বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আইনটি মুসলিম ও দলিতদের লক্ষ্য করে প্রয়োগ করা হচ্ছে

গুজরাটে গরু সুরক্ষা আইনে তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুজরাটে গরু সুরক্ষা আইনে তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গরু সুরক্ষা আইনে গুজরাটে প্রথমবারের মতো তিন মুসলিম নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরেলি জেলার একটি সেশনস কোর্ট গরু জবাইয়ের অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ লাখ রুপির সমষ্টিগত জরিমানাও ধার্য করেছে। রায় ঘোষণার পর আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

বিজেপিশাসিত গুজরাটে গরু-সম্পৃক্ত অপরাধে প্রথমবারের মতো তিন মুসলিম—আক্রম সোলাংকি (৩০), কাসিম সোলাংকি (২০) এবং সাত্তার সোলাংকি (৫২)—গুজরাট অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্টের অধীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। মঙ্গলবার আমরেলি জেলা সেশনস জজ রিজওয়ানা বুখারি এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত কারাদণ্ডও ভোগ করতে হবে।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি চন্দ্রেশ মেহতার দাবি, গরু জবাইয়ের একক মামলায় গুজরাটে এই প্রথম তিনজনকে একসঙ্গে যাবজ্জীবন দেওয়া হলো। আইন অনুযায়ী গরু ও গরু-জাতীয় প্রাণী জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মামলার সূত্রপাত ৬ নভেম্বর ২০২৩। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরেলির বাহারপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গরু জবাইয়ের আলামত ও উদ্ধারকৃত মাংস খুঁজে পায়। ভেটেরিনারি ও ফরেনসিক পরীক্ষায় মাংসটি গরুর বলে নিশ্চিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আক্রম সোলাংকিকে আটক করা হলেও অন্য দুইজন পরে আত্মসমর্পণ করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হয়।

রায়কে “ঐতিহাসিক” আখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, গরু সুরক্ষায় তাদের কঠোর অবস্থানেরই প্রমাণ এটি। মুখপাত্র জিতু ভাগানির ভাষায়, এটি “গো-হত্যায় জড়িতদের জন্য লাল সংকেত।” তিনি আরও বলেন, গরু ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল, এবং এ ধরনের অপরাধে কোনো দয়া দেখানো হবে না।

মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, গরু সুরক্ষা আইনটি মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়কে অসামঞ্জস্যভাবে টার্গেট করতে ব্যবহৃত হয়। তাদের অনেকে পশু বাণিজ্য, চামড়া শিল্প ও বিফ ভোজনের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতি, গণপিটুনি এবং ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে।

ভারতের অধিকাংশ বিজেপিশাসিত রাজ্যে গরু-সম্পর্কিত আইন কঠোর করা হয়েছে—অনেক স্থানে শাস্তির মেয়াদ আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালের সংশোধনীতে গরু, ষাঁড় ও বলদ জবাই নিষিদ্ধ করা হয়। উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর হাজারো মুসলিম-চালিত স্লটারহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে তথ্য বলছে, ভারতে গরু জবাইয়ের প্রধান কারণ মাংস নয়, বরং দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক চক্র। পাশাপাশি দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৪,০০০ কোটি রুপির মহিষের মাংস রপ্তানি করে—যা এসব রাজ্যীয় নিষেধাজ্ঞায় প্রভাবিত হয় না।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গুজরাটে গরু সুরক্ষা আইনে তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

গরু সুরক্ষা আইনে গুজরাটে প্রথমবারের মতো তিন মুসলিম নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরেলি জেলার একটি সেশনস কোর্ট গরু জবাইয়ের অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ লাখ রুপির সমষ্টিগত জরিমানাও ধার্য করেছে। রায় ঘোষণার পর আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

বিজেপিশাসিত গুজরাটে গরু-সম্পৃক্ত অপরাধে প্রথমবারের মতো তিন মুসলিম—আক্রম সোলাংকি (৩০), কাসিম সোলাংকি (২০) এবং সাত্তার সোলাংকি (৫২)—গুজরাট অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্টের অধীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। মঙ্গলবার আমরেলি জেলা সেশনস জজ রিজওয়ানা বুখারি এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত কারাদণ্ডও ভোগ করতে হবে।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি চন্দ্রেশ মেহতার দাবি, গরু জবাইয়ের একক মামলায় গুজরাটে এই প্রথম তিনজনকে একসঙ্গে যাবজ্জীবন দেওয়া হলো। আইন অনুযায়ী গরু ও গরু-জাতীয় প্রাণী জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মামলার সূত্রপাত ৬ নভেম্বর ২০২৩। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরেলির বাহারপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গরু জবাইয়ের আলামত ও উদ্ধারকৃত মাংস খুঁজে পায়। ভেটেরিনারি ও ফরেনসিক পরীক্ষায় মাংসটি গরুর বলে নিশ্চিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আক্রম সোলাংকিকে আটক করা হলেও অন্য দুইজন পরে আত্মসমর্পণ করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হয়।

রায়কে “ঐতিহাসিক” আখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, গরু সুরক্ষায় তাদের কঠোর অবস্থানেরই প্রমাণ এটি। মুখপাত্র জিতু ভাগানির ভাষায়, এটি “গো-হত্যায় জড়িতদের জন্য লাল সংকেত।” তিনি আরও বলেন, গরু ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল, এবং এ ধরনের অপরাধে কোনো দয়া দেখানো হবে না।

মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, গরু সুরক্ষা আইনটি মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়কে অসামঞ্জস্যভাবে টার্গেট করতে ব্যবহৃত হয়। তাদের অনেকে পশু বাণিজ্য, চামড়া শিল্প ও বিফ ভোজনের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতি, গণপিটুনি এবং ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে।

ভারতের অধিকাংশ বিজেপিশাসিত রাজ্যে গরু-সম্পর্কিত আইন কঠোর করা হয়েছে—অনেক স্থানে শাস্তির মেয়াদ আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ২০১৫ সালের সংশোধনীতে গরু, ষাঁড় ও বলদ জবাই নিষিদ্ধ করা হয়। উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর হাজারো মুসলিম-চালিত স্লটারহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে তথ্য বলছে, ভারতে গরু জবাইয়ের প্রধান কারণ মাংস নয়, বরং দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক চক্র। পাশাপাশি দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৪,০০০ কোটি রুপির মহিষের মাংস রপ্তানি করে—যা এসব রাজ্যীয় নিষেধাজ্ঞায় প্রভাবিত হয় না।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত