শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক স্থান হবে না। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তী সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস পুনসংযোজন এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বাংলাদেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা এ দেশের মানুষের ওপর চরম অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের রক্ত নিয়েছে, সেই জালেম স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী ফ্যাসিবাদীদের পুনর্গমন বা স্থান এই স্বাধীন ভূখণ্ডে আর কখনো হবে না।শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ওলামায়ে কেরাম।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের সময় এবং তার আগে হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পক্ষে, দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জারি রেখেছিল।"ইসলামী মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে এ দেশের জনগণকে উদ্ধার করতে ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ। কত আলেম ও ছাত্র শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকের নাম এখনও আমরা জানি না, কবরের ঠিকানা জানি না। এত রক্তদানের মধ্য দিয়ে, রক্তের সিঁড়ি বেয়ে এক রক্তাক্ত উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা এই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।"জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ও বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "জাতিসংঘের হিসাব মতে কেবল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে। আর তার আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। আমিও সেই গুমের শিকারদের একজন ছিলাম। মহান রব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন, আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে আছি। এছাড়া প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ সাজানো মামলা ও হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের ফিরে আসতে দেব? তাহলে আজকে যারা পোশাক খাতে বা বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে, তারা মূলত সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।"ইসলামের নামে রাজনৈতিক অপপ্রচারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী আছে যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করে, অথচ তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ইসলামের ধারে-কাছেও কিছু নেই। তাদের দলীয় দলিল থেকে 'আকিমুদ্দিন' (দ্বীন কায়েমের নির্দেশ) বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু দলিলে ভিন্ন রূপ দেখায়।"বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছি এবং কোরআনের বিধানকে সম্মান জানিয়েছি। এ দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, যেখানে বিভেদের কোনো স্থান নেই।"সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যে 'জুলাই সনদ' প্রণীত হয়েছে, তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে ইসলামী মূল্যবোধের সকল বিষয় সংবিধানে ধারণ করা হবে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন, আমরা তা পুনঃস্থাপন করব। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ও মূলনীতিতে 'মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি পুনরায় স্থান পাবে, ইনশাআল্লাহ।"বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, "আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্নমত বা আদর্শগত দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নে পুরো জাতি একমত—যারা দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে, মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এ দেশের জমিনে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।"
৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ

বাংলাদেশ সফরে আসছেন শতবর্ষী বুযুর্গ আলেম হাজী মিয়াজী মুহাম্মদ রামজান মেওয়াতী দা. বা.

বাংলাদেশ সফরে আসছেন শতবর্ষী বুযুর্গ আলেম হাজী মিয়াজী মুহাম্মদ রামজান মেওয়াতী দা. বা.

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

কেয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর একটি দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে: জাতীয় মসজিদের খতিব

কেয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর একটি দল প্রতিষ্ঠিত থাকবে: জাতীয় মসজিদের খতিব

বাংলাদেশ সফরে আসছেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি

বাংলাদেশ সফরে আসছেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি

ইউরোপের ১০ দেশের মুসলিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন বসনিয়ায়, আলোচনায় ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্য

ইউরোপের ১০ দেশের মুসলিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন বসনিয়ায়, আলোচনায় ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্য

আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাসনা মাদরাসার তিন দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মাহফিল

আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাসনা মাদরাসার তিন দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মাহফিল

গুজরাটে গো-হত্যার অভিযোগে ৩ মুসলিম যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে বেদ ও মনুস্মৃতির উল্লেখ

গুজরাটে গো-হত্যার অভিযোগে ৩ মুসলিম যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে বেদ ও মনুস্মৃতির উল্লেখ

আযান দেওয়ার অপরাধে ইমাম গ্রেফতার, মাইক জব্দ: বিজেপি শাসিত রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

আযান দেওয়ার অপরাধে ইমাম গ্রেফতার, মাইক জব্দ: বিজেপি শাসিত রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

দামেস্কের আব্বাসিয়িন স্টেডিয়াম কীভাবে হয়ে উঠেছিল নিরীহ মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার বন্দিশালা

দামেস্কের আব্বাসিয়িন স্টেডিয়াম কীভাবে হয়ে উঠেছিল নিরীহ মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার বন্দিশালা

গজনিতে মাদরাসার ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর দস্তারবন্দি: দেশের উন্নয়নে আলেমদের ভূমিকার প্রশংসা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির

গজনিতে মাদরাসার ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর দস্তারবন্দি: দেশের উন্নয়নে আলেমদের ভূমিকার প্রশংসা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির

স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর কোনো স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ভারতজুড়ে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: সংখ্যালঘু দমনের চিত্র উন্মোচন

ভারতজুড়ে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: সংখ্যালঘু দমনের চিত্র উন্মোচন

প্রকৃত ঈমান ও আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতাই দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার পথ: মসজিদে নববীর খতিব

প্রকৃত ঈমান ও আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতাই দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার পথ: মসজিদে নববীর খতিব

নিয়তের ইখলাস ও সাওয়াবের আশায় দৈনন্দিন জীবনকে ইবাদতে পরিণত করার আহ্বান

নিয়তের ইখলাস ও সাওয়াবের আশায় দৈনন্দিন জীবনকে ইবাদতে পরিণত করার আহ্বান

বিজেপির ধর্ম সনাতন নয়, উগ্র হিন্দুত্ববাদ সংঘাত ও বিদ্বেষ ছড়ায়: দিগ্বিজয় সিং

বিজেপির ধর্ম সনাতন নয়, উগ্র হিন্দুত্ববাদ সংঘাত ও বিদ্বেষ ছড়ায়: দিগ্বিজয় সিং

আজারবাইজানে বেসরকারি স্কুলেও হিজাব নিয়ে বিধিনিষেধের অভিযোগ

আজারবাইজানে বেসরকারি স্কুলেও হিজাব নিয়ে বিধিনিষেধের অভিযোগ

সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: ইসলাম গ্রহণের পর মার্কিন তরুণী

সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: ইসলাম গ্রহণের পর মার্কিন তরুণী

শতাব্দীর পর শতাব্দী কোথায় তৈরি হয়েছে পবিত্র কাবার গিলাফ?

শতাব্দীর পর শতাব্দী কোথায় তৈরি হয়েছে পবিত্র কাবার গিলাফ?

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
লিংক কপি করা হয়েছে!
“
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি
শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি
ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী
“
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমান
তারেক রহমান
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ

দামেস্কের আব্বাসিয়িন স্টেডিয়াম কীভাবে হয়ে উঠেছিল নিরীহ মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার বন্দিশালা

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ঐতিহাসিক আল-আব্বাসিয়্যিন ফুটবল স্টেডিয়ামকে ক্রীড়াঙ্গনের পরিবর্তে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের হত্যার বধ্যভূমি ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী। ‘স্টেডিয়াম অব দ্য ডিক্টেটর’ শীর্ষক এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আসাদ সরকারের গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর ফেলে যাওয়া নথি, রক্তের দাগ এবং ফাঁসির দড়ির সচিত্র প্রমাণ মিলেছে। এই স্টেডিয়াম থেকে পাশ্ববর্তী জওবার এলাকার শত শত নিরীহ বাসিন্দাদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ ও নির্যাতন চালানো হতো।সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘আল-আব্বাসিয়্যিন’ স্টেডিয়ামটি কোনো সাধারণ ক্রীড়া অবকাঠামো ছিল না, বরং যুদ্ধ চলাকালীন স্বৈরাচারী বাশার আল-আসাদ সরকারের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটিকে নিরীহ মুসলিমদের নিপীড়ন ও সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। সম্প্রতি উন্মোচিত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন নথিতে আসাদ সরকারের এই নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, ‘স্টাফ অব দ্য ডিক্টেটর’ (স্বৈরশাসকের স্টেডিয়াম) শিরোনামে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির ভেতরের গোপন কক্ষগুলো থেকে রিপাবলিকান গার্ড, চতুর্থ ডিভিশন, বিমান গোয়েন্দা শাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু নথিপত্রই নয়, স্টেডিয়ামের একাধিক কক্ষে রক্তের দাগ এবং ফাঁসির দড়ি ঝুলতে দেখা গেছে, যা সেখানে বন্দিদের ওপর চালানো মধ্যযুগীয় নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পরই এই স্টেডিয়ামটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আসাদ বাহিনী। স্টেডিয়াম পরিচালক ইয়াদ সুলতান জানান, ২০১১ সালে ভারী ট্যাংক ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে আসাদ বাহিনীর বিভিন্ন দল স্টেডিয়ামটিতে প্রবেশ করে এবং সাধারণ কর্মচারী ও ক্রীড়াবিদদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত করে দেয়। কুস্তিগীর, জুডো, কারাতে ও বক্সিংয়ের জন্য ব্যবহৃত অভ্যন্তরীণ হলগুলোকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করা হয়।সিরিয়ার যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী জামাল আল-শরীফ তাঁর সাক্ষ্যে জানান, আসাদ বাহিনী আব্বাসিয়্যিন স্টেডিয়ামকে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি এবং বিশেষ করে পূর্ব দামেস্কের ঘনবসতিপূর্ণ ‘জওবার’ এলাকায় কামানের গোলা ও মর্টার নিক্ষেপের প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করত। এর ফলে জওবার এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং অসংখ্য নিরীহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন।সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস-এর পরিচালক ফাদল আবদুল গনি জানান, সাধারণ ক্রীড়া অবকাঠামোর এমন সামরিকীকরণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। আসাদ শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা বা স্বৈরাচারের প্রতিবাদ জানানো অসংখ্য ক্রীড়াবিদকেও গ্রেফতার করে এই ধরনের গোপন সেন্টারে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।এক সময় হাজার হাজার দর্শকের কোলাহলে মুখরিত থাকা আব্বাসিয়্যিন স্টেডিয়ামে পাওয়া ফাঁসির দড়ি এবং রক্তের দাগের বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সিরিয়ার ইতিহাস ও মুসলিম সুন্নি জনসংখ্যার ওপর আসাদ সরকারের চালানো এসব যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি।

দামেস্কের আব্বাসিয়িন স্টেডিয়াম কীভাবে হয়ে উঠেছিল নিরীহ মুসলিম নির্যাতন ও হত্যার বন্দিশালা
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

  ৩৫ বছরে
  ৪০ বছরে
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...