প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ভারতের ‘রাফাল’ টেক্কা দেওয়া চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া চুক্তিপত্র (Draft Agreement) প্রস্তুত করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নীতিগত এ সিদ্ধান্ত ও সামরিক পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানা যায়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ‘ফোর্সেস গোল’ আধুনিকায়ন পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ ও সাড়ে চার (৪.৫) প্রজন্মের মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট, উন্নত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ইউএভি (ড্রোন) সিস্টেমসহ বহুমুখী সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সাপেক্ষে এই মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হবে; অন্যথায় পরবর্তী অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি সম্পন্ন করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনায় চীনা যুদ্ধবিমানের সফলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের ফরাসি প্রযুক্তির বহুল চর্চিত ‘রাফাল’ (Rafale) যুদ্ধবিমানের বিপরীতে চীনের তৈরি জে-১০ ফাইটারের কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় প্রযুক্তির রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের সমকক্ষ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চীনা জে-১০সিই ফাইটারের ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলক অনেক কম। ফলে প্রতিরক্ষা বাজেটের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং আকাশসীমায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—উভয় বিবেচনাতেই ঢাকাকে চীনের দিকে ধাবিত করেছে।পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে বাংলাদেশের এই স্বাধীন ও সার্বভৌম অবস্থানকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপদেষ্টা তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক পরাশক্তির মনস্তাত্ত্বিক চাপ এড়িয়ে বাংলাদেশ এখন নিজস্ব জাতীয় ও কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে স্বাধীন সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। অতীতে ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া দুষ্কর ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ভূ-রাজনৈতিক এই নতুন বাস্তবতায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার আপসহীন ভূমিকা পালন করছে।উল্লেখ্য, একই সংবাদ সম্মেলনে দেশের কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে নতুন দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ