পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোটার তালিকা মানেই উত্তেজনা। তবে এবার উত্তেজনার সঙ্গে যোগ হয়েছে চরম বাস্তবতা। নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল—রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি ভোটার নিয়ে প্রচলিত ‘ভূতের গল্প’ অনেকটাই ফাঁপা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই বিতর্ক বিজেপির জন্য স্বস্তির নয়।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে তথাকথিত ভুয়া বা ‘ঘোস্ট’ ভোটারের সংখ্যা ১,৮৩,৩২৮ জন। অথচ বিজেপি নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, রাজ্যে নাকি প্রায় এক কোটি (১০ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অবৈধ ভোটার রয়েছে, যারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করছে।
নির্বাচন কমিশন এক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। এতে মোট ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। তবে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব নাম বাদ যাওয়ার প্রধান কারণ—
মৃত্যু, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, একাধিকবার নাম থাকা, ফরম জমা না দেওয়া
অর্থাৎ, ‘ভুয়া ভোটার’ তত্ত্ব এখানে খুবই সামান্য অংশ।
এই তথ্য সামনে আসতেই ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভয় দেখানোর রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে। দলের মুখপাত্র কৃষ্ণানু মিত্র বলেন, মুসলিম-অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটার বাদ পড়ার হার মাত্র ০.৬ শতাংশ, যেখানে গোটা রাজ্যের গড় হার প্রায় ৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার বাদ পড়ার হার প্রায় ৯ শতাংশ, কিন্তু বিজেপি সে বিষয়ে নীরব।
এদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) তথ্য তুলে ধরে মিত্র প্রশ্ন তোলেন—যদি সীমান্ত দিয়ে মাত্র ৪ হাজার মানুষ বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে থাকে, তাহলে এই ‘লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী’ এল কোথা থেকে?
অন্যদিকে, বিজেপি এখনই চূড়ান্ত মন্তব্যে না গিয়ে অপেক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“এটা তো কেবল নাস্তা। দুপুর, বিকেল আর রাতের খাবার এখনও বাকি।”
তিনি জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই দল বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে—খসড়া তালিকার ওপর এখনো দাবি ও আপত্তি জানানো যাবে এবং সব যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে আপাতত তথ্য বলছে, ‘এক কোটি ভুয়া ভোটার’-এর গল্প বাস্তবতার পরীক্ষায় বেশ কাহিল।
বিষয় : ভারত পশ্চিমবঙ্গ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোটার তালিকা মানেই উত্তেজনা। তবে এবার উত্তেজনার সঙ্গে যোগ হয়েছে চরম বাস্তবতা। নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল—রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি ভোটার নিয়ে প্রচলিত ‘ভূতের গল্প’ অনেকটাই ফাঁপা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই বিতর্ক বিজেপির জন্য স্বস্তির নয়।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে তথাকথিত ভুয়া বা ‘ঘোস্ট’ ভোটারের সংখ্যা ১,৮৩,৩২৮ জন। অথচ বিজেপি নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, রাজ্যে নাকি প্রায় এক কোটি (১০ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অবৈধ ভোটার রয়েছে, যারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করছে।
নির্বাচন কমিশন এক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। এতে মোট ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। তবে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব নাম বাদ যাওয়ার প্রধান কারণ—
মৃত্যু, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, একাধিকবার নাম থাকা, ফরম জমা না দেওয়া
অর্থাৎ, ‘ভুয়া ভোটার’ তত্ত্ব এখানে খুবই সামান্য অংশ।
এই তথ্য সামনে আসতেই ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভয় দেখানোর রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে। দলের মুখপাত্র কৃষ্ণানু মিত্র বলেন, মুসলিম-অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটার বাদ পড়ার হার মাত্র ০.৬ শতাংশ, যেখানে গোটা রাজ্যের গড় হার প্রায় ৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার বাদ পড়ার হার প্রায় ৯ শতাংশ, কিন্তু বিজেপি সে বিষয়ে নীরব।
এদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) তথ্য তুলে ধরে মিত্র প্রশ্ন তোলেন—যদি সীমান্ত দিয়ে মাত্র ৪ হাজার মানুষ বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে থাকে, তাহলে এই ‘লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী’ এল কোথা থেকে?
অন্যদিকে, বিজেপি এখনই চূড়ান্ত মন্তব্যে না গিয়ে অপেক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“এটা তো কেবল নাস্তা। দুপুর, বিকেল আর রাতের খাবার এখনও বাকি।”
তিনি জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই দল বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে—খসড়া তালিকার ওপর এখনো দাবি ও আপত্তি জানানো যাবে এবং সব যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে আপাতত তথ্য বলছে, ‘এক কোটি ভুয়া ভোটার’-এর গল্প বাস্তবতার পরীক্ষায় বেশ কাহিল।

আপনার মতামত লিখুন