মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান এবং হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা: মসজিদে নববীর খতিবের
সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি মুসলমানদের আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অবলম্বন এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের খুতবায় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা ‘ক্বাফ’-এর শিক্ষা, মানুষের জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা এবং পুনরুত্থানের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি মক্কা, মদিনা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর চালানো হামলার নিন্দা জানান। এসব হামলায় প্রাণহানি, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জিয়ারতকারী ও ওমরাহ পালনকারীদের হত্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।তাকওয়াই ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম পাথেয়: মসজিদে নববীর খতিবপবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি মুসলমানদের মহান আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করার উপদেশ দিয়েছেন।তিনি বলেন, আল্লাহর তাকওয়া হলো মানুষের অন্তরে গোপন রাখা বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বোত্তম, প্রকাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান। তাকওয়াই মহাসুখ লাভের পথ এবং ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম পাথেয়।এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-লাইলের ৫-৭ নম্বর আয়াতের অর্থ তুলে ধরেন: “অতএব, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব।”পবিত্র কোরআনে মানবজীবন ও পরকালের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনাখতিব বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে এমন সব বিধান, প্রজ্ঞা ও শিক্ষা সংরক্ষণ করেছেন, যা মানুষের বিবেককে তৃপ্ত করে, আত্মাকে প্রশান্তি দেয় এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময় হিসেবে কাজ করে।কোরআনে অতীত জীবনের ঘটনাপ্রবাহ এবং পৃথিবীতে মানুষের ক্ষণস্থায়ী যাত্রার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যখন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না, তখন থেকে তার সৃষ্টি ও আকৃতি দান, পৃথিবীতে তার স্বল্পকালীন জীবন এবং সেই যাত্রার সমাপ্তি পর্যন্ত সবকিছুই এর আলোচনায় এসেছে।তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ এবং চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত পরকালীন জীবনের বিষয়গুলোও কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ মানুষকে জানিয়েছেন, কী উদ্দেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, কোন পথে তার প্রকৃত সুখ এবং কোন পথে তার দুর্ভাগ্য নিহিত।এ ছাড়া অতীতের বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের অবস্থা তুলে ধরে কোরআন ধারাবাহিকভাবে মুমিনদের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ দেয় এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।সূরা ‘ক্বাফ’-এ জীবনের গভীর শিক্ষাশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি মুসল্লিদের পবিত্র কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা ‘ক্বাফ’ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানান।তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জুমার দিন খুতবায় এই সূরা অথবা এর কিছু অংশ তিলাওয়াত করতেন। সাহাবি হজরত উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা ইবন নুমান (রা.) বলেছেন, তিনি সূরা ‘ক্বাফ ওয়াল কোরআনিল মাজিদ’ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ থেকেই শিখেছেন। তিনি প্রতি শুক্রবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষকে খুতবা দেওয়ার সময় এ সূরা পাঠ করতেন।খতিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সূরায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সত্য, মহান উদ্দেশ্য এবং পরকালীন বাস্তবতার ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এর অনন্য কোরআনিক বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলীতে যুক্তিপূর্ণ প্রমাণ, সতর্কতামূলক উপদেশ এবং হৃদয়স্পর্শী স্মরণবাণী একত্রিত হয়েছে।এ সূরা মানুষের অন্তরকে জাগিয়ে তোলে, চোখে অশ্রু এনে দেয় এবং আল্লাহর সরল ও সঠিক পথে চলার সংকল্পকে দৃঢ় করে।আকাশ, পৃথিবী ও প্রকৃতির নিদর্শনে পুনরুত্থানের প্রমাণখতিব বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’ শুরু হয়েছে এমন এক অসাধারণ সূচনার মাধ্যমে, যা মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর মহিমা উপলব্ধি করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং চিন্তাশক্তিকে এর গভীর তাৎপর্য নিয়ে ভাবতে আহ্বান জানায়।সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন অক্ষর ‘ক্বাফ’-এর পর মহান কোরআনের শপথ এসেছে। এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুনরুত্থান ও পরকালীন জীবনের বিষয়টি।তিনি বলেন, মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আল্লাহর ক্ষমতার সুস্পষ্ট নিদর্শন মানুষের সামনে পুনরুত্থানের সত্যকে তুলে ধরে। পবিত্র কোরআনে আকাশের নির্মাণ ও সৌন্দর্য, পৃথিবীর বিস্তৃতি, পর্বতমালার স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও ফলমূলের উৎপাদন এবং বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত ভূমিকে জীবিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।সূরা ‘ক্বাফ’-এর ৬-১১ নম্বর আয়াতে আকাশ ও পৃথিবীর এসব নিদর্শন তুলে ধরে মানুষকে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হওয়ার উদাহরণ দিয়ে কোরআন পুনরুত্থানের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।খতিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃতির এসব নিদর্শন শুধু আল্লাহর ক্ষমতার পরিচয়ই দেয় না, বরং চিন্তাশীল ও আল্লাহমুখী মানুষের জন্য শিক্ষা এবং স্মরণবাণী হিসেবেও কাজ করে।অতীতের জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বানশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’-এর আলোচনায় এরপর মহাবিশ্বের দৃশ্যমান নিদর্শন থেকে মানব ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরানো হয়েছে। আল্লাহর ওহি প্রত্যাখ্যান ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া জাতিগুলোর পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।পবিত্র কোরআনে নুহ (আ.)-এর সম্প্রদায়, রাসের অধিবাসী, সামুদ, আদ, ফেরাউন, লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়, আইকার অধিবাসী এবং তুব্বার সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই রাসুলদের অস্বীকার করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল।খতিব বলেন, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা সূরার শুরুতে উত্থাপিত পুনরুত্থানের মূল বিষয়টিকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। পবিত্র কোরআনে প্রশ্ন করা হয়েছে, প্রথমবার সৃষ্টি করতে কি আল্লাহ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন? বরং অবিশ্বাসীরা নতুন করে সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে।তিনি মুসলমানদের অতীতের জাতিগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান জানান।মানুষের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে আল্লাহ অবগতখতিব আরও বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’ মানুষের প্রতি আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান, সৃষ্টির ওপর তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং জীবনের সমাপ্তি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়।সূরাটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার অন্তর যে চিন্তা ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত। আল্লাহ মানুষের গলার শিরার চেয়েও তার নিকটবর্তী। মানুষের ডান ও বাঁ পাশে নিয়োজিত দুই লিপিকার তার কাজকর্ম লিপিবদ্ধ করেন।এ প্রসঙ্গে সূরা ‘ক্বাফ’-এর ১৬-১৮ নম্বর আয়াতের শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের জীবন একসময় শেষ হবে এবং তাকে এমন এক স্থায়ী জীবনের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে তার কর্মের হিসাব নেওয়া হবে।পরকালীন জীবনে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি হবে অনন্ত সুখ অথবা চিরস্থায়ী দুর্ভাগ্য। অতীতের শক্তিশালী জাতিগুলোও আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি। পবিত্র কোরআনে তাদের ইতিহাসের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে, পৃথিবীতে শক্তি ও প্রভাব অর্জন করলেই কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পায় না।খতিব বলেন, এসব বিষয় তাদের জন্য বড় শিক্ষা, যাদের অন্তর জীবন্ত এবং যারা মনোযোগ দিয়ে সত্যের বাণী শোনে।পরকালের বিশ্বাস মুমিনের জীবনে প্রশান্তি আনেশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’-এর শেষভাগে পুনরুত্থান, বিচার দিবস এবং স্থায়ী পরকালীন জীবনের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস একজন মুমিনের জীবনের কেন্দ্রীয় ভিত্তি। এ বিশ্বাস মানুষের বাস্তব জীবনে প্রশান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে।জীবনের নানা পরিবর্তন, অনিশ্চয়তা, দুঃখ-কষ্ট এবং দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও মুমিন তার অন্তরে স্থিরতা ও প্রশান্তি অনুভব করতে পারে। কারণ, সে বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে এবং জীবনের চূড়ান্ত হিসাব একদিন তাঁকেই দিতে হবে।তিনি বলেন, একজন মুমিন আল্লাহর প্রতি সচেতন থেকে জীবনযাত্রার প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করেন। তিনি আল্লাহর অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টির অধিকারও সংরক্ষণ করেন। তাঁর দৃষ্টিতে পৃথিবীর জীবন আল্লাহর দিকে এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ যাত্রার একটি সাময়িক পর্যায়।মক্কা ও মদিনার পবিত্র মর্যাদা তুলে ধরলেন খতিবখুতবায় শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি পবিত্র দুই নগরী মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার বিশেষ মর্যাদার কথাও তুলে ধরেন।তিনি বলেন, মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সা.) এবং যুগে যুগে আকিদা ও ঈমানের অনুসারীদের কাছে পবিত্র দুই মসজিদ এবং মক্কা ও মদিনার অবস্থান অত্যন্ত সম্মানজনক।এই মর্যাদার কারণে দুই নগরী নিরাপদ আশ্রয়স্থল, প্রশান্তির আবাস এবং ইবাদতকারী, রুকু ও সিজদাকারীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের জন্য শান্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।খতিবের বক্তব্যে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।মক্কা-মদিনা ও রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দাখুতবায় শায়খ ড. আহমদ আল-হুযাইফি হুথি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাকে লক্ষ্য করে তাদের চালানো হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে প্রাণহানি, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জিয়ারতকারী ও ওমরাহ পালনকারীদের হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামী শরিয়ত, সুস্থ বিবেক, স্বাভাবিক মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো উচিত।খতিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও হতাশাজনক হলেও ইতিহাসে তা অন্যায় ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।পবিত্র কোরআনে হাতির বাহিনীর ঘটনার উদাহরণমক্কাকে লক্ষ্য করে অতীতের একটি ঐতিহাসিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি সূরা আল-ফিলের কথা উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে হাতির বাহিনীর ঘটনা তুলে ধরে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়া এবং পরাজয়ের কথা জানানো হয়েছে। সূরা আল-ফিলে মহান আল্লাহ কীভাবে হাতির বাহিনীর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাদের পরিণতি নির্ধারণ করেছিলেন, তা বর্ণিত হয়েছে।খতিবের বক্তব্যে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্রের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সেনাদের জন্য দোয়াখুতবায় শেষ পর্যায়ে শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।তিনি সৌদি আরবকে ঈমানের আশ্রয়স্থল, ওহি অবতরণের ভূমি, মুসলমানদের হৃদয়ের আকর্ষণকেন্দ্র এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমাধিস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল থেকে দেশটিকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে সৌদি বাদশাহ, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম এবং তাঁর যুবরাজকে জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দেওয়ার দোয়া করেন।সবশেষে তিনি সৌদি সেনাদের বিজয়, দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।