আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সম্মানিত খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু এলাকায় এই সম্মানী প্রদান করা হবে।"তবে সম্মানীর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে এই ভাতার পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।সম্মানী ভাতার পাশাপাশি বৈঠকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন সরকারি ও বেসরকারি চাকুরির সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে অফিস করেন তারেক রহমান। সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দিনভর তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, ক্যারিয়ারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা এবং ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।বৈঠকে স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।