প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
গাজায় মৃত্যুর পরও মিলছে না শেষ ঠাঁই: স্থান সংকটে পুরোনো কবর ও গণকবরে দাফন
ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম হামলায় প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। তবে গাজায় এখন কেবল জীবিতদের বেঁচে থাকার সংগ্রামই নয়, মৃত্যুর পর শেষ আশ্রয়টুকু পাওয়ার সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে স্থান সংকটে বাধ্য হয়ে পুরোনো কবরে কিংবা গণকবরে স্বজনদের দাফন করছেন গাজাবাসী।গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নিহতদের দাফন প্রক্রিয়া মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গাজা সিটির জেইতুন এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহির সম্প্রতি ইয়েলো লাইনের কাছে গুলিতে নিহত হন। তার ২০ বছর বয়সী ছেলে ওমর আল-সাওহির বাবার মরদেহ দাফন করতে গিয়ে দেখেন, জেইতুন কবরস্থানে নতুন কোনো স্থান অবশিষ্ট নেই। অধিকাংশ কবরে নিয়ম অনুযায়ী সমাধি তৈরির সুযোগ না থাকায় শুধু একটি পাথর বা নাম লেখা কাগজ দিয়ে স্বজনরা প্রিয়জনের শেষ ঠিকানা চিহ্নিত করে রেখেছেন।দাবিকৃত দাফন খরচের কারণেও বিপাকে পড়ছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে গাজায় একটি সাধারণ কবর তৈরিতে প্রায় ৫০০ শেকেল (১৬৭ ডলার) খরচ হয়। অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়া আল-সাওহির পরিবার সেই অর্থ জোগাড় করতে না পেরে বাধ্য হয়ে আগে মারা যাওয়া দাদার কবরেই মোহাম্মাদের মরদেহ দাফন করেন।উপকরণ সংকট ও প্রবেশাধিকার না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গাজার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। এর বাইরে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর কবরস্থানে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলক ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বর্তমানে একটি কবর তৈরিতে ৭০০ থেকে ১,০০০ শেকেল পর্যন্ত খরচ হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। অনেকে বাধ্য হয়ে ধ্বংসস্তূপের ইট-পাথর, কাদা বা ঢেউটিন দিয়ে সাময়িকভাবে কবর চিহ্নিত করছেন।অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে পার্ক, স্কুল, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ, এমনকি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে হাজার হাজার মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করতে হয়েছিল। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল বিভিন্ন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা সাতটি গণকবর থেকেই ৫২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খান ইউনিস কবরস্থানের দীর্ঘ ১৯ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গোরখোদক ৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল, বর্তমানে তা ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের চরম সময়ে তাকে একাই দিনে ৩৫টি পর্যন্ত কবর খুঁড়তে হয়েছে, যার একটি বড় অংশই ছিল নারী ও শিশুদের মরদেহ।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধের আগেই গাজার ৬০টি কবরস্থানের বেশিরভাগই কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। এখন নতুন জায়গার অভাব এবং অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো স্থায়ী কবরস্থানে স্থানান্তর করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ