বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র বাহিনী ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি


প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার ৫৪তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর এ তথ্য তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর (পিপিএম)। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ দলীয় সশস্ত্র নেতাকর্মীরা দেশের ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। একই সময়ে ৫০টিরও বেশি জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

আলমগীর বলেন, তাঁর তদন্তে উঠে এসেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলনকারীদের গুম, খুন, জখম, অপহরণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে একমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, জঙ্গি নাটক সাজানো, জোরপূর্বক গুম ও পাতানো নির্বাচনের মতো কৌশল প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্যও ছিল ক্ষমতা ধরে রাখা।

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি ও প্রমাণ হিসেবে জব্দ করা ভিডিওচিত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এর মধ্যে বিবিসি ও আল জাজিরায় প্রচারিত জুলাই আন্দোলনের সহিংসতার ভিডিওও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে।

এই মামলায় এর আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন আন্দোলনে নিহতদের স্বজনরা, গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতা, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। অপরদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। এ মামলার রাজসাক্ষী হয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেছেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে—একটি দীর্ঘ শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, আরেকটি রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব মামলার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অগ্রসরমান।

বিষয় : রাজনীতি বাংলাদেশ_নির্বাচন মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনাল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার ৫৪তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর এ তথ্য তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর (পিপিএম)। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ দলীয় সশস্ত্র নেতাকর্মীরা দেশের ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। একই সময়ে ৫০টিরও বেশি জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

আলমগীর বলেন, তাঁর তদন্তে উঠে এসেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলনকারীদের গুম, খুন, জখম, অপহরণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে একমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, জঙ্গি নাটক সাজানো, জোরপূর্বক গুম ও পাতানো নির্বাচনের মতো কৌশল প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্যও ছিল ক্ষমতা ধরে রাখা।

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি ও প্রমাণ হিসেবে জব্দ করা ভিডিওচিত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এর মধ্যে বিবিসি ও আল জাজিরায় প্রচারিত জুলাই আন্দোলনের সহিংসতার ভিডিওও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে।

এই মামলায় এর আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন আন্দোলনে নিহতদের স্বজনরা, গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতা, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। অপরদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। এ মামলার রাজসাক্ষী হয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেছেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে—একটি দীর্ঘ শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, আরেকটি রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব মামলার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অগ্রসরমান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত