রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি ঐতিহাসিক মাদরাসা এবং সংলগ্ন বেশ কিছু বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ পুনর্বাসন বা আলোচনার সুযোগ না দিয়েই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার নরোলি শহরে গত বৃহস্পতিবার এক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ‘দারুল উলুম’ নামক একটি মাদরাসা এবং এর আশেপাশে গড়ে ওঠা অন্তত ৮-১০টি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, মাদরাসাটি এবং সংলগ্ন ঘরগুলো সরকারি খাস জমিতে (কম্পোস্ট পিট ও জনপথের জন্য নির্ধারিত) অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল।সাব-ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আশুতোষ তিওয়ারি সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী ১৬৩৫ এবং ১৬৩৬ নম্বর দাগের জমিটি সরকারি কাজে বরাদ্দ। তিনি বলেন, “অবৈধ দখলদারদের দুবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।” এই অভিযানে এসডিএম-এর পাশাপাশি ডেপুটি তহসিলদার এবং পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৫টি থানার পুলিশ ও পিএসি (Provincial Armed Constabulary) মোতায়েন করে পুরো এলাকাকে ‘পুলিশ ছাউনিতে’ রূপান্তর করা হয়।উচ্ছেদ হওয়া মাদরাসাটি এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আব্দুল হামিদ নামে এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বড় স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। মাদরাসাটি আমাদের সন্তানদের আলো দিচ্ছিল, এখন তারা কোথায় যাবে?” নিজের ঘর হারানো শাবানা বেগম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকছি। হঠাৎ বলা হলো আমাদের বাড়ি অবৈধ। খোলা আকাশের নিচে আমাদের এখন কোথায় যাওয়ার জায়গা নেই।”নরোলি পঞ্চায়েত চেয়ারম্যান বিট্টন মালিক প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানান, তাকে এই অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল।সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবী সমীর খান বলেন, “উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি বিধি অনুসরণ করা এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর স্থাপনার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি না হয়।”বর্তমানে সম্ভলের ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা ফারুক আহমদ বলেন, “মাদরাসা কেবল একটি দালান নয়, এটি বিশ্বাস ও শিক্ষার কেন্দ্র। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যেত। আমরা কেবল ন্যায়বিচার ও শান্তি চাই।”
৬ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহা সম্মেলন সফল করার আহ্বান চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহা সম্মেলন সফল করার আহ্বান চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের

ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে: নির্বাচনে জয়ের পর তারেক রহমানের কড়া হুঁশিয়ারি

যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে: নির্বাচনে জয়ের পর তারেক রহমানের কড়া হুঁশিয়ারি

যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না: আফগান উপ-প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না: আফগান উপ-প্রধানমন্ত্রী

২৯৭ আসনের ফল গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি, ভোটের হার ৫৯.৪৪%

২৯৭ আসনের ফল গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি, ভোটের হার ৫৯.৪৪%

বিজয়ে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা, সম্পর্ক জোরদারের আশাবাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

বিজয়ে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা, সম্পর্ক জোরদারের আশাবাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

ত্রয়োদশ় সংসদ নির্বাচন সফল, দেশব্যাপী শোকরানা দোয়ার আহ্বান

ত্রয়োদশ় সংসদ নির্বাচন সফল, দেশব্যাপী শোকরানা দোয়ার আহ্বান

ঢাকা-৮: ৬ কেন্দ্রের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, শাহজাহানপুরে উত্তেজনা

ঢাকা-৮: ৬ কেন্দ্রের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, শাহজাহানপুরে উত্তেজনা

ঢাকা-১১: ১৬ কেন্দ্রের ফলে নাহিদ ইসলামের চমক, ১,৮৩১ ভোটে পিছিয়ে কাইয়ুম

ঢাকা-১১: ১৬ কেন্দ্রের ফলে নাহিদ ইসলামের চমক, ১,৮৩১ ভোটে পিছিয়ে কাইয়ুম

নির্বাচন ২০২৬ প্রাথমিক ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই; বিভাগীয় আধিপত্যে বিএনপি-জামায়াত স্নায়ুযুদ্ধ

নির্বাচন ২০২৬ প্রাথমিক ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই; বিভাগীয় আধিপত্যে বিএনপি-জামায়াত স্নায়ুযুদ্ধ

নেত্রকোনা-১: কায়সার কামালের ‘ক্লিন সুইপ’, ১২২ কেন্দ্রেই ধানের শীষের জয়

নেত্রকোনা-১: কায়সার কামালের ‘ক্লিন সুইপ’, ১২২ কেন্দ্রেই ধানের শীষের জয়

ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি ঐতিহাসিক মাদরাসা এবং সংলগ্ন বেশ কিছু বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ পুনর্বাসন বা আলোচনার সুযোগ না দিয়েই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার নরোলি শহরে গত বৃহস্পতিবার এক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ‘দারুল উলুম’ নামক একটি মাদরাসা এবং এর আশেপাশে গড়ে ওঠা অন্তত ৮-১০টি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, মাদরাসাটি এবং সংলগ্ন ঘরগুলো সরকারি খাস জমিতে (কম্পোস্ট পিট ও জনপথের জন্য নির্ধারিত) অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল।সাব-ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আশুতোষ তিওয়ারি সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী ১৬৩৫ এবং ১৬৩৬ নম্বর দাগের জমিটি সরকারি কাজে বরাদ্দ। তিনি বলেন, “অবৈধ দখলদারদের দুবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।” এই অভিযানে এসডিএম-এর পাশাপাশি ডেপুটি তহসিলদার এবং পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৫টি থানার পুলিশ ও পিএসি (Provincial Armed Constabulary) মোতায়েন করে পুরো এলাকাকে ‘পুলিশ ছাউনিতে’ রূপান্তর করা হয়।উচ্ছেদ হওয়া মাদরাসাটি এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আব্দুল হামিদ নামে এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বড় স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। মাদরাসাটি আমাদের সন্তানদের আলো দিচ্ছিল, এখন তারা কোথায় যাবে?” নিজের ঘর হারানো শাবানা বেগম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকছি। হঠাৎ বলা হলো আমাদের বাড়ি অবৈধ। খোলা আকাশের নিচে আমাদের এখন কোথায় যাওয়ার জায়গা নেই।”নরোলি পঞ্চায়েত চেয়ারম্যান বিট্টন মালিক প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানান, তাকে এই অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল।সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবী সমীর খান বলেন, “উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি বিধি অনুসরণ করা এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর স্থাপনার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি না হয়।”বর্তমানে সম্ভলের ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা ফারুক আহমদ বলেন, “মাদরাসা কেবল একটি দালান নয়, এটি বিশ্বাস ও শিক্ষার কেন্দ্র। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যেত। আমরা কেবল ন্যায়বিচার ও শান্তি চাই।”

ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক