ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় এক মুসলিম ইমামকে একদল উগ্রপন্থী ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান 'জয় শ্রী রাম' দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ইমাম হাফিজ কাসাম নামাজ পড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই হেনস্থার শিকার হন। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠানের জোরদার হস্তক্ষেপে পুলিশ এই ঘটনায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অভিযুক্তের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামনে এসেছে।ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও হেনস্থার ঘটনা থামছেই না। সর্বশেষ এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার যাওয়াল তালুকার মারুল গ্রামে।ভুক্তভোগী ধর্মীয় নেতা হাফিজ কাসাম পারোলা গ্রামে নামাজ পড়ানোর জন্য গিয়েছিলেন। নামাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে করে নিজের গ্রামে ফেরার পথে চার থেকে পাঁচজন উগ্রপন্থী যুবক তাকে মাঝরাস্তায় পথরোধ করে। তারা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক "জয় শ্রী রাম" স্লোগান দিতে বাধ্য করে। উগ্রপন্থীরা এই পুরো হেনস্থার ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করে এবং পরবর্তীতে মুসলিম সম্প্রদায়কে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অপমান করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জলগাঁও জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং এই সাম্প্রদায়িক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ওয়ারিস পাঠানের অনড় অবস্থানের কারণে পুলিশ ভুক্তভোগী ইমামের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (FIR) গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।পুলিশি তৎপরতা শুরু হতেই ভীতি ছড়িয়ে পড়ে উগ্রবাদী শিবিরে। মামলা দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে মূল অভিযুক্তদের একজনকে হাত জোড় করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বর্তমান ভারতে মুসলিম ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও সাধারণ শ্রমিকদের টার্গেট করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানো এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানো একটি বিপজ্জনক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় আইনি প্রতিরোধের মুখে অপরাধীদের পিছু হটার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে আওয়াজ তুললে উগ্রপন্থাকে দমন করা সম্ভব।