পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের বর্তমান ও ঐতিহাসিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। করাচিতে এক বিশাল সমাবেশে তিনি সাফ জানিয়েছেন, গত ৭০ বছরে কোনো আফগান সরকারই পাকিস্তানের বন্ধু হতে পারেনি, যা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
করাচিতে ধর্মীয় আলেমদের এক সম্মেলনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, "জহির শাহ থেকে শুরু করে আশরাফ গনি পর্যন্ত—গত ৭৮ বছরে আফগানিস্তানে আমাদের কোনো বন্ধু সরকার ছিল না। এটা কি আমাদের নীতির ব্যর্থতা নয়?" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নিজেদের ভুল আড়াল করতে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে পাকিস্তানের এখন আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মতবিরোধ হলেই কাবুলে বোমা ফেলা চরম সীমা লঙ্ঘন। কাবুলে বোমা হামলা মানে ইসলামাবাদে বোমা হামলার সমতুল্য।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দুর্গম গ্রামে অভিযান চালানো হলেও তা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু সরাসরি রাজধানীতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মুফতি তাকি উসমানি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিরসনে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দুই মুসলিম ভাই রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের হুমকি বন্ধে আমাদের একটি অভিন্ন বার্তা প্রদান করতে হবে।" অপর এক আলেম মোহাম্মদ ইয়াসিন জাফর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে আলেম সমাজ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানায়। উত্তেজনা কমাতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই সমাবেশ থেকে।
বিষয় : পাকিস্তান আফগানিস্তান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের বর্তমান ও ঐতিহাসিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। করাচিতে এক বিশাল সমাবেশে তিনি সাফ জানিয়েছেন, গত ৭০ বছরে কোনো আফগান সরকারই পাকিস্তানের বন্ধু হতে পারেনি, যা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
করাচিতে ধর্মীয় আলেমদের এক সম্মেলনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, "জহির শাহ থেকে শুরু করে আশরাফ গনি পর্যন্ত—গত ৭৮ বছরে আফগানিস্তানে আমাদের কোনো বন্ধু সরকার ছিল না। এটা কি আমাদের নীতির ব্যর্থতা নয়?" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নিজেদের ভুল আড়াল করতে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে পাকিস্তানের এখন আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মতবিরোধ হলেই কাবুলে বোমা ফেলা চরম সীমা লঙ্ঘন। কাবুলে বোমা হামলা মানে ইসলামাবাদে বোমা হামলার সমতুল্য।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দুর্গম গ্রামে অভিযান চালানো হলেও তা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু সরাসরি রাজধানীতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মুফতি তাকি উসমানি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিরসনে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দুই মুসলিম ভাই রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের হুমকি বন্ধে আমাদের একটি অভিন্ন বার্তা প্রদান করতে হবে।" অপর এক আলেম মোহাম্মদ ইয়াসিন জাফর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে আলেম সমাজ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানায়। উত্তেজনা কমাতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই সমাবেশ থেকে।

আপনার মতামত লিখুন