গাজায় চলমান গণহত্যা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগ মোড়ে “Community for Freedom and Justice” ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকার শাহবাগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা ইসরায়েলের হামলা ও অবরোধকে “নির্মম গণহত্যা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দমন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অথচ বিশ্ব নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন—“ফ্রম দ্যা রিভার টু দ্যা সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রী”, “লাব্বাইক ইয়া আকসা”, “ইন্তিফাদা জিন্দাবাদ”, “জায়োনবাদ নিপাত যাক, ফিলিস্তিন মুক্তিপাক” ইত্যাদি।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে। একজন মুসলিম এবং একজন মানুষ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণাকে বাংলাদেশের মানুষ গভীরভাবে অনুভব করে।
এদিকে মানববন্ধনে বক্তারা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। বুধবার রাতের ওই অভিযানে ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে উঠে পড়ে জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে শত শত কর্মীকে আটক করে। রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ সৈন্যবেষ্টিত অবস্থায় এক জাহাজের ডেকে বসে আছেন। আটককৃতদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও রয়েছেন।
এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ৫৭ দেশের প্রায় ৫০০ মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী, আইনজীবী, ধর্মীয় নেতা ও নাবিক অংশ নিয়েছিলেন। তারা খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন, যা ছিল প্রতীকী সংহতির অংশ।
মানববন্ধনে রাজনৈতিক কর্মী ফারজানা লিপি বলেন, “ইসরায়েল সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। আজ পুরো গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
ছাত্ররাজনীতিবীদ বিএম কাউসার বলেন, “ফিলিস্তিনে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ না হলে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
অ্যাক্টিভিস্ট নাহিয়ান বলেন, “গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের হামলা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই গণহত্যা সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্ব নির্বিকার। জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব বিশ্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
অন্য বক্তারা বলেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন থামাতে বিশ্বব্যাপী বয়কট আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু ধর্মীয় নয়, মানবিক বিবেক থেকেই ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে হবে।
কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে বক্তারা আহ্বান জানান—গাজায় হত্যাযজ্ঞ ও অবরোধ বন্ধে বিশ্ব বিবেক যেন এখনই জাগ্রত হয়।

আপনার মতামত লিখুন