শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক: উম্মাহর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ পথ চলার নতুন বার্তা

কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক: উম্মাহর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ পথ চলার নতুন বার্তা

মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ ও জাতীয় সংকট মোকাবিলায় কওমি ঘরানার প্রধান ৭টি রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর বিশেষ আহ্বানে আয়োজিত এই সভায় দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং দেশের ইসলামি শক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ ঐক্যবদ্ধ পথ চলার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।ইসলামি ভাবাদর্শের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন এক ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ৭টি দলের শীর্ষ নেতারা আগামীতে যেকোনো জাতীয় ও ধর্মীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার নতুন বার্তা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মুসলিম উম্মাহ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামি শক্তিগুলোর ইস্পাতকঠিন ঐক্য এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী এবং মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক ও সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামি ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমান।এছাড়াও উলামা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মুখলিসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া এবং আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম প্রমুখ।বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো ‘ঈমানী দায়িত্ব’ঐক্যের বার্তার পাশাপাশি সভার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয়। বৈঠকে বক্তারা গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার বহু পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগণিত মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এখন ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে অসহায় ও মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের মানবিক, সামাজিক এবং সর্বোপারি 'ঈমানী দায়িত্ব'।সভাপতির বক্তব্যে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। তিনি অবিলম্বে বন্যাকবলিত এলাকায় ব্যাপক পরিসরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দুর্গতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও বিত্তশালীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
৪ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক: উম্মাহর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ পথ চলার নতুন বার্তা

কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক: উম্মাহর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ পথ চলার নতুন বার্তা

ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনিরা কেবলই সমাধানযোগ্য সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি

ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনিরা কেবলই সমাধানযোগ্য সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি

ভণ্ড নবী আল-মুকান্না: খোরাসানের সেই মায়াবী চাঁদ ও এক পাপিষ্ঠের করুণ পরিণতি

ভণ্ড নবী আল-মুকান্না: খোরাসানের সেই মায়াবী চাঁদ ও এক পাপিষ্ঠের করুণ পরিণতি

কলকাতায় বজরং দলের হুমকি: হালাল বিক্রি বন্ধ করো, নয়তো এলাকা ছাড়ো

কলকাতায় বজরং দলের হুমকি: হালাল বিক্রি বন্ধ করো, নয়তো এলাকা ছাড়ো

তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সফল অভিযান: সিরিয়া থেকে ‘দায়েশ’ শীর্ষ নেতা তালেব গুলের গ্রেপ্তার

তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সফল অভিযান: সিরিয়া থেকে ‘দায়েশ’ শীর্ষ নেতা তালেব গুলের গ্রেপ্তার

মনে হলো যেন নিজের ঘরে ফিরেছি: যুক্তরাজ্যে দুই ব্রিটিশ নারীর ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

মনে হলো যেন নিজের ঘরে ফিরেছি: যুক্তরাজ্যে দুই ব্রিটিশ নারীর ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

যোগীকে ‘টাকলা’ বলে রাস্তার খানাখন্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ: উত্তরপ্রদেশে মুসলিম যুবক গ্রেফতার

যোগীকে ‘টাকলা’ বলে রাস্তার খানাখন্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ: উত্তরপ্রদেশে মুসলিম যুবক গ্রেফতার

উত্তরাখণ্ডে মুসলমানদের বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার হুমকি কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেত্রীর

উত্তরাখণ্ডে মুসলমানদের বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার হুমকি কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেত্রীর

বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন সাময়িক স্থগিত

বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন সাময়িক স্থগিত

যোগী রাজ্যে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: মুসলিম যুবকের ঘরে ঢুকে হেনস্তা, মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান

যোগী রাজ্যে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: মুসলিম যুবকের ঘরে ঢুকে হেনস্তা, মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান

ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনিরা কেবলই সমাধানযোগ্য সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় স্কুলগুলোতে ব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে আড়াল করা হচ্ছে। যেখানেই তাদের প্রসঙ্গ আসে, সেখানে ফিলিস্তিনিদের কোনো মানুষ বা স্বাধীন জাতি হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সমাধানযোগ্য সমস্যা’ এবং ‘অভ্যন্তরীণ হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং ২০০১ সালের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মর্যাদাপূর্ণ ‘শাখারভ পুরস্কার’ বিজয়ী মানবাধিকার কর্মী প্রফেসর ড. নূরিত পেলেড-এলহানান আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থার এই চরম বর্ণবাদী ও জায়নবাদী আগ্রাসী রূপের তথ্য উন্মোচন করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পাঠ্যপুস্তক নিয়ে গবেষণা করা ড. নূরিত পেলেড-এলহানান জানান, ইসরায়েলি স্কুলগুলোর শিক্ষা উপকরণগুলো কেবল সাধারণ কোনো পড়াশোনার বিষয় নয়, বরং এগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাতীয়তাবাদী উগ্র অহংকার তৈরি করার এবং ‘অন্যদের’ প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শিক হাতিয়ার। ‘প্যালেস্টাইন ইন ইসরায়েলি স্কুল বুকস: ইডিওলজি অ্যান্ড প্রোপাগান্ডা ইন এডুকেশন’ (ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিন: শিক্ষায় আদর্শ ও প্রোপাগান্ডা) গ্রন্থের এই লেখিকা জানান, তিনি মূলত ইসরায়েলের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় স্কুলগুলোতে পড়ানো মূল ধারার পাঠ্যপুস্তকগুলোর ওপরই তাঁর এই গবেষণাটি চালিয়েছেন।ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব অস্বীকার ও কেবল ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনগবেষণার সবচেয়ে ভয়াবহ ও উল্লেখযোগ্য দিকটি তুলে ধরে ড. পেলেড-এলহানান বলেন, “ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য করে রাখা হয়েছে। ইসরায়েলিদের মনস্তত্ত্বে, সামাজিক আলোচনায় কিংবা সংস্কৃতিতে ফিলিস্তিনিদের কোনো অস্তিত্ব বা প্রতিনিধিত্ব নেই। যদি কখনো তাদের কথা উল্লেখ করাও হয়, তবে তা কেবলই একটি ‘সমস্যা’, ‘ভেতরের শত্রু’ অথবা ‘সমাধানযোগ্য একটি আপদ’ হিসেবে দেখানো হয়।”তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পাঠ্যপুস্তকগুলো ফিলিস্তিনি সমাজের ব্যক্তিমানুষের পরিচয়কে পুরোপুরি মুছে দিয়েছে। ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা কোনোদিন ফিলিস্তিনি লেখক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ বা শিক্ষাবিদদের সম্পর্কে জানতে পারে না। তাদের একটি সমজাতীয় বা একরোখা গোষ্ঠী হিসেবে দেখানো হয়। তিনি বলেন, “সেখানে কোনো ব্যক্তিমানুষ নেই। ফিলিস্তিনিদের কোনো সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয় সেখানে দেওয়া হয় না, যেন তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।”প্রফেসর পেলেড-এলহানান ব্যাখ্যা করেন, এটি কেবল তথ্যের অভাব বা অজ্ঞতা তৈরি করছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের ‘মানুষ’ হিসেবে দেখার অনুভূতিটাই ইসরায়েলি শিশুদের মন থেকে কেড়ে নিচ্ছে এবং তাদের কেবল একটি বিমূর্ত ‘নিরাপত্তা সমস্যা’ হিসেবে রূপান্তর করছে। এই অমানবিক শিক্ষাই বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি সৈন্যদের নৃশংস সহিংসতাকে তাদের সমাজে বৈধতা দিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালানো এক ইসরায়েলি সেনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “পশ্চিম তীরের এক সেনা আমাকে বলেছিল— ‘আপনারাই তো আমাদের শিখিয়েছেন যে ফিলিস্তিনিরা হলো সমাধানযোগ্য সমস্যা। আমরা এখন সেই সমস্যারই সমাধান করছি।’ এটাই হলো তাদের শিক্ষা। সবকিছুই শিক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। শুধু পাঠ্যপুস্তকই নয়, পরিবার, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং কিন্ডারগার্টেন থেকে শিশুদের যে গানগুলো শেখানো হয়, তার সবই এই ঘৃণার রাজনীতির অংশ।”মানচিত্রে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’—মুছে ফেলা হয়েছে ফিলিস্তিনড. পেলেড-এলহানান আরও জানান, পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহৃত মানচিত্রগুলোতেও একই চরমপন্থী জায়নবাদী ও বর্ণবাদী আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে। এই মানচিত্রগুলো শুধু স্কুলেই নয়, হাসপাতাল এবং ব্যাংকের মতো পাবলিক প্লেস বা জনসমক্ষেও ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, “আপনি যদি ইসরায়েলের কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ব্যাংকে যান, তবে একই মানচিত্র দেখতে পাবেন। এটিই সেই মানচিত্র যাকে তারা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ (Greater Israel) বলে ডাকে।”এই মানচিত্রগুলোতে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এর বিপরীতে ফিলিস্তিনি বা আরব শহর ও গ্রামগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে। এই পরিস্থিতি শিশুদের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার ক্ষমতাকে সরাসরি বিকৃত করছে। ড. পেলেড-এলহানান বলেন:“ইসরায়েলি সীমানার ভেতরেও কোনো আরব শহর বা গ্রামের নাম মানচিত্রে রাখা হয়নি। অথচ পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইহুদি বসতিগুলোর প্রতিটি মানচিত্রে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি শিশুরা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে ফিলিস্তিনিরাই আসলে বহিরাগত দখলদার! তারা ভাবে, ‘এই ভূমি আমাদের আর ফিলিস্তিনিরা এটি দখল করে রেখেছে।’ ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে কিছু ‘নতুন ঐতিহাসিক’ পাঠ্যপুস্তকে দেইর ইয়াসিন ও কাফর কাসিমের মতো ভয়াবহ ফিলিস্তিনি গণহত্যাগুলোকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলের মূল বয়ান তাতে মোটেও বদলায়নি। এমনকি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনিদের ‘ফিলিস্তিনি’ নামেও ডাকা হয় না, এর পরিবর্তে অনবরত ‘ইসরায়েলি আরব’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে ঘটে যাওয়া গণহত্যাগুলোর কথা কোথাও কোথাও উল্লেখ থাকলেও, অধ্যায়ের শেষে সবসময় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ বা হত্যার ফলাফলকে ইসরায়েলিদের জন্য ‘ইতিবাচক ও ভালো’ হিসেবে দেখানো হতো। উদাহরণস্বরূপ, দেইর ইয়াসিন গণহত্যার বিবরণে লেখা রয়েছে— এই গণহত্যার ফলে আরবরা তাদের নিজেদের জমি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল, যা ইসরায়েলের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি ছিল!”ভয় ও ট্রমার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থাহিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক প্রফেসরের মতে, ইসরায়েলের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি এখন আর শুধু জায়নবাদ নয়, বরং তা হলো ‘হলোকাস্ট’ (Holocaust)-এর ভয়। হলোকাস্টের ইতিহাস শিক্ষা দেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক সত্য জানার চেয়ে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য বেশি কাজ করে। তিনি বলেন, “শিশুদের প্রতি বছর মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড (আঘাতপ্রাপ্ত) করার জন্য এটি শেখানো হয়। তাদের বোঝানো হয় যে পুরো পৃথিবীই ইহুদি-বিদ্বেষী (antisemitic) এবং তাদের জন্য একমাত্র নিরাপদ স্থান হলো ইসরায়েল।”শিক্ষকদের নির্দেশিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর কোমলমতি শিশুদেরও শেখানো হয় যে, অতীতে ইহুদিদের কোনো রাষ্ট্র এবং নিজস্ব সেনাবাহিনী ছিল না বলেই তাদের হলোকাস্টের শিকার হতে হয়েছিল। এই শিক্ষা শিশুদের মধ্যে অনবরত একটি অদৃশ্য হুমকির ভয় তৈরি করে রাখে। এর স্বাভাবিক পরিণতি হলো ‘আমরা’ এবং ‘ওরা’ (বিজাতীয়)—এই চরম বিভাজন। ড. পেলেড-এলহানান বলেন, “এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একদল মানুষ তৈরি করা, যারা নিজেদের গোষ্ঠী ছাড়া অন্য সবাইকে ভয় পাবে এবং ঘৃণা করবে। ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা প্রধান গোষ্ঠীটি হলো পূর্ব ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আশকেনাজি ইহুদি। এরা ছাড়া বাকি সবাইকে—তা সে অন্য কোনো জাতির মানুষ হোক বা আরব ইহুদি—সবাইকে হয় অবজ্ঞা করা হয়, উপহাস করা হয় অথবা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়।” আরব ইহুদি (মিজরাহি) এবং ইথিওপীয় ইহুদিদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকেও একইভাবে ইসরায়েলি পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।গাজায় চলমান গণহত্যাকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখানোর আগাম প্রস্তুতিবর্তমানে গাজায় বিশ্ববাসীর চোখের সামনে লাইভ সম্প্রচার হওয়া ভয়াবহ গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. পেলেড-এলহানান অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, “আজ গাজায় একটি লাইভ গণহত্যা ঘটছে। কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এটিকে এখনই তাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘মহান বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য ছক কষে ফেলেছে। তারা এটিকে অতীতে ঘটে যাওয়া হলোকাস্টের সাথে যুক্ত করে সমাজে এই বয়ান তৈরি করছে যে— ‘আমরা আবারো হুমকির মুখে পড়েছিলাম, আমাদের আবারো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আর আমাদের বীর সেনাবাহিনী আপনাদের সবাইকে রক্ষা করেছে।’”পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইউরোপের রাজনৈতিক ও একাডেমিক মহল ইসরায়েলের এই চরম বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। অথচ ফিলিস্তিনিদের পাঠ্যপুস্তককে টার্গেট করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে যে অপপ্রচার চালায়, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ছিল প্রকৃত একাডেমিক গবেষণাগুলোকে আমলে নেওয়া। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ফিলিস্তিনি পাঠ্যপুস্তকগুলো সরাসরি ইসরায়েল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তীব্র সেন্সরশিপের শিকার হচ্ছে। এমনকি ইসরায়েলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্ব জেরুজালেমে পড়ানো ফিলিস্তিনি স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রমেও সরাসরি হস্তক্ষেপ ও তা বিকৃত করছে।

ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনিরা কেবলই সমাধানযোগ্য সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি