আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে (এজেকে) চলমান সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ও জাম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভে সহিংসতায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার মুজাফফরাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, আমির মুকাম, রানা সানাউল্লাহ, রাজা পেরভেজ আশরাফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। অন্যদিকে জেএএসি-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আমজাদ আলী খান, শওকত নবাজ মির ও আনজুম জামান আওয়ান।
তবে শওকত নবাজ মির ঘোষণা দেন, সরকার মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পুনঃস্থাপন না করা পর্যন্ত আলোচনা চালানো সম্ভব নয়। এদিকে সরকারি প্রতিনিধি দল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন সম্ভব হবে। কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম বলেন, “আলোচনায় উভয় পক্ষই খোলামেলা মতামত দিয়েছে।”
এর আগে বুধবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হন বলে সরকারি সূত্র জানায়—যার মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও তিনজন পুলিশ সদস্য। তবে জেএএসি দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা ১১ জনের বেশি। চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ এড়িয়ে জনগণের ক্ষোভকে সম্মান জানাতে হবে।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে এজেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুজাফফরাবাদের দিকে বিক্ষোভকারীদের লং মার্চ অব্যাহত রয়েছে। কিছু স্থানে রাস্তা কেটে তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা এবং অবিলম্বে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া ইসলামাবাদে সংহতি সমাবেশেও পুলিশের লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কাশ্মীরের জন্য বহু প্রজন্মের ত্যাগ আছে, সমস্যার সমাধান রাস্তায় নয়, আলোচনার টেবিলে।”
বিষয় : পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে (এজেকে) চলমান সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ও জাম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভে সহিংসতায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার মুজাফফরাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, আমির মুকাম, রানা সানাউল্লাহ, রাজা পেরভেজ আশরাফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। অন্যদিকে জেএএসি-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আমজাদ আলী খান, শওকত নবাজ মির ও আনজুম জামান আওয়ান।
তবে শওকত নবাজ মির ঘোষণা দেন, সরকার মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পুনঃস্থাপন না করা পর্যন্ত আলোচনা চালানো সম্ভব নয়। এদিকে সরকারি প্রতিনিধি দল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন সম্ভব হবে। কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম বলেন, “আলোচনায় উভয় পক্ষই খোলামেলা মতামত দিয়েছে।”
এর আগে বুধবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হন বলে সরকারি সূত্র জানায়—যার মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও তিনজন পুলিশ সদস্য। তবে জেএএসি দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা ১১ জনের বেশি। চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ এড়িয়ে জনগণের ক্ষোভকে সম্মান জানাতে হবে।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে এজেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুজাফফরাবাদের দিকে বিক্ষোভকারীদের লং মার্চ অব্যাহত রয়েছে। কিছু স্থানে রাস্তা কেটে তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা এবং অবিলম্বে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া ইসলামাবাদে সংহতি সমাবেশেও পুলিশের লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কাশ্মীরের জন্য বহু প্রজন্মের ত্যাগ আছে, সমস্যার সমাধান রাস্তায় নয়, আলোচনার টেবিলে।”

আপনার মতামত লিখুন