বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
গণবিধ্বংসী অস্ত্রের নামে মিথ্যাচার ও দখলদারিত্ব: ২৩ বছর পর শেষ হচ্ছে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি

গণবিধ্বংসী অস্ত্রের নামে মিথ্যাচার ও দখলদারিত্ব: ২৩ বছর পর শেষ হচ্ছে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি

গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ভিত্তিহীন মিথ্যা অজুহাত ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০০৩ সালের মার্চে ইরাকে শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক আগ্রাসন। সদ্দাম হোসেনের শাসনকে উৎখাত করে 'ইরাক স্বাধীনকরণ' ও গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, গত ২৩ বছরে দেশটি প্রত্যক্ষ করেছে কেবল ধ্বংসযজ্ঞ, ১০ লক্ষাধিক বেসামরিক মুসলিমের মৃত্যু, অর্ধ কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং অবর্ণনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘ আড়াই দশকের রক্তক্ষয়ী এই অধ্যায়ের পর আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ মার্কিন সেনাসদস্য দেশ ত্যাগ করতে যাচ্ছে।গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বানোয়াট অজুহাত ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) ইরাকের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফেব্রুয়ারি ১৯৯১-এ ইরাকি বাহিনী কুয়েত ছাড়লেও, মার্কিন ও ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা মে ২০০৩ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই ১৩ বছরের নির্মম অবরোধে ইরাকের অর্থনীতি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) সতর্ক করে জানায় যে, শুধু মার্কিন চাপানো অবরোধ ও খাদ্য-ওষুধ সংকটের কারণে প্রায় ৫ লক্ষ ইরাকি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছিল।২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ইরাক দখলের জন্য ভুয়ো নথিপত্র সাজাতে শুরু করে। ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল দাবি করেন, 'সদ্দাম হোসেনের কাছে নিশ্চিতভাবে জৈব অস্ত্র রয়েছে এবং তিনি আরও উৎপাদনের সক্ষমতা রাখেন।' তবে এর ঠিক ৯ দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩-এ জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শন কমিশনের (UNMOVIC) প্রধান হ্যান্স ব্লিক্স স্পষ্ট প্রতিবেদনে জানান, তাদের অনুসন্ধানে ইরাকে কোনো জৈব বা পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব মেলেনি।জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ১৯ মার্চ ২০০৩-এ মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' নামে সামরিক হামলা চালায়। ১৭ মার্চ বুশ সদ্দাম হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সদ্দাম হোসেন তার জন্মভূমি তিকরিত থেকে গ্রেফতার হন এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিতর্কিত বিচারে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় বিপর্যয়আগ্রাসনের পরপরই মার্কিন প্রশাসন ইরাকের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেয়, যার ফলে দেশটিতে দেখা দেয় চরম শূন্যতা ও নৈরাজ্য। এর জেরে শিয়া-সুন্নি সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও প্রতিরোধ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।সাধারণ মানুষের প্রাণহানি: স্বাধীন গবেষণা সংস্থা Opinion Research Business (ORB)-এর ২০০৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের আগস্টের মধ্যেই সহিংসতা ও যুদ্ধে ১০ লক্ষেরও বেশি ইরাকি নাগরিক প্রাণ হারান। আর Iraq Body Count-এর তথ্যানুসারে সরাসরি সহিংসতায় অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন।মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি: প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১১ সালে স্বীকার করেন যে, এই অভিযানে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন সৈন্য অংশ নেয়, যার মধ্যে ৪,৪০০ জনের বেশি নিহত হয়, ৩২,০০০ আহত হয় এবং ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ অপচয় হয়।দায়শ (আইএসআইএস)-এর উত্থান ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতিমার্কিন আগ্রাসন এবং নুরি আল-মালিকির নেতৃত্বাধীন সরকারের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির সুযোগ নিয়ে ২০১৪ সালে চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘দায়শ’ (আইএসআইএস) আত্মপ্রকাশ করে। তারা ইরাকের তিন ভাগের এক ভাগ এলাকা—মসুল, আনবার, সালাহাদ্দিন ও কারকুক গ্রাস করে নেয়।দায়শ-কে উচ্ছেদ করতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চলা রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে দেশটির বিস্তর ক্ষতি হয়।উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ (যাদের অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম) গৃহহীন হয়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত (IDP) হন।মসুল ও আনবারসহ প্রধান শহরগুলোর প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।মার্কিন সেনার বিদায় ও বর্তমান পরিস্থিতি২০১৯ সালের অক্টোবরে বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং মৌলিক সেবার অভাবে বাগদাদসহ দক্ষিণ ইরাকে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যার ফলে আদিল আব্দুল মাহদি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।পরবর্তী সময়ে মার্কিন ও ইরাক সরকারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মার্কিন পেন্টাগনের হিসাব মতে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে (যেমন: আইন আল-আসাদ, এরবিল, আল-হোরিয়া, তাজি ও ভিক্টোরি) প্রায় ২,৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল।সম্প্রতি ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জোটের মিশন ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি সেনা উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ইরাকি বাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ইয়েমেনের তাইজে সামরিক অগ্রগতির দাবি সেনাবাহিনীর, হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘাত

ইয়েমেনের তাইজে সামরিক অগ্রগতির দাবি সেনাবাহিনীর, হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘাত

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

কওমি সনদে নতুন চাকরির সুযোগ, ছয় শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃত

কওমি সনদে নতুন চাকরির সুযোগ, ছয় শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃত

ভারতে মুসলিমদের হালাল গোশতের দোকানে নিহাং শিখদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

ভারতে মুসলিমদের হালাল গোশতের দোকানে নিহাং শিখদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা মালদ্বীপে ৯ মাস কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন

বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা মালদ্বীপে ৯ মাস কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন

মসজিদুল আকসার শেষ উসমানীয় প্রহরী: ইগদিরের অনবাশি হাসান

মসজিদুল আকসার শেষ উসমানীয় প্রহরী: ইগদিরের অনবাশি হাসান

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

মক্কার আকাশে হুথি ড্রোন ভূপাতিতের ভাইরাল ভিডিওটি ভুয়া, আসলে ২০২৫ সালের মদিনার ভিডিও

মক্কার আকাশে হুথি ড্রোন ভূপাতিতের ভাইরাল ভিডিওটি ভুয়া, আসলে ২০২৫ সালের মদিনার ভিডিও

উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা

উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে

বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও যোগাযোগ চায় আফগানিস্তান: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ

বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও যোগাযোগ চায় আফগানিস্তান: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ

গণবিধ্বংসী অস্ত্রের নামে মিথ্যাচার ও দখলদারিত্ব: ২৩ বছর পর শেষ হচ্ছে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি

গণবিধ্বংসী অস্ত্রের নামে মিথ্যাচার ও দখলদারিত্ব: ২৩ বছর পর শেষ হচ্ছে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি

বাইরের ষড়যন্ত্র ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তুরস্কে সফল হবে না: বিলাল এরদোয়ান

বাইরের ষড়যন্ত্র ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তুরস্কে সফল হবে না: বিলাল এরদোয়ান

ভারতে ৬০০ বছরের প্রাচীন শাহী মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২০

ভারতে ৬০০ বছরের প্রাচীন শাহী মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২০

ইরাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র আনার উদ্যোগ: সশস্ত্র দল বিলুপ্ত করে নতুন সিদ্ধান্ত শিয়া নেতার

ইরাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র আনার উদ্যোগ: সশস্ত্র দল বিলুপ্ত করে নতুন সিদ্ধান্ত শিয়া নেতার

সুদানে তীব্র খাদ্যসংকট: খাদ্যের অভাবে ৪১ লাখ মানুষ, তহবিল শূন্যের কোঠায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির

সুদানে তীব্র খাদ্যসংকট: খাদ্যের অভাবে ৪১ লাখ মানুষ, তহবিল শূন্যের কোঠায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির

গাজার রক্ত, জাতিসংঘের নীরবতা ও নেতানিয়াহুর ভাষণ: বিশ্বপ্রতিবাদের ভাষা

গাজার রক্ত, জাতিসংঘের নীরবতা ও নেতানিয়াহুর ভাষণ: বিশ্বপ্রতিবাদের ভাষা

উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ছাঁটাই ও বিলম্বের জবাবদিহিতার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ছাঁটাই ও বিলম্বের জবাবদিহিতার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
লিংক কপি করা হয়েছে!

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক দাবানল ও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা পরিবেশ দূষণের যৌথ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝারি মেয়াদের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (ECMWF)-এর অধীনস্থ ‘কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস’ (CAMS)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভূপৃষ্ঠের ক্ষতিকর ওজোন গ্যাসের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও দূষণকারী উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্ট এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনবহুল এশীয় অঞ্চল, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক বৈশ্বিক হুমকির বার্তা দিচ্ছে।কোপার্নিকাস সার্ভিসের উদ্বেগজনক রিপোর্টইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা CAMS ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ওজোন গ্যাস (Ground-level Ozone) সরাসরি উৎস থেকে উৎপন্ন হয় না, বরং শিল্পকারখানা, যানবাহন এবং দাবানলের ধোঁয়ার সাথে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সূর্যের আলো ও তীব্র তাপমাত্রার উপস্থিতিতে প্রাকৃতিকভাবে বিক্রিয়া করে এই গৌণ দূষক তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ বায়ুমণ্ডল নির্দেশিকা অনুসারে, বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ বায়ুমণ্ডলের মধ্যে বাস করছেন, যেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিষাক্ত ওজোনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।মহাদেশভিত্তিক বিপর্যয় ও এশিয়ার শোচনীয় অবস্থাCAMS-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওজোন দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার এশিয়া মহাদেশ। শিল্পায়নের ব্যাপক প্রসার, পরিবহনের ধোঁয়া এবং প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রাসায়নিক উপাদানের যৌথ প্রভাবে চলতি বছর এশিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার ওজোন দূষণের শিকার হয়েছে। জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহসহ উন্নয়নশীল অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।এদিকে ইউরোপে একের পর এক আসা তীব্র তাপদাহের (Heatwave) কারণে মহাদেশটির ৫০ শতাংশ মানুষ ‘খারাপ’ ও ‘খুবই খারাপ’ মাত্রার ওজোন দূষণের সম্মুখীন হয়েছে। উত্তর আমেরিকাতেও দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার প্রভাবে মহাদেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিষাক্ত বায়ুর কবলে পড়ে দিন কাটাচ্ছে।জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর মারাত্মক প্রভাবভূপৃষ্ঠের এই বিষাক্ত ওজোন সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করছে। এর পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) এবং কৃষিশস্যের ফলনে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বায়ুমণ্ডলের এই পরিবর্তন খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও COP31 সম্মেলনের আহ্বানECMWF-এর মহাপরিচালক ফ্লোরিয়ান পাপেনবার্গার বলেন, 'বায়ুদূষণ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা মানে না। দাবানলের ধোঁয়া, বিষাক্ত ওজোন ও মরুভূমির ধূলিঝড় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন 'COP31'-কে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের এখনই যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।'একইসাথে CAMS-এর পরিচালক লরেন্স রুইল জোর দিয়ে বলেন, 'আমাদের বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সাহারার ধূলিঝড় বা বনভূমির দাবানল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক বায়ুমণ্ডলীয় সুরক্ষা নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।'

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

  ৩৫ বছরে
  ৪০ বছরে
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...