বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বজরং দল ও ভিএইচপি-র ‘শৌর্য যাত্রা’কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তরাখণ্ড; মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ

ভারতের উত্তরাখণ্ডে মসজিদের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক স্লোগান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের উত্তরাখণ্ডে মসজিদের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক স্লোগান

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হালদ্বানী শহরে বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) আয়োজিত ‘শৌর্য যাত্রা’কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মিছিলটি স্থানীয় জামে মসজিদের নিকটবর্তী হলে অংশগ্রহণকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সোমবার হালদ্বানীতে আয়োজিত এই ‘শৌর্য যাত্রা’ বা বীরত্ব মিছিলটি মূলত ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে উদযাপন করতে আয়োজিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাপ্ত তথ্যমতে, মিছিলটি যখন মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক বক্তা মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। বক্তৃতায় মুসলিমদের নিয়ে নানা নেতিবাচক তকমা ব্যবহারের পাশাপাশি ভারতের জাতিভেদ প্রথার জন্যও তাদের দায়ী করা হয়।

উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা উগ্র স্লোগান দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিছিল লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং ‘অসামাজিক উপাদানে’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, দিল্লি, মুম্বাই বা আহমেদাবাদের মতো ভারতের বিভিন্ন শহরে ইদানীং এ ধরনের ধর্মীয় মিছিল থেকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার একটি ধরন তৈরি হয়েছে। প্রায়ই এসব মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন এবং ইসলামোফোবিক (ইসলামভীতিমূলক) স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। হালদ্বানীর এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ভারতের উত্তরাখণ্ডে মসজিদের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক স্লোগান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হালদ্বানী শহরে বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) আয়োজিত ‘শৌর্য যাত্রা’কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মিছিলটি স্থানীয় জামে মসজিদের নিকটবর্তী হলে অংশগ্রহণকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সোমবার হালদ্বানীতে আয়োজিত এই ‘শৌর্য যাত্রা’ বা বীরত্ব মিছিলটি মূলত ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে উদযাপন করতে আয়োজিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাপ্ত তথ্যমতে, মিছিলটি যখন মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক বক্তা মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। বক্তৃতায় মুসলিমদের নিয়ে নানা নেতিবাচক তকমা ব্যবহারের পাশাপাশি ভারতের জাতিভেদ প্রথার জন্যও তাদের দায়ী করা হয়।

উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা উগ্র স্লোগান দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিছিল লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং ‘অসামাজিক উপাদানে’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, দিল্লি, মুম্বাই বা আহমেদাবাদের মতো ভারতের বিভিন্ন শহরে ইদানীং এ ধরনের ধর্মীয় মিছিল থেকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার একটি ধরন তৈরি হয়েছে। প্রায়ই এসব মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন এবং ইসলামোফোবিক (ইসলামভীতিমূলক) স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। হালদ্বানীর এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত