ভারতের বিহার রাজ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন এক মুসলিম কাপড় বিক্রেতা। পরিচয় জিজ্ঞেস করে আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিহারের নবাদা জেলার রোহ থানা এলাকার ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী মুসলিম কাপড় বিক্রেতা মোহাম্মদ আথার হুসাইনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল উগ্র হিন্দু জনতার বিরুদ্ধে। গত ৫ ডিসেম্বর কাপড় বিক্রি শেষে সাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়।
পরিবার ও ভুক্তভোগীর নিজের রেকর্ডকৃত বক্তব্য অনুযায়ী, ৬–৭ জনের একটি দল প্রথমে তার নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। এরপর তাকে জোর করে সাইকেল থেকে নামিয়ে টাকা-পয়সা লুট করা হয় এবং একটি ঘরে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে হুসাইন জানান, হামলাকারীরা তার কাপড় খুলতে বাধ্য করে মুসলিম কিনা যাচাই করে। এরপর লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর, প্লায়ার্স দিয়ে আঙুল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চেপে ধরা হয়। এমনকি তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের চিৎকার শুনে পুলিশ খবর পায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরে নালন্দা জেলার বিহারশরিফ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
হুসাইন নালন্দা জেলার গগনদিহ গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ২০ বছর ধরে নবাদায় কাপড় ফেরি করে সংসার চালাতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি বলেছিলেন,
“আমিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাদের দেখাশোনা করার আর কেউ নেই।”
তার স্ত্রী শাবনাম পারভীন রোহ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, এটি ছিল পরিকল্পিত ইসলামবিদ্বেষমূলক হামলা। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিনই তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি আলাদা মামলা দিয়ে মূল অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সোনু কুমার, রঞ্জন কুমার, সচিন কুমার ও শ্রী কুমার নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ভারতের আইনে ‘লিঞ্চিং’ আলাদা কোনো অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত না হলেও গত এক দশকে মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের ওপর পরিচয় জিজ্ঞেস করে হামলার বহু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এই হত্যাকাণ্ড গ্রামীণ ভারতে একাকী কাজ করা মুসলিম শ্রমজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে হুসাইনের পরিবার। পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“সে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়েছিল। এখন আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া বিহার

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের বিহার রাজ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন এক মুসলিম কাপড় বিক্রেতা। পরিচয় জিজ্ঞেস করে আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিহারের নবাদা জেলার রোহ থানা এলাকার ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী মুসলিম কাপড় বিক্রেতা মোহাম্মদ আথার হুসাইনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল উগ্র হিন্দু জনতার বিরুদ্ধে। গত ৫ ডিসেম্বর কাপড় বিক্রি শেষে সাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়।
পরিবার ও ভুক্তভোগীর নিজের রেকর্ডকৃত বক্তব্য অনুযায়ী, ৬–৭ জনের একটি দল প্রথমে তার নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। এরপর তাকে জোর করে সাইকেল থেকে নামিয়ে টাকা-পয়সা লুট করা হয় এবং একটি ঘরে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে হুসাইন জানান, হামলাকারীরা তার কাপড় খুলতে বাধ্য করে মুসলিম কিনা যাচাই করে। এরপর লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর, প্লায়ার্স দিয়ে আঙুল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চেপে ধরা হয়। এমনকি তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের চিৎকার শুনে পুলিশ খবর পায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরে নালন্দা জেলার বিহারশরিফ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
হুসাইন নালন্দা জেলার গগনদিহ গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ২০ বছর ধরে নবাদায় কাপড় ফেরি করে সংসার চালাতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি বলেছিলেন,
“আমিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাদের দেখাশোনা করার আর কেউ নেই।”
তার স্ত্রী শাবনাম পারভীন রোহ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, এটি ছিল পরিকল্পিত ইসলামবিদ্বেষমূলক হামলা। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিনই তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি আলাদা মামলা দিয়ে মূল অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সোনু কুমার, রঞ্জন কুমার, সচিন কুমার ও শ্রী কুমার নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ভারতের আইনে ‘লিঞ্চিং’ আলাদা কোনো অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত না হলেও গত এক দশকে মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের ওপর পরিচয় জিজ্ঞেস করে হামলার বহু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এই হত্যাকাণ্ড গ্রামীণ ভারতে একাকী কাজ করা মুসলিম শ্রমজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে হুসাইনের পরিবার। পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“সে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়েছিল। এখন আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”

আপনার মতামত লিখুন