আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি বন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বুলডোজার অভিযানে অসংখ্য মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের মাঝে আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য ও জল ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এই সপ্তাহে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পরিবারের বাসস্থান ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানকার বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নগাঁও জেলার লুতুমারি বন এলাকায় এই সপ্তাহের শুরুতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বহু মুসলিম পরিবারের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে ঠাণ্ডায় কষ্ট পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত খাবার বা জলের মতো ন্যূনতম মৌলিক সুবিধাও নেই।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এআইইউডিএফ-এর জ্যেষ্ঠ বিধায়ক হাজী আমিনুল ইসলাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "যাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তারা বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন। শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি কেউ খাবার নিয়ে সাহায্য করতে এলেও তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, "যদি কোনো পরিবার তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের তাঁবু পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।"
বিধায়ক আমিনুল ইসলাম উচ্ছেদ অভিযানকে একতরফা এবং শুধুমাত্র মুসলিম বাসিন্দাদের লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "এই পদক্ষেপ একতরফা এবং সুচিন্তিতভাবে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এখানে বসবাসকারী মানুষজন খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন এবং এমনকি মানুষ হিসেবে বাঁচার সুযোগও তাদের দেওয়া হচ্ছে না।"
তিনি আরও জানান যে, এই এলাকাটি প্রাথমিকভাবে বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত ছিল না, কিন্তু পরে আবার তা বনভূমি ঘোষণা করা হয়, যা "সম্পূর্ণ ভুল"।
বিধায়ক আসাম সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নথিপত্র জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই সমস্ত মানুষ ভারতের নাগরিক এবং এই দেশে বসবাস করার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। এতদসত্ত্বেও তাদের আশ্রয় ও খাদ্যের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।"
আমিনুল ইসলাম ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই পরিবারগুলোকে অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহ করা উচিত যাতে তারা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।"
বর্তমানে লুতুমারি বনাঞ্চলের পরিস্থিতি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীত যত বাড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগও তত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫
আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি বন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বুলডোজার অভিযানে অসংখ্য মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের মাঝে আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য ও জল ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এই সপ্তাহে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পরিবারের বাসস্থান ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানকার বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নগাঁও জেলার লুতুমারি বন এলাকায় এই সপ্তাহের শুরুতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বহু মুসলিম পরিবারের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে ঠাণ্ডায় কষ্ট পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত খাবার বা জলের মতো ন্যূনতম মৌলিক সুবিধাও নেই।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এআইইউডিএফ-এর জ্যেষ্ঠ বিধায়ক হাজী আমিনুল ইসলাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "যাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তারা বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন। শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি কেউ খাবার নিয়ে সাহায্য করতে এলেও তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, "যদি কোনো পরিবার তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের তাঁবু পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।"
বিধায়ক আমিনুল ইসলাম উচ্ছেদ অভিযানকে একতরফা এবং শুধুমাত্র মুসলিম বাসিন্দাদের লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "এই পদক্ষেপ একতরফা এবং সুচিন্তিতভাবে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এখানে বসবাসকারী মানুষজন খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন এবং এমনকি মানুষ হিসেবে বাঁচার সুযোগও তাদের দেওয়া হচ্ছে না।"
তিনি আরও জানান যে, এই এলাকাটি প্রাথমিকভাবে বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত ছিল না, কিন্তু পরে আবার তা বনভূমি ঘোষণা করা হয়, যা "সম্পূর্ণ ভুল"।
বিধায়ক আসাম সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নথিপত্র জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই সমস্ত মানুষ ভারতের নাগরিক এবং এই দেশে বসবাস করার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। এতদসত্ত্বেও তাদের আশ্রয় ও খাদ্যের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।"
আমিনুল ইসলাম ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই পরিবারগুলোকে অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহ করা উচিত যাতে তারা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।"
বর্তমানে লুতুমারি বনাঞ্চলের পরিস্থিতি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীত যত বাড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগও তত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন