সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

১০৪তম বিজয় দিবসে এরদোগানের দৃঢ় অঙ্গীকার: বিশ্বজুড়ে মজলুমদের পাশে থাকবে তুরস্ক

ঐতিহাসিক মহান বিজয়ের ১০৪তম বার্ষিকীতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃপ্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়িপ এরদোগান। ৩০ আগস্ট রবিবার তুর্কি প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, "সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত নস্যাৎ করে প্রতিষ্ঠিত আজকের আধুনিক তুরস্ক নীতিগত অবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব ধরনের জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।"১৯২২ সালের ৩০ আগস্ট সংঘটিত ঐতিহাসিক 'ডুমলুপিনার যুদ্ধ'-এ দখলদার গ্রিক বাহিনীকে পরাজিত করে তুর্কি বাহিনী যে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল, তার ১০৪তম বার্ষিকী মহাসমারোহে উদযাপন করছে তুরস্ক। এই স্মরণীয় দিনটিতে তুর্কি জাতি, উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তুর্কি নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়িপ এরদোগান এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন।প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বার্তায় বলেন, "আজ আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে ১০৪তম 'মহা বিজয় দিবস' উদযাপন করছি, যা ইতিহাসের পাতায় 'সেনাপতির যুদ্ধ' (Battle of the Commander-in-Chief) নামে খ্যাত এবং যা আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।" তিনি আরও বলেন, এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এক হাজার বছর ধরে তুর্কি জাতি যে ভূমিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করে আসছে, তা তাদের চিরন্তন মাতৃভূমি। এই মহান বিজয় পুরো বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে, তুর্কি জাতি কখনো দাসত্ব বা পরাধীনতা মেনে নেবে না।তুরস্কের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে এরদোগান বলেন, ১০৪ বছর আগে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তুর্কি জাতি যে সাহসিকতা, সঙ্কল্প ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছিল, তা-ই আজ আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস। প্রাচীন তুর্কি প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "যতক্ষণ না মাথার ওপর নীল আকাশ ভেঙে পড়ছে এবং পায়ের নিচের কালো জমিন বিদীর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো শক্তি তুরস্ক ও তুর্কি জাতিকে তাদের এই ধন্য সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।"আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের নানা যুদ্ধ, সংঘাত ও চরম অস্থিরতার মাঝেও তুরস্ক তার নীতিগত, দৃঢ় এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতির কারণে আলাদা মর্যাদা লাভ করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেন, "আজ এমন এক তুরস্ক বিদ্যমান, যা কার ওপর জুলুম হচ্ছে তা না দেখে যেকোনো নিপীড়ন বন্ধে সচেষ্ট হয়, নির্যাতিত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন তার পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনে এই সত্যের লড়াইয়ে যেকোনো মূল্য দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।"বিশ্বে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলোর উসকানির মুখেও তুরস্ক ন্যায়বিচার, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অটল থাকবে বলে জানান তিনি। এরদোগান আরও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা শিল্প, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোতে তুরস্কের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সাফল্য দেশের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 'তুর্কি শতাব্দী' গঠনের যাত্রায় দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও মিত্র দেশগুলোর যে হৃদয় তুরস্কের আনন্দে উদ্বেলিত ও বেদনায় ব্যথিত হয়, তাদের প্রতিও তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

১০৪তম বিজয় দিবসে এরদোগানের দৃঢ় অঙ্গীকার: বিশ্বজুড়ে মজলুমদের পাশে থাকবে তুরস্ক