সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।১৫ মার্চ, সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের '১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি'র আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতা তৈরি করা।মন্ত্রী জানান, বড় পরিসরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি। কওমি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী 'কিরাত' বা কোরআন তেলাওয়াতে অত্যন্ত দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে সরকার যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে এই সনদ-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই উদ্যোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। তিনি বলেন, "ধর্মীয় শিক্ষা শুধু ইসলাম ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।" অর্থাৎ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।আলোচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর আগে সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী গত দেড় দশকে শিক্ষার গুণগত মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো ছিল।সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে প্রাথমিক স্তরেই শিশুরা নিজ নিজ ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ নিয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

মন্দিরের পথ প্রশস্তের অজুহাতে উচ্ছেদ: বুলডোজারের নিচে পিষ্ট মুসলিম জনপদ

মন্দিরের পথ প্রশস্তের অজুহাতে উচ্ছেদ: বুলডোজারের নিচে পিষ্ট মুসলিম জনপদ

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ: আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ: আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ইউনেস্কোতে প্রথমবারের মতো পালিত হলো আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস

ইউনেস্কোতে প্রথমবারের মতো পালিত হলো আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস

ঢাকা-আঙ্কারা কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার: জাতিসংঘে বাংলাদেশকে সমর্থন

ঢাকা-আঙ্কারা কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার: জাতিসংঘে বাংলাদেশকে সমর্থন

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

বিজিবিতে আযান ও ক্বেরাত প্রতিযোগিতা: বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন মহাপরিচালক

বিজিবিতে আযান ও ক্বেরাত প্রতিযোগিতা: বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন মহাপরিচালক

রমজানের শেষ জুমাতেও আল-আকসায় নামাজে বাধা দিল ইসরায়েল

রমজানের শেষ জুমাতেও আল-আকসায় নামাজে বাধা দিল ইসরায়েল

শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা’র নামাজে নিষেধাজ্ঞা

শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমাতুল বিদা’র নামাজে নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র রমজানে মসজিদে অগ্নিসংযোগ: ইতিকাফে থাকা মুসল্লিরা অল্পের জন্য রক্ষা

পবিত্র রমজানে মসজিদে অগ্নিসংযোগ: ইতিকাফে থাকা মুসল্লিরা অল্পের জন্য রক্ষা

মন্দিরের পথ প্রশস্তের অজুহাতে উচ্ছেদ: বুলডোজারের নিচে পিষ্ট মুসলিম জনপদ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক মুসলিম প্রধান জনপদ ‘দালমন্ডি’ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার মুখে। কাশী বিশ্বনাথ ধাম মন্দিরের পথ প্রশস্ত করার অজুহাতে সরকার পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে শত শত বছরের স্মৃতি, জীবিকা এবং ধর্মীয় স্থাপনা বিপন্ন। উন্নয়নের নামে এই বুলডোজার নীতি স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিয়েছে।বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কাশী বিশ্বনাথ ধামের পথ প্রশস্ত করার জন্য এই ২২৪ কোটি রুপির প্রকল্পটি অপরিহার্য। বারাণসী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মতে, দালমন্ডির রাস্তা ১৭.৪ মিটার চওড়া করা হলে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সহজতর হবে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি প্রায় ৩০টিরও বেশি স্থাপনাকে ‘ঝরঝর’ বা ‘অনিরাপদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিন দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।সরকার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, বরং শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ। তবে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় এবং দোকানদার আজমতের আত্মাহুতির চেষ্টার ঘটনাকে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।বারাণসীর হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত দালমন্ডি মূলত একটি মুসলিম অধ্যুষিত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১৮০টি দোকান, ঘরবাড়ি এবং ৬টি প্রাচীন মসজিদ উচ্ছেদের তালিকায় রয়েছে।সাবেক মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর নাগমি সুলতানের মতো অনেক বাসিন্দা তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে গড়া ঘরবাড়ি হারানোর শোকে স্তব্ধ। আদিল খানের মতো যুবকরা জেল থেকে ফিরে দেখছেন তাদের ছাদ অর্ধেকটা বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই উচ্ছেদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারগুলো। ৭০ বছরের পুরনো ‘তাজ হোটেল’ থেকে শুরু করে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর স্মৃতিবিজড়িত গলিগুলো এখন ধ্বংসের প্রতীক্ষায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালের পুরনো রেটে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং ভাড়াটেদের জন্য কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।বারাণসী জেলা আদালতের আইনজীবী রাজেন্দ্র পাণ্ডের মতে, ‘অনিরাপদ’ ভবনের অজুহাতটি একটি আইনি ফাঁক মাত্র। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আরিফ মোহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, দালমন্ডির ইতিহাস গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির ধারক ছিল, যা এখন সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির শিকার হচ্ছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, যেকোনো উচ্ছেদের আগে যথাযথ পুনর্বাসন এবং নাগরিকের সম্মতির প্রয়োজন। ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নের সুফল যদি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বাস্তুচ্যুত করে অর্জিত হয়, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। মুসলিম জনপদের রাজনৈতিক ভোটাধিকার খর্ব করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

মন্দিরের পথ প্রশস্তের অজুহাতে উচ্ছেদ: বুলডোজারের নিচে পিষ্ট মুসলিম জনপদ