বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

জুলাই বিপ্লবের সাহসী মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ হাদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জনতার ভালোবাসায় শেষ বিদায়

লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। রাজনৈতিক বিভাজন ছাপিয়ে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক গণশ্রদ্ধায়। শোক, শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের আবহে বিদায় জানানো হয় এক তরুণ বিপ্লবীকে।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে জানাজাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১২টার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। উপস্থিতির ব্যাপকতায় এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জানাজায় পরিণত হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব প্রবেশপথে নেওয়া হয় নজিরবিহীন ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় র‍্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি।

ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজার মাঠে আনা হয়। শোক মিছিলজুড়ে ধ্বনিত হয় শহীদ হাদির প্রতি শ্রদ্ধা ও ন্যায়বিচারের দাবি।

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দাফনের আগে তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শহীদ হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দীর্ঘ চিকিৎসা ও লড়াই শেষে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শহীদ হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস, প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সেই বাস্তবতারই শক্ত প্রমাণ হয়ে রইল।

বিষয় : শরিফ ওসমান হাদি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা

প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। রাজনৈতিক বিভাজন ছাপিয়ে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক গণশ্রদ্ধায়। শোক, শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের আবহে বিদায় জানানো হয় এক তরুণ বিপ্লবীকে।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে জানাজাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১২টার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। উপস্থিতির ব্যাপকতায় এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জানাজায় পরিণত হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব প্রবেশপথে নেওয়া হয় নজিরবিহীন ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় র‍্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি।

ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজার মাঠে আনা হয়। শোক মিছিলজুড়ে ধ্বনিত হয় শহীদ হাদির প্রতি শ্রদ্ধা ও ন্যায়বিচারের দাবি।

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দাফনের আগে তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শহীদ হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দীর্ঘ চিকিৎসা ও লড়াই শেষে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শহীদ হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস, প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সেই বাস্তবতারই শক্ত প্রমাণ হয়ে রইল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত