সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুমের অপচেষ্টা করা হয়েছিল: আল্লামা মামুনুল হক

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুমের অপচেষ্টা করা হয়েছিল: আল্লামা মামুনুল হক

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বর্বরোচিত ও নারকীয় হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক দাবি করেন, সে সময় ফ্যাসিবাদের নির্দেশে বহুসংখ্যক শহীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার কারণে অনেকের আজো হদিস মেলেনি।২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে ইসলাম ও প্রিয় নবী (সা.)-এর অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবিতে সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর পরিচালিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া গতিশীল হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এই প্রতিবেদনের অগ্রগতি জানতে এবং পর্যালোচনা করতে আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন হেফাজতে ইসলামের একটি শীর্ষ দল। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার এবং মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্য নেতারা।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদনে শুধুমাত্র যাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা গেছে, তাদের সংখ্যাটিই উঠে এসেছে। কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছি যে, শাপলা চত্বরের নির্মমতার শিকার অনেকেরই লাশ পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তৎকালীন স্বৈরাচারী ও উগ্র মানসিকতার শাসকগোষ্ঠী শাপলার শহীদদের মরদেহ গুম করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ফলে বহুসংখ্যক শহীদের কোনো হদিস মেলেনি এবং স্বাভাবিকভাবেই সেসব তথ্য এই খসড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আনার সুযোগ ছিল না।"তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ মে'র সেই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশটি ছিল সার্বজনীন। এতে সমাজের সব শ্রেণির ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থী, দ্বীনি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ তৎকালীন প্রায় সব বিরোধী ঘরানার রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও এই বর্বরোচিত গণহত্যার শিকার হয়ে শহীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে এই হেফাজত নেতা বলেন, "আমরা এখন পর্যন্ত খসড়া প্রতিবেদনটি বিস্তারিত দেখার সুযোগ পাইনি। প্রাথমিকভাবে যতটুকু নজরে এসেছে, তাতে কিছু ক্ষেত্রে আমাদের পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আগামী দু-একদিনের মধ্যে এটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আমাদের সংশোধনীগুলো প্রসিকিউশন টিমের কাছে হস্তান্তর করব। এরপরই আমরা আমাদের পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টির বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানাতে পারব।"মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তাধীন থাকায় চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক বিষয় এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, "আমাদের মূল যে অভিযোগ ছিল, সে অনুযায়ী এই খসড়া প্রতিবেদনটি অনেকটাই কাছাকাছি ও ইতিবাচক রয়েছে বলে আমরা মনে করি।"এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শাপলা চত্বরের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় তদন্ত চালিয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে একটি খসড়া প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করতে প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এবং বিজিবি প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় এগুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আসামিদের নাম সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।"নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম আরও যোগ করেন, "আমরা প্রাথমিকভাবে ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জন শহীদের সম্পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ ও গুম হওয়াদের বিষয়েও আইনি অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।"বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত এই গণহত্যাটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়াকে বিশ্বব্যাপী মজলুম মুসলমানদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৯ ঘন্টা আগে

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুমের অপচেষ্টা করা হয়েছিল: আল্লামা মামুনুল হক

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুমের অপচেষ্টা করা হয়েছিল: আল্লামা মামুনুল হক

ভারতে মুসলিম নারীকে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর হেনস্তা, গঙ্গায় অন্য হিন্দুদের কাপড় ধোয়ায় নীরবতা

ভারতে মুসলিম নারীকে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর হেনস্তা, গঙ্গায় অন্য হিন্দুদের কাপড় ধোয়ায় নীরবতা

আফগানিস্তানে মহাসড়কগুলোতে আধুনিক ‘ইসলামিক ও নাগরিক’ সেবাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু

আফগানিস্তানে মহাসড়কগুলোতে আধুনিক ‘ইসলামিক ও নাগরিক’ সেবাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু

উত্তরাখণ্ডে ঘরে বসে কোরআন শেখানোর ওপর হিন্দুত্ববাদীদের চড়াও: বজরং দল ও ভিএইচপির হুমকি

উত্তরাখণ্ডে ঘরে বসে কোরআন শেখানোর ওপর হিন্দুত্ববাদীদের চড়াও: বজরং দল ও ভিএইচপির হুমকি

ঝিনাইদহে ইমাম পরিবর্তন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত বিরোধ: মসজিদের ভেতরে ও বারান্দায় পৃথক জুমার জামাত

ঝিনাইদহে ইমাম পরিবর্তন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত বিরোধ: মসজিদের ভেতরে ও বারান্দায় পৃথক জুমার জামাত

মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

হায়দরাবাদের 'বারকাস': দাক্ষিণাত্যের বুকে বেঁচে থাকা এক টুকরো আরব ঐতিহ্য

হায়দরাবাদের 'বারকাস': দাক্ষিণাত্যের বুকে বেঁচে থাকা এক টুকরো আরব ঐতিহ্য

ইসলামের শাশ্বত শান্তিতে মুগ্ধ হয়ে ১২ বছরের দাম্পত্যের পর সত্যকে বেছে নিলেন জার্মান নারী এলা

ইসলামের শাশ্বত শান্তিতে মুগ্ধ হয়ে ১২ বছরের দাম্পত্যের পর সত্যকে বেছে নিলেন জার্মান নারী এলা

মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের নিয়ে টিকটকে আপত্তিকর কনটেন্ট: নেপথ্যে বিকৃত মানসিকতার এক চক্র

মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের নিয়ে টিকটকে আপত্তিকর কনটেন্ট: নেপথ্যে বিকৃত মানসিকতার এক চক্র

ভারতে মুসলিম যুবককে জোরপূর্বক বাছুরের পায়ে মাথা নোয়াতে বাধ্য করল হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতে মুসলিম যুবককে জোরপূর্বক বাছুরের পায়ে মাথা নোয়াতে বাধ্য করল হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতে মুসলিম নারীকে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর হেনস্তা, গঙ্গায় অন্য হিন্দুদের কাপড় ধোয়ায় নীরবতা

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারে পবিত্র গঙ্গা নদীর পাড়ে এক মুসলিম নারীকে চরমভাবে হেনস্তা ও উগ্র আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এক কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী কর্মী ওই নারীকে গঙ্গায় কাপড় ধোয়ার অপরাধে অভিযুক্ত করে হুমকি দেয়, অথচ একই সময়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে একাধিক হিন্দু পুরুষকে স্বাধীনভাবে নদীতে কাপড় কাচতে দেখা গেলেও তাদের কিছুই বলা হয়নি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই বর্ণবাদী ও পক্ষপাতমূলক আচরণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ছত্রছায়ায় মুসলিমদের ওপর প্রকাশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও হেনস্তা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর সর্বশেষ নজির দেখা গেল উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম নারী যখন নদীপাড়ের চত্বর থেকে তার বালতিভর্তি ধোয়া কাপড় নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন একজন স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী এবং তার সহযোগী ওই নারীর পথরোধ করে। উগ্র ভঙ্গিতে হিন্দি ভাষায় তাকে ধমক দিয়ে বলা হয়, "তেরেকো মানা কিয়া থা না কাপড়ে গঙ্গাজি মে নেহি ধোনে হ্যায়" (তোমাকে বারণ করা হয়েছিল না যে গঙ্গাজিতে কাপড় ধোবে না?)।উক্ত হিন্দুত্ববাদী কর্মী অভিযোগ করে যে, বারবার সতর্ক করার পরও ওই নারী পবিত্র নদীতে কাপড় ধুয়েছেন। শুধু তাই নয়, সে গঙ্গার পবিত্রতা রক্ষার অজুহাত ছাপিয়ে মুসলিমদের প্রতি তার জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ উগড়ে দেয়। সে দাবি করে, "এদের মতো মানুষ" (মুসলিমরা) সেখানে ঝুপড়ি বা অস্থায়ী বসতি তৈরি করে চারপাশ নষ্ট করছে এবং পুণ্যার্থীদের জিনিসপত্র চুরি করছে। এরপর চূড়ান্ত হুমকি দিয়ে সে বলে, "সারা কাম করতে হ্যায় তুম। আজ কে বাদ মিল জানা ইহা পে" (সব ধরণের অপকর্ম তোমরাই করো। আজকের পর যেন তোমাকে আর এখানে দেখা না যায়)।দ্বিমুখী নীতি ও প্রকাশ্য বৈষম্যআশ্চর্যের বিষয় হলো, একই ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড বা পেছনের দৃশ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন হিন্দু পুরুষ নদীর পানিতে প্রকাশ্যে তাদের ব্যবহৃত কাপড় চিপছেন, ঘষছেন এবং কাচছেন। কিন্তু ডানপন্থী ও হিন্দুত্ববাদী ওই কর্মীরা তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি বা কোনো ধরনের চিৎকার-চেঁচামেচি করেনি। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, বিষয়টি কোনো পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বা নদীর পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ থেকে করা হয়নি; বরং কেবল একজন মুসলিম নারীকে নিশানা করে তাকে হেনস্তা ও এলাকা ছাড়া করার উদ্দেশ্যেই এই নাটক সাজানো হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার পর ব্যাপক মিশ্র ও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিছু কট্টরপন্থী হিন্দু ব্যবহারকারী এই হেনস্তাকে সমর্থন করে দাবি করেছে যে, "হিন্দুরা মক্কায় গিয়ে শুকরের মাংস নিয়ে মুসলিমদের উত্যক্ত করে না।" তবে মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই অযৌক্তিক যুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, সমস্যাটি পরিচ্ছন্নতা বা ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে নয়, বরং এটি স্পষ্ট ধর্মীয় নিপীড়ন ও মুসলিম বিদ্বেষ, কারণ একই অপরাধে লিপ্ত অন্য কোনো হিন্দু পুরুষকে সেখানে বাধা দেওয়া হয়নি।ধারাবাহিক মুসলিম নিগ্রহউত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের কট্টরপন্থী দলগুলো দীর্ঘ দিন ধরে গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের জীবিকা ও চলাচলের ওপর অনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করে আসছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।চলতি বছরের মার্চ মাসে (পবিত্র রমজান মাসে) ১৪ জন তরুণের একটি দল নৌকায় বসে পার্টি করার সময় চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। একজন স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী নেতার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করে, যেখানে অভিযোগ ছিল—পবিত্র পানিতে নিরামিষ ছাড়া অন্য খাবার খাওয়া তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। ওই মুসলিম তরুণদের জামিন পেতে দীর্ঘ দুই মাস সময় লেগেছিল।অনুরূপভাবে, গত ২৫ জুন বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে নৌকার ওপর মদ ও মুরগির মাংস দিয়ে পার্টি করার অপরাধে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু মার্চ মাসের ঘটনার সাথে এর মূল পার্থক্য ছিল—এই পাঁচজন মুসলিম ছিলেন না। ফলে আশ্চর্যজনকভাবে, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ও দ্বিমুখী আচরণ দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ভারতে মুসলিম নারীকে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীর হেনস্তা, গঙ্গায় অন্য হিন্দুদের কাপড় ধোয়ায় নীরবতা