বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানবতাবাদী রুহি আখতার গাজা ফ্লোটিলায় যোগ দিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন; নৌকা ইসরায়েলি বাধার কারণে সাইপ্রাসে ফিরে আসে।

গাজা ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানবতাবাদী রুহি আখতার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজা ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানবতাবাদী রুহি আখতার

ব্রিটেনের নিউক্যাসল শহরের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুহি লরেন আখতার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন। তার লক্ষ্য গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা।

রুহি আখতার নর্থম্বারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস পরিচালনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী ও মানবতাবাদী কার্যক্রমে যুক্ত। তার যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে, যখন সিরীয় শিশু আয়লান কুরদি সমুদ্রপথে মৃত্যুর মর্মান্তিক ছবি তার জীবন বদলে দেয়।


গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফ্লোটিলার বিভিন্ন নৌকা বিশ্বের মানবতাবাদী কর্মী ও আন্দোলনকারীদের নিয়ে গাজামুখী অভিযান শুরু করে। রুহি আখতারও এই নৌকায় অংশ নেন। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনী নৌকাগুলোকে বাধা দেয়। আখতার জানিয়েছেন, তাদের নৌকা শেষ পর্যন্ত সাইপ্রাসে ফিরে আসে, কারণ নৌকায় থাকা কয়েকজন অংশগ্রহণকারী “উচ্চ ঝুঁকিতে” ছিলেন এবং দল চাইনি তারা আটক হোক।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রুহি বলেন, “মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং করিডর খোলার পরিবর্তে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী আমাদের আটক করেছে। আমরা শত শত সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছি এবং ধারণা করছি তারা আটক অবস্থায় রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, কিছু নৌকা এখনও গাজামুখী রয়েছে, একটি নৌকা সম্ভবত গাজার খুব কাছাকাছি।

রুহি আখতার ফ্লোটিলায় যোগ দেওয়ার আগে বলেন, “অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা কোনো বিকল্প নয়। বহুদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের খাদ্য, পানি, ভূমি ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই যাত্রা নীরব প্রতিবাদ নয়, এটি সংহতির ঘোষণা—একটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে বিশ্ব তাকিয়ে আছে।”

রুহির চাচা হাবিব রহমান, নিউক্যাসলের সাবেক লর্ড মেয়র ও স্বতন্ত্র কাউন্সিলর, বলেন, “আমার ভাতিজিকে নিয়ে আমি গর্বিত। তার সাহসিকতা মানবতা ও ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যদিও তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবে আমরা তার পাশে আছি। বিশ্বনেতাদের এখনই এগিয়ে আসা উচিত।”

রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস বিগত এক দশকে গ্রীস, লেবানন ও গাজায় হাজারো শরণার্থী পরিবারকে খাদ্য, পোশাক ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। সংগঠনটি নারীনেতৃত্বাধীন ও কমিউনিটি ভিত্তিক, যেখানে অনেক স্বেচ্ছাসেবক নিজেও বাস্তুচ্যুত।

বিষয় : গাজা ইসরায়েল বাংলাদেশি ফ্লোটিলা মানবিক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজা ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানবতাবাদী রুহি আখতার

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

ব্রিটেনের নিউক্যাসল শহরের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুহি লরেন আখতার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন। তার লক্ষ্য গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা।

রুহি আখতার নর্থম্বারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস পরিচালনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী ও মানবতাবাদী কার্যক্রমে যুক্ত। তার যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে, যখন সিরীয় শিশু আয়লান কুরদি সমুদ্রপথে মৃত্যুর মর্মান্তিক ছবি তার জীবন বদলে দেয়।


গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফ্লোটিলার বিভিন্ন নৌকা বিশ্বের মানবতাবাদী কর্মী ও আন্দোলনকারীদের নিয়ে গাজামুখী অভিযান শুরু করে। রুহি আখতারও এই নৌকায় অংশ নেন। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনী নৌকাগুলোকে বাধা দেয়। আখতার জানিয়েছেন, তাদের নৌকা শেষ পর্যন্ত সাইপ্রাসে ফিরে আসে, কারণ নৌকায় থাকা কয়েকজন অংশগ্রহণকারী “উচ্চ ঝুঁকিতে” ছিলেন এবং দল চাইনি তারা আটক হোক।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রুহি বলেন, “মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং করিডর খোলার পরিবর্তে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী আমাদের আটক করেছে। আমরা শত শত সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছি এবং ধারণা করছি তারা আটক অবস্থায় রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, কিছু নৌকা এখনও গাজামুখী রয়েছে, একটি নৌকা সম্ভবত গাজার খুব কাছাকাছি।

রুহি আখতার ফ্লোটিলায় যোগ দেওয়ার আগে বলেন, “অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা কোনো বিকল্প নয়। বহুদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের খাদ্য, পানি, ভূমি ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই যাত্রা নীরব প্রতিবাদ নয়, এটি সংহতির ঘোষণা—একটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে বিশ্ব তাকিয়ে আছে।”

রুহির চাচা হাবিব রহমান, নিউক্যাসলের সাবেক লর্ড মেয়র ও স্বতন্ত্র কাউন্সিলর, বলেন, “আমার ভাতিজিকে নিয়ে আমি গর্বিত। তার সাহসিকতা মানবতা ও ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যদিও তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবে আমরা তার পাশে আছি। বিশ্বনেতাদের এখনই এগিয়ে আসা উচিত।”

রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস বিগত এক দশকে গ্রীস, লেবানন ও গাজায় হাজারো শরণার্থী পরিবারকে খাদ্য, পোশাক ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। সংগঠনটি নারীনেতৃত্বাধীন ও কমিউনিটি ভিত্তিক, যেখানে অনেক স্বেচ্ছাসেবক নিজেও বাস্তুচ্যুত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত