ইসরায়েলের টানা দুই বছরের সামরিক হামলায় প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল গাজা উপত্যকার শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে হাজারো শিক্ষার্থী। এ ফিরে আসা শুধু পড়াশোনার নয়, বরং আশার, বেঁচে থাকার এবং নতুন শুরুর প্রতীক।
দুই বছরের অবিরাম ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি (UNRWA)-এর অধীনে পরিচালিত স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিন্তু ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে সেই স্কুলগুলোতেই আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণা শুরু হয়েছে।
নুসাইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের রাজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ছাড়াই মেঝেতে বসে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে। তারা বলছে, “আমরা যুদ্ধের ভয়, ক্ষতি ও কষ্টকে উপেক্ষা করে শেখা বন্ধ করিনি।”
রাজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আবু নেদা বলেন, “অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে আহ্বান করছি, গাজার শিক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করুন।”
দুই বছর পর ক্লাসে ফিরে আসা শিক্ষার্থী জান্নাত আল-হাজ বলেন, “আমাদের ক্লাসে চেয়ার নেই, খাতা নেই, কিন্তু শেখার ইচ্ছা আছে। আমরা গাজায় বাঁচতে এবং শেখতে চাই।” আরেক শিক্ষার্থী হালা আবু গনিম বলেন, “বিশ্বের বাচ্চাদের মতো আমরাও শিখতে চাই। কিন্তু আমাদের দুই বছর কেটে গেছে যুদ্ধ, ধ্বংস আর প্রিয়জন হারানোর মধ্যে।”
শিক্ষক দুনিয়া আবু জেইক জানান, স্থায়ী শান্তি না ফিরলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “বোর্ড, চেয়ার, খাতা—সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। শিক্ষা টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”
যুদ্ধবিরতির পর গাজার শিক্ষার্থীরা যখন আবার স্কুলে ফিরছে, তখন তাদের মুখে ফুটে উঠেছে দৃঢ়তা আর আশার আলো—যুদ্ধ নয়, শিক্ষা-ই হোক গাজার ভবিষ্যতের ভিত্তি।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫
ইসরায়েলের টানা দুই বছরের সামরিক হামলায় প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল গাজা উপত্যকার শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে হাজারো শিক্ষার্থী। এ ফিরে আসা শুধু পড়াশোনার নয়, বরং আশার, বেঁচে থাকার এবং নতুন শুরুর প্রতীক।
দুই বছরের অবিরাম ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি (UNRWA)-এর অধীনে পরিচালিত স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিন্তু ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে সেই স্কুলগুলোতেই আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণা শুরু হয়েছে।
নুসাইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের রাজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ছাড়াই মেঝেতে বসে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে। তারা বলছে, “আমরা যুদ্ধের ভয়, ক্ষতি ও কষ্টকে উপেক্ষা করে শেখা বন্ধ করিনি।”
রাজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আবু নেদা বলেন, “অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে আহ্বান করছি, গাজার শিক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করুন।”
দুই বছর পর ক্লাসে ফিরে আসা শিক্ষার্থী জান্নাত আল-হাজ বলেন, “আমাদের ক্লাসে চেয়ার নেই, খাতা নেই, কিন্তু শেখার ইচ্ছা আছে। আমরা গাজায় বাঁচতে এবং শেখতে চাই।” আরেক শিক্ষার্থী হালা আবু গনিম বলেন, “বিশ্বের বাচ্চাদের মতো আমরাও শিখতে চাই। কিন্তু আমাদের দুই বছর কেটে গেছে যুদ্ধ, ধ্বংস আর প্রিয়জন হারানোর মধ্যে।”
শিক্ষক দুনিয়া আবু জেইক জানান, স্থায়ী শান্তি না ফিরলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “বোর্ড, চেয়ার, খাতা—সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। শিক্ষা টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”
যুদ্ধবিরতির পর গাজার শিক্ষার্থীরা যখন আবার স্কুলে ফিরছে, তখন তাদের মুখে ফুটে উঠেছে দৃঢ়তা আর আশার আলো—যুদ্ধ নয়, শিক্ষা-ই হোক গাজার ভবিষ্যতের ভিত্তি।

আপনার মতামত লিখুন