বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ব্যবসার আড়ালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

বাংলাদেশের বন্দরে ইসরাইলি ছায়া: ট্রাইডেন্ট শিপিংয়ের গোপন নেটওয়ার্কে জেডআইএমের উপস্থিতি


আমার দেশ
আমার দেশ পত্রিকা
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের বন্দরে ইসরাইলি ছায়া: ট্রাইডেন্ট শিপিংয়ের গোপন নেটওয়ার্কে জেডআইএমের উপস্থিতি

বাংলাদেশের শিপিং খাতে এক গোপন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে, যা বাণিজ্যের আড়ালে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জটিলতা তৈরি করছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ইসরাইলি শিপিং জায়ান্ট জেডআইএম ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড নামের একটি স্থানীয় কোম্পানি।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক কনটেইনার পরিবহন সংস্থা। কোম্পানিটি ইসরাইলের প্রধান শিপিং ব্র্যান্ড জেডআইএম-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে বলে নথিপত্রে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেডআইএমের ওয়েবসাইটেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাইডেন্টের নাম ও কর্মকর্তাদের ছবি প্রকাশিত আছে। এতে কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার ফারুবার আনোয়ারসহ আটজনের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফারুবার বাংলাদেশের শিপিং খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্য।

২০২৪ সালের নববর্ষ উদযাপনে ট্রাইডেন্টের অফিসে ইসরাইলি পতাকার রঙে সাজানো জেডআইএম লেখা কেক কাটার ঘটনাও বিতর্ক সৃষ্টি করে। যদিও বাংলাদেশ ও ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তারপরও এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলের শিপিং নেটওয়ার্ক কার্যত বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১২ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত “মার্চ ফর গাজা” সমাবেশের খবর ট্রাইডেন্টের ঢাকা অফিস থেকে সরাসরি জেডআইএমের সদর দপ্তর হাইফায় পাঠানো হয়। সেই ই-মেইলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

জেডআইএমের আঞ্চলিক প্রতিনিধি দোতান সার ওই মেইলের জবাব দেন এবং ইউএই-ভিত্তিক শিপিং বিশেষজ্ঞ বিবেক শর্মাসহ আরও কয়েকজনকে কপিতে রাখেন। বিষয়টি শুধু ব্যবসায়িক নয়, বরং কৌশলগত গোয়েন্দা যোগাযোগেরও ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাইডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুবার আনোয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থায় সক্রিয় থাকলে তা রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থি। বাংলাদেশের শিপিং ডেটা যেমন বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও সংবেদনশীল।

ইসরাইলি কোম্পানি জেডআইএম, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিপিং নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বহুবার রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েত ইতোমধ্যে জেডআইএমের জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বাংলাদেশে একই ধরনের নীরব নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়া নতুন এক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রশ্ন তৈরি করেছে, যার উত্তর এখনো মেলেনি।

বিষয় : শিপিং

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বাংলাদেশের বন্দরে ইসরাইলি ছায়া: ট্রাইডেন্ট শিপিংয়ের গোপন নেটওয়ার্কে জেডআইএমের উপস্থিতি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের শিপিং খাতে এক গোপন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে, যা বাণিজ্যের আড়ালে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জটিলতা তৈরি করছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ইসরাইলি শিপিং জায়ান্ট জেডআইএম ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড নামের একটি স্থানীয় কোম্পানি।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক কনটেইনার পরিবহন সংস্থা। কোম্পানিটি ইসরাইলের প্রধান শিপিং ব্র্যান্ড জেডআইএম-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে বলে নথিপত্রে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেডআইএমের ওয়েবসাইটেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাইডেন্টের নাম ও কর্মকর্তাদের ছবি প্রকাশিত আছে। এতে কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার ফারুবার আনোয়ারসহ আটজনের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফারুবার বাংলাদেশের শিপিং খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্য।

২০২৪ সালের নববর্ষ উদযাপনে ট্রাইডেন্টের অফিসে ইসরাইলি পতাকার রঙে সাজানো জেডআইএম লেখা কেক কাটার ঘটনাও বিতর্ক সৃষ্টি করে। যদিও বাংলাদেশ ও ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তারপরও এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলের শিপিং নেটওয়ার্ক কার্যত বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১২ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত “মার্চ ফর গাজা” সমাবেশের খবর ট্রাইডেন্টের ঢাকা অফিস থেকে সরাসরি জেডআইএমের সদর দপ্তর হাইফায় পাঠানো হয়। সেই ই-মেইলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

জেডআইএমের আঞ্চলিক প্রতিনিধি দোতান সার ওই মেইলের জবাব দেন এবং ইউএই-ভিত্তিক শিপিং বিশেষজ্ঞ বিবেক শর্মাসহ আরও কয়েকজনকে কপিতে রাখেন। বিষয়টি শুধু ব্যবসায়িক নয়, বরং কৌশলগত গোয়েন্দা যোগাযোগেরও ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাইডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুবার আনোয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থায় সক্রিয় থাকলে তা রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থি। বাংলাদেশের শিপিং ডেটা যেমন বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও সংবেদনশীল।

ইসরাইলি কোম্পানি জেডআইএম, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিপিং নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বহুবার রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েত ইতোমধ্যে জেডআইএমের জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বাংলাদেশে একই ধরনের নীরব নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়া নতুন এক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রশ্ন তৈরি করেছে, যার উত্তর এখনো মেলেনি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত