বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

জাগরেব পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য; 'আল্লাহু আকবার' স্লোগানে হামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত, সন্ন্যাসিনীর বিরুদ্ধে 'অপরাধ সৃষ্টির' মামলা

মুসলিম অভিবাসীর হামলা'র নাটক সাজিয়ে নিজেই নিজেকে আহত করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার নান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম অভিবাসীর হামলা'র নাটক সাজিয়ে নিজেই নিজেকে আহত করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার নান

ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে গত ২৮ নভেম্বর আহত হন সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নো। তিনি দাবি করেছিলেন, 'আল্লাহু আকবার' স্লোগান দেওয়া এক মুসলিম অভিবাসী তাঁকে ছুরি মেরে আক্রমণ করেছে। এই অভিযোগ সেসময় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে জাগরেব মেট্রোপলিটন পুলিশের নিবিড় তদন্তে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ ঘোষণা করেছে, ওই ঘটনাটি কোনো আক্রমণ ছিল না, বরং ৩৫ বছর বয়সী সন্ন্যাসিনী নিজেই নিজেকে আহত করেছিলেন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা আক্রমণের গল্প সাজিয়েছিলেন।

জাগরেব পুলিশ সদর দপ্তর (Zagreb Emniyet Müdürlüğü) এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৮ নভেম্বরের ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ব্যাপক পরিসরে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তের প্রাথমিক ধাপেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নোর উপর কোনো আক্রমণ হয়নি এবং তিনি নিজেই নিজের আঘাতের জন্য দায়ী।

ঘটনার কিছুদিন পর, ১ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সন্ন্যাসিনী জার্নো নিজেই পুলিশ স্টেশনে এসে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁকে ছুরি মারার অভিযোগ দায়ের করেন এবং দাবি করেন এটি ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে ঘটেছে। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে প্রাপ্ত প্রমাণাদি এই তথ্যকে মিথ্যা প্রমাণিত করে। পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় যে, জার্নো অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে মনগড়া।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সন্ন্যাসিনী জার্নো ঘটনার আগে জাগরেবের একটি দোকান থেকে ছুরিটি ক্রয় করেন এবং এরপর নিজেই নিজেকে আহত করেন। তদন্ত শেষে জাগরেব পুলিশ সদর দপ্তর 'অপরাধ সৃষ্টি'র (suç uydurma) অভিযোগে সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নোর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর অফিসে অভিযোগ (suç duyurusunda bulunulacağı) দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছে।

২৮ নভেম্বর জাগরেবের মালেসনিচা (Malešnica) এলাকায় আহত হওয়ার পর সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নো পুলিশকে বলেছিলেন, একজন পুরুষ 'আল্লাহু আকবার' বলতে বলতে তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং এটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ। ঘটনাটি সেসময় ক্রোয়েশিয়ার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তবে, পুলিশি তদন্তের ফল প্রকাশের পর ক্রোয়েশিয়ান ক্যাথলিক চার্চ তাদের পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, "কিছু সংবাদ মাধ্যমে অজ্ঞাত এক পুরুষের দ্বারা একজন সন্ন্যাসিনীকে আক্রমণের যে অপ্রমাণিত দাবি করা হয়েছিল, ক্রিমিনাল তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেহেতু নির্দিষ্ট ঘটনায় একজন নারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তাই আমরা এই দাবিগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি।"

উল্লেখ্য, মারিয়া জার্নো ক্রোয়েশিয়ার জনসমাজে সুপরিচিত। বিশেষত ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং লাউদাটো টিভি (Laudato TV)-তে তাঁর ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য তিনি জনপ্রিয়। তিনি খেলাধুলাকে আধ্যাত্মিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর শুরু করা "জাতীয় দলের জন্য প্রার্থনা" উদ্যোগে ক্রোয়েশিয়ার হাজার হাজার তরুণ ও বৃদ্ধ মানুষ সাড়া দিয়েছিল।

বিষয় : ক্রোয়েশিয়া ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মুসলিম অভিবাসীর হামলা'র নাটক সাজিয়ে নিজেই নিজেকে আহত করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার নান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে গত ২৮ নভেম্বর আহত হন সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নো। তিনি দাবি করেছিলেন, 'আল্লাহু আকবার' স্লোগান দেওয়া এক মুসলিম অভিবাসী তাঁকে ছুরি মেরে আক্রমণ করেছে। এই অভিযোগ সেসময় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে জাগরেব মেট্রোপলিটন পুলিশের নিবিড় তদন্তে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ ঘোষণা করেছে, ওই ঘটনাটি কোনো আক্রমণ ছিল না, বরং ৩৫ বছর বয়সী সন্ন্যাসিনী নিজেই নিজেকে আহত করেছিলেন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা আক্রমণের গল্প সাজিয়েছিলেন।

জাগরেব পুলিশ সদর দপ্তর (Zagreb Emniyet Müdürlüğü) এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৮ নভেম্বরের ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ব্যাপক পরিসরে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তের প্রাথমিক ধাপেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নোর উপর কোনো আক্রমণ হয়নি এবং তিনি নিজেই নিজের আঘাতের জন্য দায়ী।

ঘটনার কিছুদিন পর, ১ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সন্ন্যাসিনী জার্নো নিজেই পুলিশ স্টেশনে এসে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁকে ছুরি মারার অভিযোগ দায়ের করেন এবং দাবি করেন এটি ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে ঘটেছে। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে প্রাপ্ত প্রমাণাদি এই তথ্যকে মিথ্যা প্রমাণিত করে। পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় যে, জার্নো অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে মনগড়া।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সন্ন্যাসিনী জার্নো ঘটনার আগে জাগরেবের একটি দোকান থেকে ছুরিটি ক্রয় করেন এবং এরপর নিজেই নিজেকে আহত করেন। তদন্ত শেষে জাগরেব পুলিশ সদর দপ্তর 'অপরাধ সৃষ্টি'র (suç uydurma) অভিযোগে সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নোর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর অফিসে অভিযোগ (suç duyurusunda bulunulacağı) দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছে।

২৮ নভেম্বর জাগরেবের মালেসনিচা (Malešnica) এলাকায় আহত হওয়ার পর সন্ন্যাসিনী মারিয়া জার্নো পুলিশকে বলেছিলেন, একজন পুরুষ 'আল্লাহু আকবার' বলতে বলতে তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং এটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ। ঘটনাটি সেসময় ক্রোয়েশিয়ার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তবে, পুলিশি তদন্তের ফল প্রকাশের পর ক্রোয়েশিয়ান ক্যাথলিক চার্চ তাদের পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, "কিছু সংবাদ মাধ্যমে অজ্ঞাত এক পুরুষের দ্বারা একজন সন্ন্যাসিনীকে আক্রমণের যে অপ্রমাণিত দাবি করা হয়েছিল, ক্রিমিনাল তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যেহেতু নির্দিষ্ট ঘটনায় একজন নারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তাই আমরা এই দাবিগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি।"

উল্লেখ্য, মারিয়া জার্নো ক্রোয়েশিয়ার জনসমাজে সুপরিচিত। বিশেষত ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং লাউদাটো টিভি (Laudato TV)-তে তাঁর ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য তিনি জনপ্রিয়। তিনি খেলাধুলাকে আধ্যাত্মিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর শুরু করা "জাতীয় দলের জন্য প্রার্থনা" উদ্যোগে ক্রোয়েশিয়ার হাজার হাজার তরুণ ও বৃদ্ধ মানুষ সাড়া দিয়েছিল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত