বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক

দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোলা ধর্মান্তরকরণ ও জোরপূর্বক নামাজ পড়ানোর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অবশেষে উচ্চপর্যায়ের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সম্মানজনকভাবে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে।ব্যক্তিগত পোশাক-আশাক এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন মথুরার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদ। দীর্ঘ ১৯ বছর একই স্কুলে অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করার পর, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও রাষ্ট্রগান অবমাননার গুরুতর কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ জানুয়ারি। স্থানীয় বিজেপি নেতা দুর্গেশ প্রধান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (BSA) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, জান মোহাম্মদ স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নামাজ পড়ান এবং হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধা দেন এবং বহিরাগতদের এনে শিশুদের মগজধোলাই করেন।অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ৩১ জানুয়ারি কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়াই মথুরার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কীর্তি প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রশাসনের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।বরখাস্তের পর শিক্ষা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে দেখা যায়:স্কুলের ২৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু, এবং ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে জান মোহাম্মদ ছাড়া বাকি ৭ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।সহকর্মী হিন্দু শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, দীর্ঘ ১৯ বছরে জান মোহাম্মদ কখনোই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াননি বরং তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং পেশাদার।স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জোরপূর্বক নামাজ পড়ানো বা জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার কোনো প্রমাণ নেই।শিক্ষার্থীরা সরাসরি জানায়, তাদের কোনো প্রকার ধর্মীয় পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়নি।তদন্ত প্রতিবেদনে জান মোহাম্মদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দাড়ি-টুপি এবং কুর্তা-পায়জামা পরার কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি আদেশে তাঁর ওপর থেকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেলেও, সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৭ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা, আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান হেফাজত আমিরের

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস: সুফফা থেকে আধুনিক কওমী মাদরাসা

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

বরিশালে কওমি শিক্ষা প্রসারে সুফি আরেফ আলী মুনশী রহ.

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

মহিমান্বিত শাবান ও শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদের করুণ মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার হলো সমাপ্তি

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদের করুণ মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার হলো সমাপ্তি

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহা সম্মেলন সফল করার আহ্বান চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহা সম্মেলন সফল করার আহ্বান চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের

দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক

দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক

এখানেই জন্মেছি, এখানেই দাফন হব: নাগরিকত্ব ত্যাগ ও বৈষম্য নিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানি

এখানেই জন্মেছি, এখানেই দাফন হব: নাগরিকত্ব ত্যাগ ও বৈষম্য নিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানি

লিবিয়ায় সশস্ত্র হামলায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল ইসলাম নিহত

লিবিয়ায় সশস্ত্র হামলায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল ইসলাম নিহত

মানুষ যখন ‘মানুষ’ হিসেবে অবহেলিত: ভবঘুরে জীবনের করুণ আর্তনাদ

মানুষ যখন ‘মানুষ’ হিসেবে অবহেলিত: ভবঘুরে জীবনের করুণ আর্তনাদ

ছত্তিশগড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: মুসলিমদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর

ছত্তিশগড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: মুসলিমদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর

গাজায় ফিরতেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত ফিলিস্তিনি নারী: শিশুর হাতের খেলনাও কেড়ে নিচ্ছে

গাজায় ফিরতেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত ফিলিস্তিনি নারী: শিশুর হাতের খেলনাও কেড়ে নিচ্ছে

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

সাম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে সম্প্রীতির অনন্য নজির: মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ালেন হিন্দু যুবক

সাম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে সম্প্রীতির অনন্য নজির: মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ালেন হিন্দু যুবক

রাফাহ সীমান্ত খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে যাতায়াত

রাফাহ সীমান্ত খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে যাতায়াত

জামায়াতের সাথে জোটের পথ এখনো খোলা, তবে শর্ত ‘একটাই’: মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ

জামায়াতের সাথে জোটের পথ এখনো খোলা, তবে শর্ত ‘একটাই’: মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ

দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোলা ধর্মান্তরকরণ ও জোরপূর্বক নামাজ পড়ানোর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অবশেষে উচ্চপর্যায়ের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সম্মানজনকভাবে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে।ব্যক্তিগত পোশাক-আশাক এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন মথুরার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদ। দীর্ঘ ১৯ বছর একই স্কুলে অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করার পর, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও রাষ্ট্রগান অবমাননার গুরুতর কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ জানুয়ারি। স্থানীয় বিজেপি নেতা দুর্গেশ প্রধান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (BSA) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, জান মোহাম্মদ স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নামাজ পড়ান এবং হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধা দেন এবং বহিরাগতদের এনে শিশুদের মগজধোলাই করেন।অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ৩১ জানুয়ারি কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়াই মথুরার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কীর্তি প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রশাসনের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।বরখাস্তের পর শিক্ষা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে দেখা যায়:স্কুলের ২৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু, এবং ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে জান মোহাম্মদ ছাড়া বাকি ৭ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।সহকর্মী হিন্দু শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, দীর্ঘ ১৯ বছরে জান মোহাম্মদ কখনোই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াননি বরং তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং পেশাদার।স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জোরপূর্বক নামাজ পড়ানো বা জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার কোনো প্রমাণ নেই।শিক্ষার্থীরা সরাসরি জানায়, তাদের কোনো প্রকার ধর্মীয় পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়নি।তদন্ত প্রতিবেদনে জান মোহাম্মদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দাড়ি-টুপি এবং কুর্তা-পায়জামা পরার কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি আদেশে তাঁর ওপর থেকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেলেও, সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

দাড়ি-টুপি পরায় মিথ্যা অভিযোগ: নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে স্বপদে ফিরলেন মুসলিম প্রধান শিক্ষক