেলি—যা বন্দীদের জীবনের তৈরি হওয়া ও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তুলে ধরে।"সংবাদপত্র ও কোলাজ প্রযুক্তির অনন্য সংমিশ্রণহাজুরি কেবল দেওয়ালের অনুভূতিই সৃষ্টি করছেন না, বরং তাঁর গবেষণার সময় সংগৃহীত বিভিন্ন পুরনো সংবাদপত্র ও সংবাদের অংশ ক্যানভাসে যুক্ত করছেন (কোলাজ টেকনিক)। এর মাধ্যমে তিনি চান, সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা যেন আসাদ সরকারের নৃশংসতায় গুম হওয়া এই মানুষগুলোর স্মৃতি চিরতরে ভুলে না যায়।সিরিয়ার দীর্ঘ যুদ্ধে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ ও বিরোধী মতের ওপর তৎকালীন আসাদ সরকারের অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। হাজুরির মতে, এদের অনেকের গল্পই আড়ালে রয়ে গেছে।"এই মানুষগুলোকে আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন," হাজুরি যোগ করেন। "তারা ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যার পূর্ণ বিবরণ কেউ পুরোপুরি জানে না। শিল্পই পারে তাদের এই নীরব চিৎকারকে সবার সামনে দৃশ্যমান করে তুলতে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ