প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও জ্বালানি পরিবহনের জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে জোরদার করার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষপ গ্রহণ করেছে ইরান। দেশটি পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় এক কৌশলগত আইনের প্রাথমিক নীতি অনুমোদন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের মুখে তেহরান যখন জলপথটির ওপর পূর্ণ প্রাধান্য বজায় রেখেছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও কঠোর নৌ-অবরোধের নজিরবিহীন হুমকি জারি করেছে।ইসরায়েলকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান চূড়ান্ত সামরিক ও কৌশলগত সংকটের মুখে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করতে একটি ঐতিহাসিক আইনি কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে ইরানি পার্লামেন্ট।ইরানি পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও কাউন্সিল কমিটির মুখপাত্র ওয়ালিউল্লাহ বায়াতী তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এবং অগ্রগতি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার সাধারণ রূপরেখা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। এই খসড়া আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান কর্তৃক ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত অন্যান্য দেশের সামরিক ও বেসামরিক জলযান এবং যন্ত্রপাতির হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হবে। বায়াতী স্পষ্ট ভাষায় জানান, "এসব শত্রু রাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং ইরানি জনগণের ওপর চরম অন্যায় চাপিয়ে দিয়েছে।"আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বাস্তবেও জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌশাখা। আইআরজিসি নেভির রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমাই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন, "হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। এই প্রণালীতে প্রতিটি নৌযানের যাতায়াতের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ শতভাগ ও চূড়ান্ত। মার্কিন কর্মকর্তাদের অসার বিবৃতি ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কান না দিয়ে ময়দানের বাস্তব সত্য দেখা উচিত।" মেরিন ট্র্যাকিং সংস্থা ‘কিপলার’-এর তথ্যেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে এবং কেবল ইরানের অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোই যাতায়াত করতে পারছে।এদিকে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে আবারও অর্থনৈতিক শাস্তির হুমকি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আগামী সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে যা বিশ্ব ইতিহাসে কোনো দেশের বিরুদ্ধে দেখা যায়নি। বেসেন্ট বলেন, "বিশ্ব ইতিপূর্বে কখনো দেখেনি এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর অব্যাহত কঠোর অবরোধের এক যৌথ বাস্তবায়ন দেখা যাবে, যা ইরানের বন্দরগুলোতে সব ধরণের আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেবে।"মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব হিসেবে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প জোরদার করছে তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, ইরান খুব শীঘ্রই ব্রিকস (BRICS) সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (NDB) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করতে যাচ্ছে।অপরদিকে, দীর্ঘায়িত যুদ্ধের খেসারত দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ ২৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এর নাবিকদের মধ্যে চরম মানসিক ধস, বিশৃঙ্খলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ক্যালেফোর্নিয়ার প্রতিনিধি মাইক লেভিনসহ একাধিক আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন। সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা চাক শুমার পেন্টাগন প্রধান বা "যুদ্ধমন্ত্রী" পিট হেগসেথকে চরম ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ