প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
মাওলানা সাঈদীর বিচার ও মৃত্যু দেশের ইতিহাসে ‘ফ্যাসিবাদী জুলুমের’ নির্মম দৃষ্টান্ত: মাওলানা মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ রাজনৈতিক দলের জোটের অন্যতম প্রধান নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিতর্কিত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী ঘটনাবহুল ইতিহাস বাংলাদেশে পরিচালিত ‘ফ্যাসিবাদী জুলুমের’ এক নির্মম ও বেদনাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রদত্ত এক বার্তায় তিনি এসব স্মৃতিচারণ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিখ্যাত ইসলামী দাঈ ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর ওপর সংঘটিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক বার্তায় ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজপথের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চরম শিকার হয়েছিলেন আল্লামা সাঈদী।মামুনুল হক তাঁর বার্তায় ২০১৩ সালের রক্তঝরা স্মৃতি স্মরণ করে লেখেন, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের বিতর্কিত রায় ঘোষণার পর দেশজুড়ে তৌহিদী জনতার ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য নিরীহ ও দ্বীনদার মানুষ প্রাণ হারান এবং বহু পরিবার তাঁদের স্বজনদের হারায়। সেই রক্তভেজা অধ্যায় আজও এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত হিসেবে অম্লান হয়ে আছে।২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাবন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যুর স্মৃতি উল্লেখ করে মামুনুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, ইন্তেকালের পরও এই মহান আলেমের প্রতি জুলুমের ধারাবাহিকতা থামেনি। স্বৈরাচারী সরকার তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছিল। ঢাকায় তাঁর জানাজার মতো মৌলিক ধর্মীয় আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং জীবনের শেষ অসিয়ত অনুযায়ী পছন্দের স্থানে দাফনের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পিরোজপুরের সাঈদখালীতে তাঁকে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়, যা ইসলামী মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম ও মহাগ্রন্থ কুরআনের দাঈ হিসেবে সাঈদীর ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন খেলাফত মজলিসের প্রধান। তিনি বলেন, আল্লামা সাঈদীর সুললিত কণ্ঠের কুরআন তাফসির ও বয়ান শুনে উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষ হেদায়েতের আলো ও দ্বীনের অনুসারী হয়েছেন। রাজনৈতিক নির্যাতন চালিয়ে মানুষের হৃদয় থেকে তাঁর অবদান ও ভালোবাসাকে কোনোদিন মুছে ফেলা সম্ভব নয়।বার্তার শেষভাগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলুম ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনো স্থায়ী হতে পারে না এবং ক্ষমতার অহংকার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। ইতিহাস অবশ্যই একদিন সকল জুলুম ও নিরপরাধ মানুষের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের সঠিক হিসাব নেবে। একই সাথে তিনি সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ