প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
ধৈর্য ধরুন পাকিস্তান-বাংলাদেশ-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব
এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত মন্তব্যে ভারতের আলোচিত যোগগুরু স্বামী রামদেব দাবি করেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবারও ভারতের ভূখণ্ডের সাথে একীভূত হবে এবং এর জন্য ভারতীয়দের কেবল ধৈর্য ধরতে হবে। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। একই সাথে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোতে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করে অখণ্ড ভারতের পুরনো দাবি পুনরুজ্জীবিত করেন।ভারতের বিতর্কিত যোগগুরু ও ব্যবসায়ী রামদেব রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে এক চরম উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, “একদিন এমন সময় আসবে যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের অংশ হবে। এজন্য ভারতীয়দের শুধু একটু ধৈর্য ধরতে হবে।”রামদেব তার বক্তব্যে প্রতিবেশীদের অভ্যন্তরীণ বিষয় টেনে এনে বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুরা যে নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েছে, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম বড় নিষ্ঠুরতা। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে যেন কাউকে কোনো ধরনের ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।ভারতের সার্বিক ভবিষ্যৎ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই বিতর্কিত যোগগুরু জানান, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও তা সংবিধান এবং নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত। তার মতে, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান—কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে ভারতের সমান সম্মান অর্জনের ওপর জোর দেন।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীন ও সার্বভৌম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ভারতের সাথে যুক্ত করার এই উগ্র মানসিকতা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সম্প্রসারণ নীতির এক স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রামদেবের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এমন অন্যায্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ