প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
ভারতে সরকারি জমির অযুহাতে ৪ দিন ধরে মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান, শংকায় শত শত শিক্ষার্থী
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার রতনপুরি থানার অন্তর্গত ফুলাত গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ‘দারুল উলুম রহিমিয়া’ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে গত চার দিন ধরে ধারাবাহিক বুলডোজার অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। প্রায় ১,৩০০ বর্গগজের সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলের অভিযোগে তহসিলদারের নির্দেশে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এই চরমপন্থী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সেখানে অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়।ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রশাসনের অধীনে মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার হামলার শিকার হয়েছে মুজাফফরনগরের দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসা। জেলা প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, মাদ্রাসা ভবনটি আনুমানিক ১,৩০০ বর্গগজ সরকারি খাসজমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগের পর তদন্ত চালিয়ে তহসিলদার আদালত এই গুঁড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।গত চার দিন ধরে লাগাতার বুলডোজার চালিয়ে ঐতিহাসিক এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে নিতান্তই "আইনি কাঠামোর মধ্যে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার" বলে দাবি করলেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে এটি সংখ্যালঘু মুসলিমদের কোণঠাসা করার রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে দেওয়ায় সেখানে পড়াশোনা করা শত শত শিশু ও তরুণের দ্বীনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পুরোপুরি থমকে গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন—নতুন করে তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি।উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘ধর্মান্তর’ (কনভার্সন)-এর ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আসছিল। যদিও বর্তমান জেলা প্রশাসন দাবি করেছে যে এই বুলডোজার অভিযানের সাথে সেই সব অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি কেবলই জমি সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ; তবে স্থানীয়দের মতে, কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত চাপ ও বৈষম্যমূলক নীতির ফলেই এই তড়িঘড়ি ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।উত্তরপ্রদেশে ইদানীং তথাকথিত অবৈধ দখলের অজুহাতে ধারাবাহিক উপাসনালয়, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, মুজাফফরনগরের এই সাম্প্রতিক ঘটনা তারই এক উদ্বেগজনক পুনরাবৃত্তি। শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের চরম উদাসীনতার মাঝে শিক্ষার্থীরা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ