প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
ইসরায়েলবিরোধী ও আকীদাগত বেশ কিছু বিষয় পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দিলো সৌদি আরব
সৌদি আরব তাদের ২০২৪–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন স্কুল পাঠ্যপুস্তক থেকে ফিলিস্তিন, জেরুজালেম, ইসরায়েল এবং ঐতিহ্যবাহী একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত বেশ কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধন ও বাদ দিয়েছে। ইসরায়েলি গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'ইমপ্যাক্ট-এসই'-র সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। শিক্ষানীতিতে এই পরিবর্তনের বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ২০২৪ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সৌদি আরবের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়াদ তাদের জাতীয় পাঠ্যবই থেকে রাজনৈতিক, আকীদাগত ও সামাজিক ক্ষেত্র সম্পর্কিত সংবেদনশীল বিভিন্ন পরিভাষা ও বক্তব্য সংশোধন বা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলেছে।ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল বিষয়ক পরিবর্তনপ্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পাঠ্যক্রম থেকে "মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না"—এই ঐতিহাসিক অঙ্গীকারমূলক বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এতদিন ব্যবহৃত "সিয়োনিস্ট শত্রু" (Zionist Enemy) শব্দগুচ্ছটি পরিবর্তন করে "ইসরায়েলি দখলদারিত্ব" (Israeli Occupation) বাক্যাংশটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ইহুদিদের পরকালীন শাস্তি সম্পর্কিত ইঙ্গিতপূর্ণ বিভিন্ন মন্তব্য ও সেমিটিক-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত বক্তব্যসমূহ সংশোধন করা হয়েছে।আকীদাগত ও ধর্মীয় অনুচ্ছেদের পরিবর্তনধর্মীয় নীতির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু নমনীয়তা আনা হয়েছে। অমুসলিম ও অবিশ্বাসেবীদের পরকালীন শাস্তি সংক্রান্ত কঠোর আয়াত ও ব্যাখ্যার ভাষা সহজ করা হয়েছে। বিশেষ করে, "পৌত্তলিক বা মুশরিকরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে"—এই জাতীয় বক্তব্য পাঠ্যবই থেকে বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, পূর্বে আহলে বাইতের (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ) জন্য দোয়া বা তাওয়াসসুল করার চর্চাকে পাঠ্যপুস্তকে যেভাবে "শিরক" হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, নতুন পাঠ্যক্রমে তা আর শিরক হিসেবে দেখানো হয়নি।সামাজিক, পারিবারিক ও জীবনধারা কেন্দ্রিক অনুচ্ছেদসামাজিক ও পারিবারিক জীবনের পাঠেও দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিবর্তন এনেছে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যুদ্ধে মৃত্যুকে উৎসাহিত করে এমন বিষয়বস্তু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালি কাজকর্মে ছেলে ও মেয়েদের সমান অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অন্ধ আনুগত্য নির্দেশক হাদিস সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে সমকামিতাকে "যৌন বিকৃতি" হিসেবে আখ্যায়িত করার যে ভাষা পূর্বে ব্যবহৃত হতো, তা মুছে ফেলা হয়েছে।জিহাদ ও রাষ্ট্রের আনুগত্যপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিহাদ সম্পর্কিত অধ্যায়ে সংশোধন আনা হয়েছে। এতে জিহাদের বিষয়টিকে সরাসরি বাদ না দিয়ে তা বাদশাহ বা রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশ ও আনুগত্যের শর্তের সাথে সরাসরি পুনর্যুক্ত করা হয়েছে।ইসরায়েলি থিঙ্কট্যাঙ্ক -এর প্রকাশিত এই চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা রাজকীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ