ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিশেষ পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ইসরায়েলি পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ সফর করবে। দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ (IPS) ইতিমধ্যেই একটি ডেডিকেটেড ‘এক্সিকিউশন কমপ্লেক্স’ বা ফাঁসি মঞ্চ তৈরির প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১৩'-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, তেল আবিব প্রশাসন ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। যদিও পূর্ব এশিয়ার কোন দেশটিতে এই প্রতিনিধি দল যাচ্ছে তা নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে, তবে উদ্দেশ্য স্পষ্ট—কিভাবে পেশাদারিত্বের সাথে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় তার হাতেকলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে:একটি বিশেষায়িত মৃত্যুদণ্ড কেন্দ্র স্থাপন।প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি।যদি ফাঁসি কার্যকর করার পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়, তবে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে তিনজন ব্যক্তি একসাথে বোতাম টিপবেন, যাতে নির্দিষ্টভাবে কার চাপে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তা অস্পষ্ট থাকে।মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলগুলো স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠিত হবে এবং চূড়ান্ত রায়ের ৯০ দিনের মধ্যে দণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।ইসরায়েলি সূত্রমতে, এই আইনটি মূলত ৭ অক্টোবরের হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হামাসের ইজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডের সদস্যদের ওপর প্রথম প্রয়োগ করা হবে। পরবর্তীতে পশ্চিম তীরে বড় ধরনের হামলার অভিযোগে দণ্ডিত বন্দিদেরও এই আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির এই পদক্ষেপকে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি লিখেন, "ফাঁসি, বৈদ্যুতিক চেয়ার, বিষাক্ত ইনজেকশন কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াড—পদ্ধতি যাই হোক না কেন, তারা কেবল একটি জিনিসই প্রাপ্য: মৃত্যু।"বেন-গাভিরের দল 'জুয়িশ পাওয়ার' কর্তৃক উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, যারা বর্ণবাদী বা ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি নাগরিকদের হত্যা করবে, তাদের বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকি এই বিলে সামরিক আদালতকে প্রচলিত আইনি প্রমাণের কঠোর নিয়ম থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।