বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বিসিবির উদ্যোগে মাদরাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালুর পরিকল্পনা; আলেম সমাজে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ

দ্বীনের দুর্গে ব্যাট-বলের আলোচনা: মাদরাসায় ক্রিকেট চালুর প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বীনের দুর্গে ব্যাট-বলের আলোচনা: মাদরাসায় ক্রিকেট চালুর প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি মাদরাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালুর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইন ও আলেম সমাজে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে শারীরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ইতিবাচক দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে মাদরাসা শিক্ষার মৌলিক চেতনার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন।

মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় ২৩টি স্থায়ী কমিটির প্রধান নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন এক আলোচ্য বিষয় উঠে আসে—মাদরাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালু করা। সভা শেষে জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “মাদরাসায় লাখ লাখ ছাত্র আছে। সেখান থেকেও যদি কিছু ক্রিকেটার উঠে আসে, আমরা তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাই। পরিকল্পনাটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

সূত্র জানায়, ১০ ওভারের ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তা মাগরিবের নামাজের আগে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগে আলেম সমাজের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মুফতী আবুল হাসান কাসেমী বলেন, “মাদরাসা কোনো খেলাঘর নয়, এটা দ্বীনের দুর্গ। বিসিবির এ পদক্ষেপ ইসলামী শিক্ষার পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করার এক সচেতন অপচেষ্টা।”

তিনি আরও বলেন, “যদি তরুণদের উন্নয়ন চান, তবে দ্বীনের জ্ঞান প্রচারে সাহায্য করুন, ক্রিকেটে নয়।”

অন্যদিকে, মুফতী মহিউদ্দীন কাসেমী মন্তব্য করেন, “মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাইলে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করুন। ক্রিকেট নয়, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানুষ গড়ুন।”

তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, যদি বিষয়টি শুধুমাত্র শারীরিক প্রশিক্ষণের অংশ হয়, তবে তা ক্ষতিকর নয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক টুর্নামেন্ট বা মূলধারার ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মাদরাসা শিক্ষার উদ্দেশ্য থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাওলানা আখতার হোসাইন কবিতার ছলে লিখেছেন,

“চেয়েছিলাম কওমি সনদের অধিকার,

বানিয়ে দিলো বাদ আসরের ক্রিকেটার।”

এ ঘটনায় দেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাবিদ মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, এই পদক্ষেপ ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক সমাজের মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষার নতুন এক বিতর্ক উসকে দেবে।

বিষয় : মাদরাসা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


দ্বীনের দুর্গে ব্যাট-বলের আলোচনা: মাদরাসায় ক্রিকেট চালুর প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি মাদরাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালুর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইন ও আলেম সমাজে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে শারীরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ইতিবাচক দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে মাদরাসা শিক্ষার মৌলিক চেতনার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন।

মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় ২৩টি স্থায়ী কমিটির প্রধান নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন এক আলোচ্য বিষয় উঠে আসে—মাদরাসা পর্যায়ে ক্রিকেট চালু করা। সভা শেষে জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “মাদরাসায় লাখ লাখ ছাত্র আছে। সেখান থেকেও যদি কিছু ক্রিকেটার উঠে আসে, আমরা তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাই। পরিকল্পনাটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

সূত্র জানায়, ১০ ওভারের ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তা মাগরিবের নামাজের আগে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগে আলেম সমাজের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মুফতী আবুল হাসান কাসেমী বলেন, “মাদরাসা কোনো খেলাঘর নয়, এটা দ্বীনের দুর্গ। বিসিবির এ পদক্ষেপ ইসলামী শিক্ষার পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করার এক সচেতন অপচেষ্টা।”

তিনি আরও বলেন, “যদি তরুণদের উন্নয়ন চান, তবে দ্বীনের জ্ঞান প্রচারে সাহায্য করুন, ক্রিকেটে নয়।”

অন্যদিকে, মুফতী মহিউদ্দীন কাসেমী মন্তব্য করেন, “মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাইলে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করুন। ক্রিকেট নয়, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানুষ গড়ুন।”

তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, যদি বিষয়টি শুধুমাত্র শারীরিক প্রশিক্ষণের অংশ হয়, তবে তা ক্ষতিকর নয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক টুর্নামেন্ট বা মূলধারার ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মাদরাসা শিক্ষার উদ্দেশ্য থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাওলানা আখতার হোসাইন কবিতার ছলে লিখেছেন,

“চেয়েছিলাম কওমি সনদের অধিকার,

বানিয়ে দিলো বাদ আসরের ক্রিকেটার।”

এ ঘটনায় দেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাবিদ মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, এই পদক্ষেপ ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক সমাজের মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষার নতুন এক বিতর্ক উসকে দেবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত