ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বারমের জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয় বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসাকে মাত্র এক দিনের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত ১৭ জুন (বুধবার) রাতে এই নোটিশগুলো হস্তগত হয়, যেখানে পরদিনই অর্থাৎ ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) তহসিল অফিসে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদ না করার পক্ষে প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আবহে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন ও একতরফা এই উচ্ছেদ অভিযানের চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজস্থান জুড়ে তীব্র নিন্দা ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।ভারতের রাজস্থান রাজ্যে মুসলিম ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে উগ্র প্রশাসনিক নিপীড়নের এক নতুন নজির তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বারমের জেলার একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসাকে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় দিয়ে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এই তালিকায় রয়েছে বারমেরে সুন্নি জামাত মসজিদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসা।ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় অধিকারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের জারি করা নোটিশটিতে তারিখ দেওয়া ছিল ১১ জুন। কিন্তু রহস্যজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নোটিশটি মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির কাছে পৌঁছানো হয় ১৭ জুন বুধবার রাতে। আর শুনানির দিন ধার্য করা হয় পরদিন অর্থাৎ ১৮ জুন বৃহস্পতিবার। এর ফলে ভুক্তভোগী কমিটিগুলো আইনি সহায়তা নেওয়ার, নিজেদের মালিকানার বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করার কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ন্যূনতম সময়টুকুও পায়নি।এই ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজস্থানের মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস’ (APCR) এটিকে আইনি প্রক্রিয়া এবং মৌলিক ন্যায়বিচারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।এপিসিআর রাজস্থানের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাদাত আলী বলেন:"কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য একটি ন্যায্য এবং পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। মাত্র এক দিনের নোটিশ দেওয়া আইনের শাসন ও ‘ডিউ প্রসেস’ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।"অধিকার গোষ্ঠীটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই নোটিশগুলো ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক নীতি ‘অউদি আলতারাম পার্তাম’ (Audi Alteram Partem)—যার অর্থ ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপর পক্ষের বক্তব্য অবশ্যই শুনতে হবে’—তার সম্পূর্ণ বিরোধী। প্রশাসন এখানে একতরফা বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। এই পদক্ষেপ ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (আইনের চোখে সমতা), ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার), ২৫ এবং ২৬ (ধর্ম পালনের স্বাধীনতা)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী রায়ের নজির টেনে এপিসিআর জানায়, উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে আদালতে যাওয়ার এবং যুক্তি উপস্থাপনের জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। যদি জমির মালিকানা বা নির্মাণ নিয়ে প্রশাসনের কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে; কোনো স্বৈরাচারী নোটিশের মাধ্যমে নয়।সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রশাসন যদি এই নোটিশের অজুহাতে কোনো জোরপূর্বক বা একতরফা উচ্ছেদ অভিযান চালায়, তবে তারা ভুক্তভোগী মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটিগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে নামবে। তারা অবিলম্বে এই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করার এবং বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো ধরনের ভাঙচুর না চালানোর জোর দাবি জানিয়েছে।