প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন-ইসরায়েলি চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ডাক ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
পবিত্র মিলাদুন্নবী ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের ‘প্রকৃত শত্রু’ চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। রবিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IRIB-এ সম্প্রচারিত এই বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শুধু ইরানের নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর অভিন্ন শত্রু। তারা চক্রান্তের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ধ্বংস করতে চায়। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে অচলাবস্থা তৈরির প্রেক্ষাপটে তিনি বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রপ্রধানদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।ইসলামী বিশ্বের সংহতি নষ্ট করা এবং একটি সমৃদ্ধ ইসলামী সভ্যতা গড়ে তোলার পথ রুদ্ধ করতে পশ্চিমা মোড়লরা ও তাদের আঞ্চলিক দোসররা দীর্ঘমেয়াদি ষাটযন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকাশিত বাণীতে তিনি বিশ্বের সমস্ত মুসলিম শাসককে এই চক্রান্ত নস্যাৎ করার আহ্বান জানান।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-তে প্রচারিত উক্ত বাণীতে খামেনি জোর দিয়ে বলেন, "বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আমার দৃঢ় এবং বারবার সুপারিশ—আপনারা আপনাদের আসল শত্রুকে চিহ্নিত করুন, তাদের সুদূরপ্রসারী নীল নকশা অনুধাবন করুন এবং দৃঢ়ভাবে তা মোকাবেলা করুন।"ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপই হচ্ছে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বজয়ী 'ইসলামী সভ্যতা' পুনর্বাসনের মূল ভিত্তি। এই মহান লক্ষ্যকে নস্যাৎ করতেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও শত্রুতা তৈরি করছে। তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো মুসলিম বিশ্ব এবং এর অস্তিত্বের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন এবং তার জবাবে ইরানের প্রতিরোধে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রশমনে আন্তর্জাতিক তৎপরতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা প্রস্তাবিত হলেও কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো জটিলতার মুখে পড়ে। চুক্তি বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়ার পর তেহরান আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে।খামেনি আরও বলেন, মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ মতভেদ দূরে সরিয়ে শত্রু চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হলে পুরো অঞ্চলকে এর চড়া মাশুল গুনতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাহ্যিক অর্থনৈতিক বা সামরিক চাপ কাটিয়ে উঠে সার্বিক আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও টেকসই সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ