প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিম তীরে নিজ বাড়ি দখল ঠেকাতে আমেরিকা থেকে উড়ে এলেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই রিদি
অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে নিজের পৈতৃক বাড়িতে ইসরায়েলি উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ঘেরাও এবং দখলের চেষ্টা ঠেকাইতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসেছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক লুই রিদি। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডোর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী এই প্রবাসী সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে লাইভ দেখতে পান যে, বসতি স্থাপনকারীরা তার বাড়িসহ আশেপাশের তিনটি ঘর ঘিরে রেখেছে এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সোমবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নেমে সামরিক পাহারায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে ছাদ থেকে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।আন্তর্জাতিক আহ্বান ও মার্কিন প্রশাসনের তীব্র নিন্দাকে উপেক্ষা করে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গ্রাসের অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা। এর শিকার হওয়া কুসরা গ্রামের পৈতৃক নিবাস বাঁচাতে ৬ হাজার মাইল দূর থেকে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ব্যবসায়ী লুই রিদি।যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে পেট্রোল পাম্প ও কার ওয়াশের ব্যবসা পরিচালনা করেন লুই রিদি। গত কয়েক দিন ধরে ক্রমাগত সিকিউরিটি ক্যামেরার লাইভ ফিডে তিনি দেখতে পান, ইসরায়েলি সশস্ত্র চরমপন্থীরা তার সদ্য নির্মিত বাড়িটি ঘিরে রেখেছে এবং তাদের প্রবেশ পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বাড়িতে আটকা পড়ে আছেন তার ভাই কুসাই এবং ১৮ বছর বয়সী ভাইপো। চরমপন্থীরা তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে। ক্রমাগত আতঙ্কের মুখে সাত রাত ঘুমহীন কাটানোর পর রিদি ডেট্রয়েট থেকে তেল আবিবের বিমান ধরেন।ইসরায়েলে পৌঁছে সাংবাদিকদের রিদি বলেন, "নিজের বাড়িটা চোখের সামনে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হাতে এভাবে দখল হতে দিতে পারি না। সেজন্যই ছুটে এসেছি।" পরবর্তীতে সাংবাদিক ও ইসরায়েলি সামরিক যানের পাহারায় তিনি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নিজের বাড়িতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তিন বছর আগে নিজের দাদার জমিতে তিনি এই বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন, যাতে তার মেয়েরা তাদের ফিলিস্তিনি শিকড়কে ভুলতে না পারে। বাড়িতে ঢুকেই তিনি ছাদে গিয়ে একটি আমেরিকান পতাকা উত্তোলন করে স্বকীয়তা ও মালিকানার সুদৃঢ় বার্তা দেন।জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, কুসরা গ্রামে লুই রিদির বাড়িসহ অন্তত তিনটি বাড়িতে প্রায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক দীর্ঘ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের কারণে পানীয় জল ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। ১৯৯০-এর দশকের চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকাটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) বিচারবিভাগের অধীনে থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে তা দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের ছত্রছায়ায় উগ্রপন্থীরা অধিকৃত অঞ্চলে নতুন বসতি স্থাপনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।নিজের দেশে ফিরে ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে রিদি জানান, তিনি কোন রাজনৈতিক যুদ্ধে নামেননি, তিনি কেবল তার পূর্বপুরুষদের ভূমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনি প্রবাসীদের ভিটেমাটি হারানোর চরম বাস্তবতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি জলন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ