আফগানিস্তানে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অসংখ্য মানুষ পরিবার হারিয়েছে বা স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। এসব অসহায় মানুষের সহায়তায় ইসলামিক আমিরাতের শহিদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত পাঁচ মাসে ৯০০ কোটি আফগানি বিতরণ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা হিসেবেও আরও ১০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের শহিদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফয়সাল খামোশ জানান, তৃতীয় দফায় ভাতার অর্থ বিতরণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাধ্যমে এই বছর ১০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও অখাদ্য সামগ্রী যোগ্য পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।”
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ—এর মধ্যে ৪ লাখ এতিম, ২ লাখ প্রতিবন্ধী এবং ১ লাখ বিধবা নারী।
কাবুলের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী জেবো গত দশ বছর ধরে চার অনাথ সন্তানের দেখভাল করছেন। একসময় তিনি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পেলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতায় দেশত্যাগে বাধ্য হন। এখন দেশে ফিরে এসে তিনি সন্তানদের জন্য আরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। জেবো বলেন, “আমি পাঁচজনের পরিবার নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকি। যে ভাতা পাই তা যথেষ্ট নয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও থাকা দরকার।”
একইভাবে, এক পা হারানো ৩২ বছর বয়সী রেজা মন্ত্রণালয় ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার চার সন্তান আছে। ওদের স্কুলে পাঠাতে, ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য দরকার। আমাকেও একটা কাজের সুযোগ দিন।”
কাবুলের সাধারণ মানুষও শহিদ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। মিহান নামের এক বাসিন্দা বলেন, “এই দেশের জন্য যারা হাত-পা বা জীবন হারিয়েছেন, সরকার তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক দায়িত্ব।” আরেক বাসিন্দা শফিকুল্লাহ বলেন, “দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের উচিত অনাথ শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার দায়িত্বে সহযোগিতা করা।”
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক উদ্যোগে এসব পরিবারকে আরও টেকসই সহায়তা দেওয়ার আহ্বান উঠছে, যাতে তারা নিজেরা আত্মনির্ভর হতে পারে।
বিষয় : আফগানিস্তান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫
আফগানিস্তানে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অসংখ্য মানুষ পরিবার হারিয়েছে বা স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। এসব অসহায় মানুষের সহায়তায় ইসলামিক আমিরাতের শহিদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত পাঁচ মাসে ৯০০ কোটি আফগানি বিতরণ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা হিসেবেও আরও ১০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের শহিদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফয়সাল খামোশ জানান, তৃতীয় দফায় ভাতার অর্থ বিতরণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাধ্যমে এই বছর ১০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও অখাদ্য সামগ্রী যোগ্য পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।”
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ—এর মধ্যে ৪ লাখ এতিম, ২ লাখ প্রতিবন্ধী এবং ১ লাখ বিধবা নারী।
কাবুলের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী জেবো গত দশ বছর ধরে চার অনাথ সন্তানের দেখভাল করছেন। একসময় তিনি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পেলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতায় দেশত্যাগে বাধ্য হন। এখন দেশে ফিরে এসে তিনি সন্তানদের জন্য আরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। জেবো বলেন, “আমি পাঁচজনের পরিবার নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকি। যে ভাতা পাই তা যথেষ্ট নয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও থাকা দরকার।”
একইভাবে, এক পা হারানো ৩২ বছর বয়সী রেজা মন্ত্রণালয় ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার চার সন্তান আছে। ওদের স্কুলে পাঠাতে, ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য দরকার। আমাকেও একটা কাজের সুযোগ দিন।”
কাবুলের সাধারণ মানুষও শহিদ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। মিহান নামের এক বাসিন্দা বলেন, “এই দেশের জন্য যারা হাত-পা বা জীবন হারিয়েছেন, সরকার তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক দায়িত্ব।” আরেক বাসিন্দা শফিকুল্লাহ বলেন, “দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের উচিত অনাথ শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার দায়িত্বে সহযোগিতা করা।”
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক উদ্যোগে এসব পরিবারকে আরও টেকসই সহায়তা দেওয়ার আহ্বান উঠছে, যাতে তারা নিজেরা আত্মনির্ভর হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন