প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চার হাফেজ বিজয়ী, কৃতিত্বের ভিড়ে মাদরাসাগুলোর 'টানাটানি' বন্ধের আহ্বান
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন, তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা’য় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের চারজন প্রতিযোগী। এর মধ্যে বিশ্বমঞ্চে চতুর্থ বিভাগে (১৫ পারা হিফজ, উত্তম পরিবেশনা ও তাজবিদ) বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া। তবে এই বৈশ্বিক অর্জনের আনন্দের আবহেই দেশে ক্বারী ও হাফেজদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে মাদরাসাগুলোর মধ্যে অশুভ প্রতিযোগিতা ও "টানাটানি"র অভিযোগ উঠেছে। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত অর্জনকে পুঁজি করে মাদরাসাগুলোর মধ্যে স্বার্থান্বেষী প্রতিযোগিতা হিফজ শিক্ষার মৌলিক আদর্শকে ক্ষুণ্ন করছে।মক্কার মসজিদুল হারাম-এ আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোট ৫০ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বিভাগে বাংলাদেশের চারজন প্রতিযোগী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষত চতুর্থ গ্রুপে অসাধারণ তাজবিদ ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জাকারিয়া।তবে এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর দেশে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাদরাসাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক। জানা গেছে, হাফেজ জাকারিয়া টানা পাঁচ বছর রাজধানী ঢাকার ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী’তে অধ্যয়ন করেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের নামেই ২০২২ সালে ‘পবিত্র কুরআনের আলো’ প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান ও ২০২৩ সালে ‘কুরআনের নূর’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে কিতাব বিভাগে পড়াশোনাকালে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।এই প্রাতিষ্ঠানিক টানাটানি ও প্রচার সর্বস্ব মানসিকতার সমালোচনা করে সময় টেলিভিশনের ইসলাম বিভাগের প্রধান ও সহযোগী যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মুফতি আবদুল্লাহ তামিম এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক মঞ্চে কোরআনের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের হলেও বিজয়ীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর "অসুস্থ প্রতিযোগিতা" বন্ধ হওয়া জরুরি। কোরআনকেন্দ্রিক সমাজ গঠনের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে কেবল ক্রেডিট নেওয়ার এই প্রবণতা বিশ্বজয়ের ধারাক থমকে দিতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞ আলেম সমাজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ