প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
ভারতের ভূপালে কাশ্মিরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের হয়রানি, বাসা খালি করার হুমকির অভিযোগ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভূপালে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বৃত্তি প্রকল্পের (PMSSS) অধীনে ফার্মেসি বিভাগে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নরত দুই কাশ্মিরি মুসলিম শিক্ষার্থী চরম সাম্প্রদায়িক হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভাড়া বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকির মুখে পড়েছেন। কাশ্মিরি ও মুসলিম পরিচয়ের কারণে স্থানীয় কতিপয় গোঁড়া ব্যক্তি ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বাসা মালিককে চাপ দিচ্ছে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এই শিক্ষার্থীদের রক্ষায় মধ্যপ্রদেশ সরকার ও পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে ছাত্রনেতা নাসির খুহামি।ভারতে মুসলিম ও কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রদায়িক বৈষম্য ও উগ্র মানসিকতার নিপীড়ন থামছেই না। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভূপালে ‘ট্রুবা ইনস্টিটিউট অফ ফার্মেসি’ (TRUBA Institute of Pharmacy)-তে অধ্যয়নরত দুই কাশ্মিরি মুসলিম শিক্ষার্থী তাঁদের ধর্মীয় ও অঞ্চলভিত্তিক পরিচয়ের কারণে উগ্রপন্থীদের হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন।মেধাবী এই দুই ছাত্র ভারত সরকারের 'প্রাইম মিনিস্টারস স্পেশাল স্কলারশিপ স্কিম' (PMSSS)-এর অধীনে বৃত্তি পেয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষের তাঁদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বর্তমানে কোনো হোস্টেল সুবিধা খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁরা গত এক বছর ধরে ভূপালের কোরাান্দ গান্ধী নগরের 'শান্তি হোম কোলনি'তে পেয়িং-গেস্ট (PG) হিসেবে ভাড়া থাকছিলেন।সম্প্রতি স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও সোসাইটির কিছু লোক বাসা মালিকের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে যাতে এই কাশ্মিরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁদের বের করে না দিলে উগ্রপন্থীরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেবে।এই অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকির পর থেকে তরুণ দুই শিক্ষার্থী চরম ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরের বাইরে বের হওয়া, কলেজে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন যাতায়াত তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনো উপায় না পেয়ে তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে তাঁদের শিক্ষা এবং জীবন উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।জাতীয় কাশ্মিরি ছাত্র সংস্থার সভাপতি নাসির খুহামি এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং পুলিশ প্রধান কৈলাশ মাকওয়ানার দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।নাসির খুহামি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোনো শিক্ষার্থীকেই তাঁদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। কেবল ধর্মীয় পরিচয় বা অঞ্চলের কারণে কাউকেই ভয়ভীতি বা উচ্ছেদের মুখে ফেলা সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন।" তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের অন্যান্য নাগরিকদের মতোই কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদেরও দেশের যেকোনো প্রান্তে স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে পড়ার ও থাকার অধিকার রয়েছে। ভারতের উগ্রপন্থীদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, কিছু লোক কেবল কাশ্মিরের ভূখণ্ড চায়, কিন্তু কাশ্মিরের মানুষকে ভালোবাসতে বা তাঁদের অধিকার দিতে চায় না।"
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ