প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
উত্তরাখণ্ডে মুসলিম ভোটার ছাঁটাইয়ের চক্রান্ত: বিজেপির বিরুদ্ধে হাজার হাজার ভুয়া আবেদনের অভিযোগ
ভারতের উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ লন্ড্রি-র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়াকে 'ভোট চুরি' বলে আখ্যায়িত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫টি নির্বাচনী এলাকায় হাজার হাজার মুসলিম ভোটারের নাম কাটার আবেদন জানানো ৫ শীর্ষ ব্যক্তি সরাসরি বিজেপির সাথে যুক্ত।উত্তরাখণ্ডে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) কার্যক্রমকে হাতিয়ার করে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।নিউজ লন্ড্রি-র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তরাখণ্ডের ৭০টি বিধানসভা আসনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচজন ব্যক্তি সবথেকে বেশি সংখ্যক নাম কাটার (ফর্ম-৭) আবেদন জমা দিয়েছেন। এদের আবেদনের সংখ্যা ছিল ২৩০ থেকে ৪,৮৫৫টি পর্যন্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব আসনে তদন্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে চারটিতেই যাদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, তাদের প্রায় শতভাগই মুসলিম।উধম সিং নগর জেলার কিচ্ছা (Kichha) বিধানসভা আসনে মোট ৪,৮৫৭টি নাম কাটার আপত্তি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৪,৮৫৫টি আবেদনই করেছেন রাজেশ তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি, যিনি বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) হিসেবে পরিচিত। এই ৪,৮৫৫ জন ভোটারের সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। একইভাবে গাদারপুর আসনে ১,৩৭০টি আপত্তির মধ্যে ৬৭০টি একাই জমা দিয়েছেন বিজেপি নেতা চাঙ্কিত হোরিয়া এবং তার তালিকায় চিহ্নিত সবাই মুসলিম ভোটার। খতিমা আসনে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অমিত কুমার পান্ডে ৩৯২টি আবেদন করেন। নানকমাত্তা আসনে কিশোর জোশী নামের বিজেপি কর্মী ৩৫৩টি আপত্তি জমা দেন, যেখানেও শতভাগ টার্গেট মুসলিম নাগরিকরা। অন্যদিকে রুদ্রপুর আসনেও বিজেপি কর্মী সুনীল পাসওয়ানের মাধ্যমে একইভাবে ২৩টি বড় তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে, একজন বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) দিনে ১০টির বেশি আবেদন জমা দিতে পারেন না (কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০)। কীভাবে এক একজন বিজেপি কর্মী হাজার হাজার আপত্তি জমা দিলেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, অনিয়ম বা দ্বৈত ভোটাধিকার বাতিলের তথ্যভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আবেদন করা হয়েছে, এতে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। অন্যদিকে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল আবেদন জমা দিলেই কারও নাম কাটা যাবে না। যথাযথ মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই, আইনি নোটিশ প্রদান ও শুনানির সুযোগ দেওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তা সত্ত্বেও মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার এমন অপচেষ্টা ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম অধিকারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ