গাজায় শীতকালীন নিম্নচাপ এবং লাগাতার ভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র আরও প্রকট হলো। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে বৃষ্টির জলে ডুবে যাওয়া একটি তাঁবুতে তীব্র ঠান্ডায় রাহাফ আবু জাজার নামে এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের নাজুক জীবনযাত্রার বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ জীর্ণ তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রবল বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারণে খান ইউনিসে শিশুকন্যা রাহাফ আবু জাজারের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে শিশুটির তাঁবু পানিতে ডুবে গিয়েছিল।
এই ঘোষণার প্রায় একই সময়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওগুলোতে দেখা যায় খান ইউনিসে ঠান্ডাজনিত কারণে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একটি ভিডিওতে শিশুটির পরিবারের এক সদস্যকে ক্ষোভের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, "ঠান্ডা ওকে মেরে ফেলল, ওহে বিশ্ববাসী, কেউ এদের (উদ্বাস্তুদের) খোঁজ রাখে না, শিশুরা একে একে মারা যাচ্ছে।"
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আল-বার্শের পক্ষ থেকে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা পরেই। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, বর্তমান নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঠান্ডা ও বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া উদ্বাস্তুদের তাঁবুতে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আনাদোলুকে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের তাঁবু ডুবে যাওয়ার পর সিভিল ডিফেন্স বিভাগে ২৫০০-এরও বেশি সাহায্যের আবেদন জমা পড়েছে। বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নচাপের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার উদ্বাস্তু তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঝড়ো আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিরা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনধারণের মৌলিক উপকরণগুলির অভাব, জরুরি পরিষেবাগুলির হ্রাস এবং ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ উদ্বাস্তু ক্ষতিগ্রস্ত এবং জীর্ণ তাঁবুতে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরের শেষে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, গাজার মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার তাঁবুর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ (অর্থাৎ ১ লক্ষ ২৫ হাজার তাঁবু) বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সাহায্যবাহী ট্রাক প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় গাজার ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার বাস্তবে কোনো উন্নতি হয়নি। গত প্রায় দুই বছরের গণহত্যার সময় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং পরবর্তীতে গ্রীষ্মের তীব্র রোদ ও শীতের বাতাসের কারণে লক্ষ লক্ষ তাঁবু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
গাজায় শীতকালীন নিম্নচাপ এবং লাগাতার ভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র আরও প্রকট হলো। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে বৃষ্টির জলে ডুবে যাওয়া একটি তাঁবুতে তীব্র ঠান্ডায় রাহাফ আবু জাজার নামে এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের নাজুক জীবনযাত্রার বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ জীর্ণ তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রবল বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারণে খান ইউনিসে শিশুকন্যা রাহাফ আবু জাজারের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে শিশুটির তাঁবু পানিতে ডুবে গিয়েছিল।
এই ঘোষণার প্রায় একই সময়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওগুলোতে দেখা যায় খান ইউনিসে ঠান্ডাজনিত কারণে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একটি ভিডিওতে শিশুটির পরিবারের এক সদস্যকে ক্ষোভের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, "ঠান্ডা ওকে মেরে ফেলল, ওহে বিশ্ববাসী, কেউ এদের (উদ্বাস্তুদের) খোঁজ রাখে না, শিশুরা একে একে মারা যাচ্ছে।"
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আল-বার্শের পক্ষ থেকে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা পরেই। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, বর্তমান নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঠান্ডা ও বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া উদ্বাস্তুদের তাঁবুতে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আনাদোলুকে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের তাঁবু ডুবে যাওয়ার পর সিভিল ডিফেন্স বিভাগে ২৫০০-এরও বেশি সাহায্যের আবেদন জমা পড়েছে। বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নচাপের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার উদ্বাস্তু তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঝড়ো আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিরা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনধারণের মৌলিক উপকরণগুলির অভাব, জরুরি পরিষেবাগুলির হ্রাস এবং ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ উদ্বাস্তু ক্ষতিগ্রস্ত এবং জীর্ণ তাঁবুতে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরের শেষে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, গাজার মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার তাঁবুর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ (অর্থাৎ ১ লক্ষ ২৫ হাজার তাঁবু) বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সাহায্যবাহী ট্রাক প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় গাজার ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার বাস্তবে কোনো উন্নতি হয়নি। গত প্রায় দুই বছরের গণহত্যার সময় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং পরবর্তীতে গ্রীষ্মের তীব্র রোদ ও শীতের বাতাসের কারণে লক্ষ লক্ষ তাঁবু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন