বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বিয়ের আনন্দে নোট কুড়োতে গিয়েছিল সাহিল। ফিরল নিথর দেহ হয়ে

বিয়ের অনুষ্ঠানে ১৪ বছরের মুসলিম কিশোরকে গুলি করে হত্যা করল সিআইএসএফ অফিসার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ের অনুষ্ঠানে ১৪ বছরের মুসলিম কিশোরকে গুলি করে হত্যা করল সিআইএসএফ অফিসার

দিল্লির শাহদারা এলাকায় একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার সময় গুলিতে নিহত হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর এক সদস্যের ছোড়া গুলিতেই প্রাণ হারায় সাহিল। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সাহিল সংসারের হাল ধরতে অল্প বয়সেই কাজ শুরু করেছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শনিবার রাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির শাহদারা এলাকায় একটি বিয়ের শোভাযাত্রা চলাকালীন কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (CISF) কনস্টেবল মদন গোপাল তিওয়ারির গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী মুসলিম কিশোর সাহিল।

পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহিল প্রতিদিনের মতোই স্থানীয় একটি মুদি দোকানে ১১ ঘণ্টার শিফট শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে সে ও তার কয়েকজন বন্ধু কাছাকাছি একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় যোগ দেয়, যেখানে বরকে লক্ষ্য করে কাগজের নোট ছোড়া হচ্ছিল—যা ভারতে বিয়ের একটি প্রচলিত রীতি। নোট কুড়োতে গেলে কিছু শিশু ভয়ে পালিয়ে গেলেও সাহিল পিছিয়ে পড়ে।

সাহিলের ভগ্নিপতি টাবরেজ আলম জানান, তখন শোভাযাত্রার এক ব্যক্তি সাহিলকে একাধিকবার চড় মারেন। সাহিল প্রশ্ন করলে ওই ব্যক্তি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের সার্ভিস পিস্তল বের করে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি চালায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় সাহিলকে দ্রুত হেজওয়ার হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবার দেখতে পান, সাহিল রক্তে ভেসে আছে।

অভিযুক্ত CISF কনস্টেবল মদন গোপাল তিওয়ারি কানপুরে কর্মরত এবং তিনি বরপক্ষের আত্মীয়দের একজন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে উত্তর প্রদেশের এটাওয়ায় নিজ গ্রামে আত্মগোপন করেন। পরে বর ও তার বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

সাহিলের মা নিশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে শুধু পরিবারে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল… নোট আর আলো ঝলমলে পরিবেশে সে আকৃষ্ট হয়েছিল।” পরে জানা যায়, সাহিল যে নোটগুলো কুড়িয়েছিল সেগুলো ছিল জাল।

কয়েক মাস আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন সাহিলের বাবা সিরাজউদ্দিন আনসারী। তার বাঁ হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তিনি নিয়মিত কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। আগে তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে কাজ করতেন।

সংসারের হাল ধরতেই স্কুল ছেড়ে কাজে নামতে হয় সাহিলকে। সে মাসে মাত্র ৬,০০০ টাকা বেতনে কাজ করত। তিন ভাই ও তিন বোনকে রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল দরিদ্র এই শিশুটি।

মা নিশা বলেন, “ও বলত বড় হয়ে আমাদের ভালো জীবন দেবে। বাবার কষ্ট দেখে এত ছোট বয়সেই কাজে নেমেছিল।”

ঘটনায় অভিযুক্ত CISF সদস্যের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।

বিষয় : ভারত ইসলামোফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বিয়ের অনুষ্ঠানে ১৪ বছরের মুসলিম কিশোরকে গুলি করে হত্যা করল সিআইএসএফ অফিসার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

দিল্লির শাহদারা এলাকায় একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার সময় গুলিতে নিহত হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর এক সদস্যের ছোড়া গুলিতেই প্রাণ হারায় সাহিল। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সাহিল সংসারের হাল ধরতে অল্প বয়সেই কাজ শুরু করেছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শনিবার রাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির শাহদারা এলাকায় একটি বিয়ের শোভাযাত্রা চলাকালীন কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (CISF) কনস্টেবল মদন গোপাল তিওয়ারির গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী মুসলিম কিশোর সাহিল।

পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহিল প্রতিদিনের মতোই স্থানীয় একটি মুদি দোকানে ১১ ঘণ্টার শিফট শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে সে ও তার কয়েকজন বন্ধু কাছাকাছি একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় যোগ দেয়, যেখানে বরকে লক্ষ্য করে কাগজের নোট ছোড়া হচ্ছিল—যা ভারতে বিয়ের একটি প্রচলিত রীতি। নোট কুড়োতে গেলে কিছু শিশু ভয়ে পালিয়ে গেলেও সাহিল পিছিয়ে পড়ে।

সাহিলের ভগ্নিপতি টাবরেজ আলম জানান, তখন শোভাযাত্রার এক ব্যক্তি সাহিলকে একাধিকবার চড় মারেন। সাহিল প্রশ্ন করলে ওই ব্যক্তি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের সার্ভিস পিস্তল বের করে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি চালায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় সাহিলকে দ্রুত হেজওয়ার হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবার দেখতে পান, সাহিল রক্তে ভেসে আছে।

অভিযুক্ত CISF কনস্টেবল মদন গোপাল তিওয়ারি কানপুরে কর্মরত এবং তিনি বরপক্ষের আত্মীয়দের একজন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে উত্তর প্রদেশের এটাওয়ায় নিজ গ্রামে আত্মগোপন করেন। পরে বর ও তার বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

সাহিলের মা নিশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে শুধু পরিবারে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল… নোট আর আলো ঝলমলে পরিবেশে সে আকৃষ্ট হয়েছিল।” পরে জানা যায়, সাহিল যে নোটগুলো কুড়িয়েছিল সেগুলো ছিল জাল।

কয়েক মাস আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন সাহিলের বাবা সিরাজউদ্দিন আনসারী। তার বাঁ হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তিনি নিয়মিত কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। আগে তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে কাজ করতেন।

সংসারের হাল ধরতেই স্কুল ছেড়ে কাজে নামতে হয় সাহিলকে। সে মাসে মাত্র ৬,০০০ টাকা বেতনে কাজ করত। তিন ভাই ও তিন বোনকে রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল দরিদ্র এই শিশুটি।

মা নিশা বলেন, “ও বলত বড় হয়ে আমাদের ভালো জীবন দেবে। বাবার কষ্ট দেখে এত ছোট বয়সেই কাজে নেমেছিল।”

ঘটনায় অভিযুক্ত CISF সদস্যের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত