প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এক বছরেই ২০ হাজারের বেশি সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য মারাত্মক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শুক্রবার পেন্টাগন কর্তৃক প্রকাশিত বাৎসরিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও দুই বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও মানবাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার দিক থেকে এটি এক বিশাল মার্কিন ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। পেন্টাগনের এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বাহিনীটির ভেতরের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।মার্কিন কংগ্রেসের কঠোর নির্দেশনার আলোকে প্রতিবছর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে যৌন অপরাধের ওপর বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে পেন্টাগন। ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী ও পুরুষ উভয় সদস্যের ওপর সংঘটিত অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, ভয়াবহ যৌন হয়রানি এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠেছে। পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য হলো কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো অভিযোগ নয়, বরং ভয়ে বা চাপে যেসব ঘটনা গোপনে ধামাচাপা পড়ে থাকে, সেসব অনাবিষ্কৃত ঘটনারও এক আনুমানিক ও বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান বের করা।প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্রিয় সামরিক দায়িত্বে থাকা নারীদের মধ্যে যৌন হয়রানির হার ২০২৩ সালের ২৪.৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ১৭.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ৫.৮ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৪.৪ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। তবে এই হার হ্রাসের পরেও সামগ্রিক ভুক্তভোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের। অন্যদিকে, নিপীড়নের পর নীরবতা ভেঙে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করার হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতেন, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, ভুক্তভোগীরা এখন সামরিক ব্যবস্থার ওপর কিছুটা আস্থা পাচ্ছেন বলেই অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমেই কেবল ভুক্তভোগী সদস্যদের যথাযথ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। সেই সাথে তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও কঠোর শৃঙ্খলা হলো সামরিক বাহিনীর মৌলিক মূল্যবোধ। বাহিনীর ভেতরে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক ট্রাস্ট নষ্ট করে এবং সামরিক বাহিনীর সার্বিক যুদ্ধপ্রস্তুতিকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।তবে পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ২০,৪৯২ জন ভুক্তভোগীর হিসাবটি কেবল জরিপভিত্তিক পরিসংখ্যান; এটি আদালতে দায়ের হওয়া আনুষ্ঠানিক মামলার মোট সংখ্যা নয়। প্রতিবারের মতো এবারও পেন্টাগন বিভিন্ন শাখাভিত্তিক (যেমন—আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স) পৃথক হিসাব বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত জনমিতিক তথ্য একযোগে প্রকাশ করেনি। যদিও মার্কিন কংগ্রেস সম্প্রতি যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সামরিক কমান্ড কাঠামোর পরিবর্তন এনে স্বাধীন সামরিক প্রসিকিউটরদের হাতে বিচার পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে, তথাপি মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতো পরাশক্তির অন্দরে ২০ হাজারেরও বেশি সদস্যের এমন পাশবিকতার শিকার হওয়া তাদের নৈতিক অবক্ষয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক স্পষ্ট দলিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ