প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
পৈতৃক জমি দখল মামলায় সাজা বহাল: সাবেক খতিব রুহুল আমিনের আপিল খারিজ
পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব ও গওহারডাঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনের কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন আদালত। ১৯ আগস্ট ২০২৬ গোপালগঞ্জের পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান আসামির আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখেন। একইসঙ্গে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানা এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব এবং গওহারডাঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রেখেছেন পারিবারিক আপিল আদালত। ১৯ আগস্ট ২০২৬ গোপালগঞ্জ জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান শুনানি শেষে আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি মুফতি রুহুল আমিনের ভাবি এবং ‘বড় পীর’ নামে পরিচিত মরহুম হাফেজ মাওলানা ওমরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা আমলী আদালতে একটি নালিশী আবেদন (মামলা নং: টুঙ্গিপাড়া সি.আর- ০৭/২০২৪) দাখিল করেন। আবেদনে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার দমন আইনের ৪ (১) (ক) ধারায় অভিযোগ এনে উল্লেখ করা হয় যে, টুঙ্গিপাড়া থানার ২৩ নং শ্রীরামকান্দি মৌজায় ২৮৬২ নং খতিয়ানের বিআরএস ৪৯৭৯ নং দাগে বাদীর স্বামীর ১৭ শতাংশ এবং আসামির ১৭ শতাংশ জমি রয়েছে। কিন্তু আসামি রুহুল আমিন পুরো ৩৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক নিজ দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে বাধা দিতে গেলে বাদী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।উক্ত মামলায় গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে রুহুল আমিন পারিবারিক আপিল আদালতে সাজা মওকুফের আবেদন জানান। অন্যদিকে, অপরাধের মাত্রার তুলনায় সাজা কম হয়েছে দাবি করে তা বৃদ্ধির আবেদন জানান মামলার বাদীও। উভয়পক্ষের আপিল শুনানি শেষে বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন এবং নিম্ন আদালতের দেয়া ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখে রুহুল আমিনকে অবিলম্বে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।রায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বাদীর ছোট জামাতা মুফতি ইসমাইল জানান, রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ছদর সাহেব হুজুরের বড় ছেলে মরহুম হাফেজ মাওলানা ওমর আহমদ সাহেবের পরিবারের ওপর জুলুম চালিয়ে আসছেন। এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে। সাজা আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল উল্লেখ করে তিনি আদালতের রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করেন।অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিনের ভাগ্নে মোর্তাজা হাসান স্বীকার করেন যে, ঐ জমিতে তাদের পারিবারিক অংশ থাকা সত্ত্বেও রুহুল আমিন এককভাবে তা দখল করে রেখেছেন। মুকসুদপুর থানার মাওলানা জাহিদ আল মাহমুদ বলেন, রুহুল আমিন তার আত্মীয়-স্বজনের হক বিনষ্ট করছেন এমন খবর দীর্ঘদিনের। আদালতের রায়ে আজ তা প্রমাণিত হলো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুহুল আমিন ও তার ছেলে ওসামা আমিন গওহারডাঙ্গা মাদ্রাসা এবং শিক্ষা বোর্ডে নানা অনিয়ম ও খেয়ানত করে আসছেন।উল্লেখ্য, পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়ে আলেম সমাজের কাছে ব্যাপক বিতর্কিত হন মুফতি রুহুল আমিন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে নড়াইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনের চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা তাকে বায়তুল মোকাররমের খতিব পদে নিয়োগ দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররমে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ