বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আর্মেনীয় দখল শেষে ঐতিহাসিক আগদাম জুমা মসজিদ পুনরুদ্ধার করে আবারও মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে

কারাবাখে ১৫৭ বছরের প্রাচীন জুমা মসজিদ পুনরায় নামাজের জন্য উন্মুক্ত


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারাবাখে ১৫৭ বছরের প্রাচীন জুমা মসজিদ পুনরায় নামাজের জন্য উন্মুক্ত

দীর্ঘ ২৮ বছরের আর্মেনীয় দখলের পর আজারবাইজানের কারাবাখ অঞ্চলের ঐতিহাসিক আগদাম জুমা মসজিদ আবারও মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। ১৮৬৮ সালে নির্মিত এ মসজিদটি যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল, যার মিনারগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবে।

আর্মেনীয় বাহিনীর দখলে থাকা ১৯৯২ সালের পর থেকে আগদাম শহরের ১৫৭ বছরের পুরনো জুমা মসজিদটি ছিল অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। মিনার ভেঙে পর্যবেক্ষণ পোস্টে পরিণত করা হয়, দেয়ালে যুদ্ধের দাগ পড়ে থাকে। ২০২০ সালে আজারবাইজান সেনাবাহিনীর অভিযানে কারাবাখ অঞ্চল পুনর্দখলের পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরকারের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ সংস্কার করা হয়।

‘আগদাম উলু জামি’ নামেও পরিচিত এই মসজিদটি মূল স্থাপত্যের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংস্কার শেষে এ বছর তা আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়।

মসজিদে এখন প্রদর্শিত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক: এক, দখলকালে নেওয়া একটি পাথরের অংশ, যা তৎকালীন আজারবাইজানি নেতা হায়দার আলিয়েভের কাছে সংরক্ষিত ছিল এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একদিন এটি পুনরায় মসজিদে ফিরিয়ে আনা হবে; দুই, কাবা শরিফ থেকে আনা একটি পবিত্র কুরআন, যা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তাঁর স্ত্রী মেহরিবান আলিয়েভা উপহার দিয়েছেন।

মসজিদের স্থানীয় গাইড এলদার করিমভ জানান, “এই মসজিদটি ১৮৬৮ সালে আজারবাইজানি স্থপতি কারবেলাই সেফিহান কারাবাগি নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের অঞ্চল ১৯৯২-৯৩ সালে দখল হয়। কিন্তু ২০২০ সালে আমাদের সেনারা তা মুক্ত করে। মুক্তির পর মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হয়।”

আজ আগদাম জুমা মসজিদ কারাবাখের মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিদিন স্থানীয় ও বিদেশি মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন এবং মুক্ত ভূমির ইতিহাসকে স্মরণ করছেন।

বিষয় : আজারবাইজান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


কারাবাখে ১৫৭ বছরের প্রাচীন জুমা মসজিদ পুনরায় নামাজের জন্য উন্মুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ১০ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

দীর্ঘ ২৮ বছরের আর্মেনীয় দখলের পর আজারবাইজানের কারাবাখ অঞ্চলের ঐতিহাসিক আগদাম জুমা মসজিদ আবারও মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। ১৮৬৮ সালে নির্মিত এ মসজিদটি যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল, যার মিনারগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবে।

আর্মেনীয় বাহিনীর দখলে থাকা ১৯৯২ সালের পর থেকে আগদাম শহরের ১৫৭ বছরের পুরনো জুমা মসজিদটি ছিল অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। মিনার ভেঙে পর্যবেক্ষণ পোস্টে পরিণত করা হয়, দেয়ালে যুদ্ধের দাগ পড়ে থাকে। ২০২০ সালে আজারবাইজান সেনাবাহিনীর অভিযানে কারাবাখ অঞ্চল পুনর্দখলের পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরকারের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ সংস্কার করা হয়।

‘আগদাম উলু জামি’ নামেও পরিচিত এই মসজিদটি মূল স্থাপত্যের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংস্কার শেষে এ বছর তা আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়।

মসজিদে এখন প্রদর্শিত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক: এক, দখলকালে নেওয়া একটি পাথরের অংশ, যা তৎকালীন আজারবাইজানি নেতা হায়দার আলিয়েভের কাছে সংরক্ষিত ছিল এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একদিন এটি পুনরায় মসজিদে ফিরিয়ে আনা হবে; দুই, কাবা শরিফ থেকে আনা একটি পবিত্র কুরআন, যা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তাঁর স্ত্রী মেহরিবান আলিয়েভা উপহার দিয়েছেন।

মসজিদের স্থানীয় গাইড এলদার করিমভ জানান, “এই মসজিদটি ১৮৬৮ সালে আজারবাইজানি স্থপতি কারবেলাই সেফিহান কারাবাগি নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের অঞ্চল ১৯৯২-৯৩ সালে দখল হয়। কিন্তু ২০২০ সালে আমাদের সেনারা তা মুক্ত করে। মুক্তির পর মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হয়।”

আজ আগদাম জুমা মসজিদ কারাবাখের মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিদিন স্থানীয় ও বিদেশি মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন এবং মুক্ত ভূমির ইতিহাসকে স্মরণ করছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত