প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
উত্তরপ্রদেশে দিবালোকে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে জখম করেছে হিন্দুত্ববাদী একদল যুবক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় এক মুসলিম যুবককে দিবালোকে মাঝরাস্তায় লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। আলী নামে আক্রান্ত ওই যুবক সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একদল হিন্দু যুবকের হামলার শিকার হন। হামলার এই নির্মম দৃশ্যটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় ঘটেছে এক ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালোকে আলী নামের এক মুসলিম যুবককে পথ আটকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে একদল যুবক। পরবর্তীতে এই নৃশংস হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।প্রাপ্ত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সূত্রে জানা যায়, গোন্ডা জেলার পরশপুর থানা এলাকার গৌরীগঞ্জের ছত্রপাল পুরবা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে। আলী যখন সাইকেল চালিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন অখিলেশ, বিকাশ গৌতম এবং রোহিত পাসওয়ান নামে চিহ্নিত তিন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। তারা কোনো কথা শোনার আগেই লাঠি নিয়ে আলীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে।ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জনবহুল রাস্তার ওপরই আলীকে পিটিয়ে জখম করা হচ্ছে এবং সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরও দুজন উপস্থিত ছিল। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য জাহির করতেই এই হামলার দৃশ্য ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তা ইচ্ছাকৃতভাবে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই এই হামলাকে 'সরাসরি সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এটা চরম সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন নির্মমভাবে একজন মানুষকে মারধর করার অধিকার এদের কে দিয়েছে?"আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এই হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তারা ভিডিও করাকেও জরুরি মনে করেছে। এখন প্রশ্ন হলো—এই ভিডিওটি কি আইনের চোখে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে, নাকি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু হয়েই থাকবে?"উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার দিকে ইঙ্গিত করে অপর এক নেটিজেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগকে ট্যাগ করে লিখেছেন, "এই ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই একের পর এক এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। গোন্ডা পুলিশ তাদের অফিসিয়াল আইডি থেকে এক পোস্টে জানিয়েছে যে, ঘটনার বিষয়ে পরশপুর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় একটি মামলা (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ