শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ

ভারতজুড়ে মুসলিম ইতিহাস মুছে ফেলা এবং শিক্ষাঙ্গনে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) স্নাতকোত্তর ইতিহাস সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘দিল্লি সালতানাত’ বিষয়ক দীর্ঘদিনের মূল কোর্সটি। বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পঠিত এই কোর্সটির পাশাপাশি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসের আরও কয়েকটি বিষয় হঠাৎ করে নতুন নোটিফিকেশন থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেমিস্টার-৩ এর যে নতুন সিলেবাস প্রকাশ করেছে, তাতে ইতিহাস বিভাগের প্রস্তাবিত ৩৮টি কোর্সের মধ্যে মাত্র ১৬টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান ‘গেরুয়াকরণ’ (Saffronisation) প্রক্রিয়ার একটি নগ্ন রূপ হিসেবে দেখছেন।ভারতের রাজধানী দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডিইউ) বিতর্কিত নতুন স্নাতকোত্তর (পিজি) ইতিহাস সিলেবাস ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৩শ ও ১৪শ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম শাসন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কিত ঐতিহ্যবাহী কোর্স “দিল্লি সালতানাত: স্ট্রাকচার্স অব অথরিটি ইন মিডিয়াভাল নর্থ ইন্ডিয়া”।বাদ পড়ার তালিকায় শুধু দিল্লি সালতানাতই নয়, বরং আরও রয়েছে:“হিস্ট্রি অব নর্থ ইন্ডিয়া (১৪০০-১৫৫০)” — যা দিল্লি সালতানাতের পতন থেকে মোঘল সাম্রাজ্যের উত্থানের মধ্যবর্তী বিশেষায়িত ইতিহাস শিক্ষা দিত।“জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই”।“পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিজ ইন আর্লি ইন্ডিয়া”।“রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন আর্লি ইন্ডিয়ান লিটারেচার”।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত ৩৮টি ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক ইলেক্টিভ (ডিএসই) পেপারের মধ্যে মাত্র ১৬টি চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাকি কোর্সগুলো ‘আলোচনাধীন’ বা ‘অআলোচিত’ বলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাফাই ও শিক্ষাবিদদের সংশয়দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিন কে. রত্নাবলী দাবি করেছেন যে কোর্সগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়নি। তার মতে, একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সংশোধনীর কারণে ‘বিশ্বাসের সংকট’ তৈরি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তিনি বলেন, বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি কেবল ‘উপযুক্ত’ কোর্সগুলোকেই অনুমোদন দিয়েছে।তবে ভারতের একাধিক শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ এ ঘটনাকে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শিক্ষা নীতি ও হিন্দুত্ববাদী আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছেন। গত চার আগস্ট প্রকাশিত ইতিহাস বিভাগের এক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে ক্লাস শুরু হলেও অননুমোদিত সিলেবাসের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।ইতিহাস বিকৃতি ও মুসলিম শাসনকে মুছে ফেলার চক্রান্তবিগত কয়েক বছর ধরে ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা কিংবা পাঠ্যপুস্তক থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত ধারা দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে স্নাতক পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) অধীনে সিলেবাস পুনর্গঠনের মাধ্যমে ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’ এবং ‘বৈষম্য’ বিষয়ক পাঠ বাদ দেওয়া হয়েছিল।সম্প্রতি চলতি বছরের জুনে ভারতের এনসিইআরটি (NCERT) অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে দিল্লি সালতানাত ও মোঘল সময়কালকে ‘ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করে। সেখানে মোঘল সম্রাট বাবরকে ‘নির্মম বিজয়ী’ এবং আকবরের শাসনকে ‘নিষ্ঠুরতা ও সহনশীলতার মিশ্রণ’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকেও একইভাবে মোঘলদের ইতিবাচক ইতিহাস ছাঁটাই করা হয়েছিল, যা দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি কায়েমের অংশ হিসেবেই মুসলিম স্থাপত্য, সংস্কৃতি, শাসনব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক অবদানকে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে, যা দেশটির বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক সত্যকে ধ্বংস করার শামিল।
২ ঘন্টা আগে

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে মসজিদের মাইক সরানোর ব্যাখা চাইলেন কলকাতা হাইকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে মসজিদের মাইক সরানোর ব্যাখা চাইলেন কলকাতা হাইকোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চহারে বেড়েছে ইসলামোফোবিয়া: ৬৩ শতাংশ মুসলিম ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চহারে বেড়েছে ইসলামোফোবিয়া: ৬৩ শতাংশ মুসলিম ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার

১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন বিখ্যাত পাকিস্তানি ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান

১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন বিখ্যাত পাকিস্তানি ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান

আফগান সীমান্ত বন্ধ থাকায় হাজারো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে: মাহমুদ খান আচাকজাই

আফগান সীমান্ত বন্ধ থাকায় হাজারো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে: মাহমুদ খান আচাকজাই

কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর, শোকে ভাসছে মাগুরার পরিবার

কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর, শোকে ভাসছে মাগুরার পরিবার

বাংলাদেশে রাজস্ব স্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশে রাজস্ব স্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

পঞ্চগড়ে ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে: নবমুসলিম দম্পতিকে পাশবিক নির্যাতন ও চুল কাটার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে: নবমুসলিম দম্পতিকে পাশবিক নির্যাতন ও চুল কাটার অভিযোগ

সিরিয়ায় শিক্ষা ও সামাজিক কেন্দ্র পুনর্নির্মাণে কিং সালমান এইড অ্যান্ড রিলিফের নতুন উদ্যোগ

সিরিয়ায় শিক্ষা ও সামাজিক কেন্দ্র পুনর্নির্মাণে কিং সালমান এইড অ্যান্ড রিলিফের নতুন উদ্যোগ

বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা অভিযান: টিটিপির ১৮ জঙ্গি নিহত

বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা অভিযান: টিটিপির ১৮ জঙ্গি নিহত

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ

ভারতজুড়ে মুসলিম ইতিহাস মুছে ফেলা এবং শিক্ষাঙ্গনে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) স্নাতকোত্তর ইতিহাস সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘দিল্লি সালতানাত’ বিষয়ক দীর্ঘদিনের মূল কোর্সটি। বিগত কয়েক দশক ধরে মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পঠিত এই কোর্সটির পাশাপাশি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসের আরও কয়েকটি বিষয় হঠাৎ করে নতুন নোটিফিকেশন থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেমিস্টার-৩ এর যে নতুন সিলেবাস প্রকাশ করেছে, তাতে ইতিহাস বিভাগের প্রস্তাবিত ৩৮টি কোর্সের মধ্যে মাত্র ১৬টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান ‘গেরুয়াকরণ’ (Saffronisation) প্রক্রিয়ার একটি নগ্ন রূপ হিসেবে দেখছেন।ভারতের রাজধানী দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডিইউ) বিতর্কিত নতুন স্নাতকোত্তর (পিজি) ইতিহাস সিলেবাস ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৩শ ও ১৪শ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম শাসন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কিত ঐতিহ্যবাহী কোর্স “দিল্লি সালতানাত: স্ট্রাকচার্স অব অথরিটি ইন মিডিয়াভাল নর্থ ইন্ডিয়া”।বাদ পড়ার তালিকায় শুধু দিল্লি সালতানাতই নয়, বরং আরও রয়েছে:“হিস্ট্রি অব নর্থ ইন্ডিয়া (১৪০০-১৫৫০)” — যা দিল্লি সালতানাতের পতন থেকে মোঘল সাম্রাজ্যের উত্থানের মধ্যবর্তী বিশেষায়িত ইতিহাস শিক্ষা দিত।“জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই”।“পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিজ ইন আর্লি ইন্ডিয়া”।“রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন আর্লি ইন্ডিয়ান লিটারেচার”।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত ৩৮টি ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক ইলেক্টিভ (ডিএসই) পেপারের মধ্যে মাত্র ১৬টি চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাকি কোর্সগুলো ‘আলোচনাধীন’ বা ‘অআলোচিত’ বলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাফাই ও শিক্ষাবিদদের সংশয়দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিন কে. রত্নাবলী দাবি করেছেন যে কোর্সগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়নি। তার মতে, একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সংশোধনীর কারণে ‘বিশ্বাসের সংকট’ তৈরি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তিনি বলেন, বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি কেবল ‘উপযুক্ত’ কোর্সগুলোকেই অনুমোদন দিয়েছে।তবে ভারতের একাধিক শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ এ ঘটনাকে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শিক্ষা নীতি ও হিন্দুত্ববাদী আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছেন। গত চার আগস্ট প্রকাশিত ইতিহাস বিভাগের এক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে ক্লাস শুরু হলেও অননুমোদিত সিলেবাসের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।ইতিহাস বিকৃতি ও মুসলিম শাসনকে মুছে ফেলার চক্রান্তবিগত কয়েক বছর ধরে ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা কিংবা পাঠ্যপুস্তক থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত ধারা দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে স্নাতক পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) অধীনে সিলেবাস পুনর্গঠনের মাধ্যমে ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’ এবং ‘বৈষম্য’ বিষয়ক পাঠ বাদ দেওয়া হয়েছিল।সম্প্রতি চলতি বছরের জুনে ভারতের এনসিইআরটি (NCERT) অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে দিল্লি সালতানাত ও মোঘল সময়কালকে ‘ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করে। সেখানে মোঘল সম্রাট বাবরকে ‘নির্মম বিজয়ী’ এবং আকবরের শাসনকে ‘নিষ্ঠুরতা ও সহনশীলতার মিশ্রণ’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকেও একইভাবে মোঘলদের ইতিবাচক ইতিহাস ছাঁটাই করা হয়েছিল, যা দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি কায়েমের অংশ হিসেবেই মুসলিম স্থাপত্য, সংস্কৃতি, শাসনব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক অবদানকে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে, যা দেশটির বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক সত্যকে ধ্বংস করার শামিল।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘দিল্লি সালতানাত’; শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ