ফ্রান্সের রাজধানী অঞ্চলসহ দেশজুড়ে যখন ইসলামোফোবিয়া এবং বর্ণবাদী অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি নতুন ঘৃণাত্মক নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গেল। জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) সক্রিয় একটি অনলাইন চ্যাটগ্রুপে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হত্যা ও মৃত্যুর আহ্বান জানানো হয়। এই গুরুতর অপরাধমূলক তৎপরতা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসেছে প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ওই চ্যাটগ্রুপের ভেতরের কথোপকথন এবং মেসেজগুলোর ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রুপটিতে প্রধানত 'জনগণকে ঘৃণা বা সহিংসতায় উসকানি দেওয়া' এবং 'সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানোর' মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। চ্যাটরুমে আদান-প্রদান করা বার্তাগুলোতে চরম উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—'এ দেশ আরবদের নয়', 'রাস্তার ওপেন এয়ার সালাত বা জমায়েতগুলোকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, সবাই সেখানে এক জায়গায় জড়ো হয়' এবং 'বড় পরিসরে লোকজনকে হত্যা করা দরকার'—এর মতো অত্যন্ত উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক মন্তব্য।এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন দেশটির বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল ‘ইনস্যুমি ফ্রান্স’ (LFI)-এর বিশিষ্ট সংসদ সদস্য থোমাস পোর্টেস (Thomas Portes)। গত ২৫ অক্টোবর তিনি নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই চ্যাটগ্রুপের স্ক্রিনশট ও কথোপকথনের একটি অংশ জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। সংসদ সদস্য পোর্টেস দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, এই গ্রুপে সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বর্ণগত ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে এবং চরম অমানবিক বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ বা মামলা দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে সম্প্রতি ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী সহিংসতার যে আবহ তৈরি হয়েছে, এই চ্যাটগ্রুপের ঘটনাটি তারই একটি ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে গত ২৩ অক্টোবর ফ্রান্সের ইভলিন্স (Yvelines) বিভাগে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলায় একজন নিহত এবং অপর সাতজন গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খোদ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ওই হামলাটিকে সুনির্দিষ্টভাবে 'বর্ণবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বর্তমান এই নতুন তদন্ত সেই নিরাপত্তা সংকট ও সামাজিক বিভাজনের অবস্থাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল।