বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ: ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ: ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস

আজ ১০ মে। উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৫৭ সালের এই দিনে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ সূচিত হয়, যা ইতিহাসে “সিপাহী বিদ্রোহ”, “মহাবিদ্রোহ” কিংবা “প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ” নামে পরিচিত।এই বিদ্রোহ কেবল সামরিক অসন্তোষ ছিল না; বরং এটি ছিল ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উপমহাদেশের মানুষের প্রথম বৃহৎ সম্মিলিত প্রতিরোধ।বিদ্রোহের সূচনা১৮৫৭ সালের ১০ মে উত্তর ভারতের মীরাটে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির সৈনিক মঙ্গল পান্ডের ঘটনা উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।ঐতিহাসিকদের মতে, এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ হিন্দু ও মুসলিম উভয় সিপাহীর ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানে। মুসলিম সৈন্যদের জন্য শূকরের চর্বি এবং হিন্দু সৈন্যদের জন্য গরুর চর্বি ব্যবহার ছিল ধর্মীয় অবমাননার শামিল। এই ঘটনাই বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তবে এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শোষণ, কৃষকদের ওপর নির্যাতন, দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ধর্মীয়-সামাজিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ।বিদ্রোহ দ্রুত দিল্লি, কানপুর, লক্ষ্ণৌ, ঝাঁসি, বিহার, আওধসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ-কে প্রতীকী নেতা ঘোষণা করা হয়।বাংলায় সিপাহী বিদ্রোহের প্রভাবঅনেকেই মনে করেন ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ কেবল উত্তর ভারতকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক দলিল বলছে, বাংলাও এই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর, রংপুর, পাবনা ও দিনাজপুরসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের ঘটনা ঘটে।চট্টগ্রামে হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে বিদ্রোহ১৮৫৭ সালের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির দেশীয় সৈন্যরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন হাবিলদার রজব আলী খান।ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, বিদ্রোহী সিপাহীরা অস্ত্রাগার ও ট্রেজারি দখল করেন, কারাগার ভেঙে বন্দীদের মুক্ত করেন এবং ব্রিটিশ প্রশাসনকে কার্যত অচল করে দেন। আতঙ্কে ব্রিটিশ সেনারা সমুদ্রের জাহাজে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। চট্টগ্রাম প্রায় ৩০ ঘণ্টার জন্য ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে বিদ্রোহী সিপাহীরা ত্রিপুরা ও সিলেট সীমান্তের দিকে সরে যান। ব্রিটিশ বাহিনী ও তাদের সহযোগী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষে বহু সিপাহী শহীদ হন। ১৮৫৮ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান করিমগঞ্জ অঞ্চলের মালেগড়ের যুদ্ধে বিদ্রোহীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন।আলেম সমাজ ও মুজাহিদদের ভূমিকা১৮৫৭ সালের আন্দোলনে মুসলিম আলেম ও মুজাহিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বহু ঐতিহাসিক গবেষণা রয়েছে। বিশেষত শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর চিন্তাধারা এবং Syed Ahmad Barelvi-এর তরিকায় অনুপ্রাণিত বহু আলেম ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার আলেম সমাজের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়। বহু আলেমকে গ্রেফতার, নির্বাসন কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।যাদের নাম ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাদের মধ্যে রয়েছেন:হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহ.) মাওলানা ফজলে হক খয়রাবাদী (রহ.)মাওলানা মুহাম্মাদ জাফর থানেশ্বরী (রহ.)  অনেক আলেমকে আন্দামানে নির্বাসিত করা হয়। আবার অসংখ্য মানুষকে কামানের মুখে বেঁধে হত্যা করা হয়, যা ব্রিটিশ দমননীতির অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের রক্তাক্ত স্মৃতিপুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক ১৮৫৭ সালের স্মৃতিবাহী এক ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বহু সিপাহী ও সাধারণ মানুষকে এখানে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।ঐতিহাসিক বিবরণে জানা যায়, বিদ্রোহ দমনের পর ঢাকার এই এলাকায় দিনের পর দিন ফাঁসিকৃতদের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা যায়। পরবর্তীতে এই স্থানটি বাহাদুর শাহ জাফরের নামানুসারে “বাহাদুর শাহ পার্ক” নামে পরিচিতি পায়।বিদ্রোহের ফলাফলযদিও ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ সামরিকভাবে সফল হয়নি, তবে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।এই বিদ্রোহের পর:১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটেভারত সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অধীনে চলে যায়সেনাবাহিনী ও প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়ব্রিটিশ সরকার ধর্মীয় বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক নীতি গ্রহণে বাধ্য হয়উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়ঐতিহাসিকদের মতে, ১৮৫৭-এর মহাবিদ্রোহ পরবর্তী সকল স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যায় না১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ছিল উপমহাদেশের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রথম বৃহৎ সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনে সৈনিক, আলেম, কৃষক, সাধারণ মানুষ সবাই কোনো না কোনোভাবে অংশ নিয়েছিলেন।আজকের দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল শহীদ, মুজাহিদ, আলেম ও বীর সংগ্রামীদের, যাদের আত্মত্যাগ উপমহাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।আল্লাহ তাআলা তাদের শাহাদাত কবুল করুন এবং আমাদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফিক দান করুন।
১০ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ: ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ: ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস

হিজাব পরার কারণে প্রথম কর্মদিবসেই মুসলিম শিক্ষিকাকে স্কুল ত্যাগের নির্দেশ

হিজাব পরার কারণে প্রথম কর্মদিবসেই মুসলিম শিক্ষিকাকে স্কুল ত্যাগের নির্দেশ

আলজেরিয়ায় ফরাসি বাহিনীর ৪৫ হাজার মানুষকে হত্যার ৮১ বছর: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ

আলজেরিয়ায় ফরাসি বাহিনীর ৪৫ হাজার মানুষকে হত্যার ৮১ বছর: শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ

মুসলমানদের খাবার দেব না বলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির থালা কেড়ে নিলেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান

মুসলমানদের খাবার দেব না বলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির থালা কেড়ে নিলেন হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান

পুলিশের গাড়ির সামনে বেঁধে নির্যাতন: গুজরাটে গরু জবাইয়ের অভিযোগে নৃশংসতা

পুলিশের গাড়ির সামনে বেঁধে নির্যাতন: গুজরাটে গরু জবাইয়ের অভিযোগে নৃশংসতা

বিশ্বে একই দিনে ঈদ পালনের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী: খতিব মুফতি আব্দুল মালেক

বিশ্বে একই দিনে ঈদ পালনের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী: খতিব মুফতি আব্দুল মালেক

দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম নিপীড়ন: ৫তম আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্কৃতি সম্মেলনে উদ্বেগের সুর

দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম নিপীড়ন: ৫তম আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্কৃতি সম্মেলনে উদ্বেগের সুর

গাজায় থমকে গেছে শৈশব: পাঠ্যবইয়ের বদলে শিশুদের হাতে এখন পানির ভারী গ্যালন

গাজায় থমকে গেছে শৈশব: পাঠ্যবইয়ের বদলে শিশুদের হাতে এখন পানির ভারী গ্যালন

ভারতে প্রবীণ মুসলিম হকারকে মারধর ও লুটপাট: সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও ‘পাকিস্তান যা’ বলে হুমকি

ভারতে প্রবীণ মুসলিম হকারকে মারধর ও লুটপাট: সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও ‘পাকিস্তান যা’ বলে হুমকি

ইসরায়েলি হামলায় খলিল আল-হাইয়ার চতুর্থ সন্তানের মৃত্যু: আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা হামাস নেতার

ইসরায়েলি হামলায় খলিল আল-হাইয়ার চতুর্থ সন্তানের মৃত্যু: আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা হামাস নেতার

হিজাব পরার কারণে প্রথম কর্মদিবসেই মুসলিম শিক্ষিকাকে স্কুল ত্যাগের নির্দেশ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এক মুসলিম শিক্ষিকাকে তাঁর কর্মজীবনের প্রথম দিনেই হিজাব পরার কারণে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সামরিন বানো নামের ওই শিক্ষিকার দাবি, কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁকে পেশাগত ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য ও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই ঘটনাটি ভারতের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।বারাণসীর লাথো এলাকার 'বুদ্ধ পাবলিক স্কুল'-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সামরিন বানো। কিন্তু নিয়োগের সময় কোনো শর্ত না থাকলেও, প্রথম দিন স্কুলে পা রাখতেই বাধে বিপত্তি। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে হলে তাঁকে হিজাব খুলে ফেলতে হবে, অথবা স্কুল ত্যাগ করতে হবে।সামরিন বানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় তাঁর এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁর হিজাব নিয়ে আপত্তি তোলেন। অথচ ইন্টারভিউ বা নিয়োগের সময় এমন কোনো নিয়মের কথা জানানো হয়নি। সামরিনের মতে, এটি ভারতীয় সংবিধানের ২৫ এবং ১৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।সামরিন বলেন, "বর্তমান সময়ে একজন মুসলিম শিক্ষিকার পক্ষে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সর্বত্র এক ধরণের ঘৃণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, মুসলিম শিক্ষিকার কাছে সন্তানকে পড়ানো যাবে না।" তিনি আক্ষেপ করে জানান, অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসরুমে ঢোকার পর শিক্ষার্থীরাও মুসলিম শিক্ষকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, কারণ তাদের মনে ছোটবেলা থেকেই এক ধরণের ভয় বা কুসংস্কার ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে স্কুল ব্যবস্থাপনার এক সদস্যকে সামরিনকে চলে যেতে বলতে শোনা যায়। সামরিন যখন যুক্তি দেন যে, অন্য শিক্ষিকারাও সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র পরে তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করছেন, তখন কর্তৃপক্ষ উত্তর দেয়— "এটি সমতার বিষয়। আপনার যদি এখানে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়, তবে আপনি চলে যান। যেখানে আপনার সুবিধা হয় সেখানে যান।"সামরিন বানোর এই আর্তনাদ ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার আঙিনায় ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।

হিজাব পরার কারণে প্রথম কর্মদিবসেই মুসলিম শিক্ষিকাকে স্কুল ত্যাগের নির্দেশ