বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকেই 'আসল জিহাদ' বলে

সনাতন ও অন্য ধর্মের কতিপয় ব্যক্তি ইসলামকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে: মাহমুদ মাদানী


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সনাতন ও অন্য ধর্মের কতিপয় ব্যক্তি ইসলামকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে: মাহমুদ মাদানী

ভারতের অন্যতম ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি ইসলামকে অপমান ও বিকৃত প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি সনাতন ধর্ম ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী পরিচয়ে ইসলামকে হেয় করছে, যা কার্যত পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শামিল। দিল্লি বিস্ফোরণ, জিহাদ বিতর্ক, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিয়েও তিনি খোলামেলা বক্তব্য রাখেন।

আইএএনএসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের “সনাতন ধর্মের অনুসারী” এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষ দাবি করলেও বাস্তবে তারা ইসলামকে গালাগালি ও অপমান করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এরা কার্যত পাকিস্তানের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।”

মাদানি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের একটি অংশ ইসলাম ও ‘জিহাদ’ শব্দকে গালির মতো ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি দাবি করেন, ‘জিহাদ’-এর প্রকৃত অর্থ স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়।

দিল্লি সন্ত্রাসী বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে

দিল্লির সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে “ইসলামে প্রচলিত শহিদি অভিযান” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল। এ ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন চিকিৎসকসহ বহু মানুষ গ্রেপ্তার হন।

এ প্রসঙ্গে মাদানি বলেন,

“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজ করছে। তারা সঠিক না ভুল, তা আদালতই নির্ধারণ করবে। তবে দিল্লি ও পাহেলগামের ঘটনায় আমরা নিন্দা করছি।”

তিনি আরও বলেন,

“মানবতার ওপর আঘাত— তা যদি ইসলাম বা জিহাদের নামেও হয়— তবে সেটি আসলে ইসলামের ওপরই আঘাত।”

মাদানির ভাষায়,

“সব ভারতীয়র মতো আমরাও ব্যথিত। বরং আমরা দ্বিগুণ কষ্ট পাই— একদিকে নিরীহ মানুষ মারা যায়, অন্যদিকে তা ইসলামের নামে করা হয়। আমরা গত ৩০ বছর ধরে এর বিরুদ্ধে লড়ছি, ভবিষ্যতেও লড়ব। সন্ত্রাস দমনই হচ্ছে প্রকৃত জিহাদ।”

কংগ্রেসের মুসলিম-স্বার্থ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য

কংগ্রেস দাবি করে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করে— এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মাদানি বলেন,

“এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রশ্ন। কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দলের কাছে শুধু মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার প্রত্যাশা করা ভুল। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের ইস্যু তুলতে পারছে না— অন্যের ইস্যু তুলবে কীভাবে?”

ওয়াইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে অবস্থান

এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মুসলমানদের পক্ষে কথা বলেন— কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিজেপির এজেন্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাদানি বলেন,

“রাজনীতি শুধু মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। দেশ গঠন, দূষণ— বায়ু, পানি, এমনকি চিন্তার দূষণ— এসব বিষয়ে রাজনীতিক দল ও নাগরিক সমাজের একসঙ্গে লড়াই করা দরকার।”

তিনি আরও বলেন,

“আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো মৌলিক ইস্যুতে ঠিকভাবে লড়তে পারছে না। সবাই ব্যর্থ। ওয়াইসি সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্য করতে চাই না।”

‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বিতর্ক

‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মাদানি বলেন,

“যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, কেউ চাইলে অ্যাপটি ডিলিট করতে পারেন। আমি মনে করি, কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন,

“মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ থাকলে নজরদারির আরও অনেক উপায় আছে। আজকের দিনে কারও পকেটে মোবাইল থাকলে পালিয়েও কেউ বাঁচতে পারে না— এটাই বাস্তব।”

বিষয় : ভারত মাহমুদ মাদানী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সনাতন ও অন্য ধর্মের কতিপয় ব্যক্তি ইসলামকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে: মাহমুদ মাদানী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভারতের অন্যতম ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি ইসলামকে অপমান ও বিকৃত প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি সনাতন ধর্ম ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী পরিচয়ে ইসলামকে হেয় করছে, যা কার্যত পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শামিল। দিল্লি বিস্ফোরণ, জিহাদ বিতর্ক, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিয়েও তিনি খোলামেলা বক্তব্য রাখেন।

আইএএনএসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের “সনাতন ধর্মের অনুসারী” এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষ দাবি করলেও বাস্তবে তারা ইসলামকে গালাগালি ও অপমান করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এরা কার্যত পাকিস্তানের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।”

মাদানি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের একটি অংশ ইসলাম ও ‘জিহাদ’ শব্দকে গালির মতো ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি দাবি করেন, ‘জিহাদ’-এর প্রকৃত অর্থ স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়।

দিল্লি সন্ত্রাসী বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে

দিল্লির সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে “ইসলামে প্রচলিত শহিদি অভিযান” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিল। এ ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন চিকিৎসকসহ বহু মানুষ গ্রেপ্তার হন।

এ প্রসঙ্গে মাদানি বলেন,

“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজ করছে। তারা সঠিক না ভুল, তা আদালতই নির্ধারণ করবে। তবে দিল্লি ও পাহেলগামের ঘটনায় আমরা নিন্দা করছি।”

তিনি আরও বলেন,

“মানবতার ওপর আঘাত— তা যদি ইসলাম বা জিহাদের নামেও হয়— তবে সেটি আসলে ইসলামের ওপরই আঘাত।”

মাদানির ভাষায়,

“সব ভারতীয়র মতো আমরাও ব্যথিত। বরং আমরা দ্বিগুণ কষ্ট পাই— একদিকে নিরীহ মানুষ মারা যায়, অন্যদিকে তা ইসলামের নামে করা হয়। আমরা গত ৩০ বছর ধরে এর বিরুদ্ধে লড়ছি, ভবিষ্যতেও লড়ব। সন্ত্রাস দমনই হচ্ছে প্রকৃত জিহাদ।”

কংগ্রেসের মুসলিম-স্বার্থ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য

কংগ্রেস দাবি করে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করে— এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মাদানি বলেন,

“এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রশ্ন। কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দলের কাছে শুধু মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার প্রত্যাশা করা ভুল। এখন তারা নিজেরাই নিজেদের ইস্যু তুলতে পারছে না— অন্যের ইস্যু তুলবে কীভাবে?”

ওয়াইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে অবস্থান

এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মুসলমানদের পক্ষে কথা বলেন— কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিজেপির এজেন্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাদানি বলেন,

“রাজনীতি শুধু মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। দেশ গঠন, দূষণ— বায়ু, পানি, এমনকি চিন্তার দূষণ— এসব বিষয়ে রাজনীতিক দল ও নাগরিক সমাজের একসঙ্গে লড়াই করা দরকার।”

তিনি আরও বলেন,

“আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো মৌলিক ইস্যুতে ঠিকভাবে লড়তে পারছে না। সবাই ব্যর্থ। ওয়াইসি সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্য করতে চাই না।”

‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বিতর্ক

‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মাদানি বলেন,

“যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, কেউ চাইলে অ্যাপটি ডিলিট করতে পারেন। আমি মনে করি, কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন,

“মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ থাকলে নজরদারির আরও অনেক উপায় আছে। আজকের দিনে কারও পকেটে মোবাইল থাকলে পালিয়েও কেউ বাঁচতে পারে না— এটাই বাস্তব।”


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত